kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

পর্দার রূপে বাস্তবে

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পর্দার রূপে বাস্তবে

বছর দুই আগে পর্দায় ঝাঁসির রানি হয়েছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত। কিন্তু হৃতিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, স্বজনপ্রীতি বিতর্ক সামনে আনা, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু-পরবর্তী পরিস্থিতি, সর্বশেষ শিবসেনার সঙ্গে ঝামেলা—একা হাতে অভিনেত্রী সব সামলে চলেছেন ঠিক ‘মণিকর্ণিকা’র মতোই। কঙ্গনার হালহকিকত লিখেছেন লতিফুল হক

 

‘ফ্যাশন’ করেছেন, এরপর করেছেন ‘তনু ওয়েডস মনু’ ও ‘কুইন’। তবে এসব প্রশংসিত সিনেমা করে যতটা পরিচিতি পেয়েছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত তার চেয়ে বেশি পান ২০১৬ সালে, হৃতিক রোশানের সঙ্গে বিতর্ক শুরুর পর। প্রেম-বিচ্ছেদ-প্রতারণার নানা অভিযোগ, ই-মেইল ফাঁস—সব মিলিয়ে পুরো মিডিয়া গরম রাখেন কঙ্গনা। সেই সময় অনেক তারকাই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অভিনেত্রীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কে জানত ‘কঙ্গনা-বিস্ফোরণ’-এর তখন শুধুই শুরু মাত্র।

 

স্বজনপ্রীতি বিতর্ক

২০১৭ সালে ‘কফি উইথ করণ’-এ হাজির হয়ে খোদ উপস্থাপক করণ জোহরের বিরুদ্ধেই কামান দাগান কঙ্গনা। পরিচালক করণকে ‘স্বজনপ্রীতির গডফাদার’ বলে ঝড় তোলেন। স্বজনপ্রীতি বিতর্কের সেই শুরু যা এখনো চলছে। সাহস করে মুখ খোলার জন্য বাহবা পেয়েছিলেন কঙ্গনা। বিশেষ করে বলিউডের অনেক ‘বহিরাগত’ শিল্পীর আদর্শে পরিণত হন। অনেক সমর্থক পেয়ে কঙ্গনা ঘোষণা দেন চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনার। ঘোষণা দেন, সারা দেশ থেকে নতুন নতুন প্রতিভা তুলে আনার।

 

সুশান্তের মৃত্যুর পর

স্বজনপ্রীতি বিতর্ক তোলার পর কয়েক বছর বলিউডের অনেক অভিনেত্রী-পরিচালকের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি কঙ্গনার। ১৪ জুন সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর পুরো পরিস্থিতি একেবারে বদলে যায়। তরুণ অভিনেতার মৃত্যুর জন্য সরাসরি ‘বলিউড মাফিয়া’ ও ‘স্বজনপ্রীতির কারণে বঞ্চনা’কে উল্লেখ করেন। ফের মানুষের দৃষ্টি চলে যায় অভিনেত্রীর দিকে। সুশান্তর মৃত্যু, কঙ্গনার বক্তব্য নিয়ে অন্তত হাজারখানেক ইউটিউব ভিডিও তৈরি হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোও সুশান্তের মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি কঙ্গনার বক্তব্য নিয়েও নিয়মিত খবর হতে থাকে। তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় বলিউডে। নাসিরুদ্দীন শাহ থেকে শুরু করে বড় অনেক তারকাই নাম উল্লেখ করে বা না করে কঙ্গনার সমালোচনা করেন। তবে অভিনেত্রী এসব থোড়াই কেয়ার করেন। নিজের বক্তব্য আরো জোরদার করতে চালু করেন অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টও। এর মধ্যে ঘটনার নতুন মোড় নেয় সুশান্ত মামলায় মাদক যোগ সামনে আসার পর। আগস্টে ‘রিপাবলিক টিভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা দাবি করেন ৯৯ শতাংশ বলিউড তারকাই মাদকাসক্ত! রণবীর সিং, রণবির কাপুর, ভিকি কৌশলদের ডোপ টেস্টের দাবিও তোলেন। এর মধ্যে একসময়ে কঙ্গনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচিত অনুরাগ কাশ্যপ অভিনেত্রীর কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে টুইট করেন, ‘এ কোন কঙ্গনা? তাঁর এই রূপ আমি চিনি না।’

 

প্রতিপক্ষ যখন শিবসেনা

সুশান্তর মৃত্যুর পর থেকে কঙ্গনার বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় উঠলেও বাস্তবে ভয় পাওয়ার মতো কিছু হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ দিকে যায় শিবসেনা আর মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে। ২০ আগস্ট কঙ্গনা বলেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। মুখ খুলে তিনি ক্যারিয়ারকেই অনিশ্চয়তায় ফেলেছেন। বিজেপি নেতা রাম কাদাম তাঁকে মুম্বাই পুলিশের পরামর্শ নিতে বলেন। উত্তরে মুম্বাই পুলিশকেও বলিউড মাফিয়ার অংশ বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা। ব্যস, আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন। প্রতিক্রিয়ায় শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, এত ভয় পেলে মুম্বাই ছেড়ে চলে যান। এর জবাবে কঙ্গনা মুম্বাইকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করলে বিতর্ক চরমে ওঠে। অনবরত খুনের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করার পর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর জন্য ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। তিনিই প্রথম বলিউড তারকা যিনি এ নিরাপত্তা পেলেন। এর মধ্যেই বেআইনি স্থাপনার অভিযোগ তুলে মুম্বাইয়ে কঙ্গনার অফিস ভাঙা শুরু করে মুম্বাই সিটি করপোরেশন। যদিও পরে আদালতের রায়ে সেটা স্থগিত হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে হাজির হন অভিনেত্রী। ক্রমাগত খুন ও ধর্ষণের হুমকি পেয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর ফের শহর ছাড়েন। এখনো কঙ্গনার পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেননি কোনো বলিউড তারকা।

 

তবে কি রাজনীতিতে?

নানা বিষয় নিয়ে ক্রমাগত বিতর্কে জড়ানো, সরকারি আনুকূল্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে অনেকেই বলছেন দ্রুতই রাজনীতিতে আসবেন অভিনেত্রী। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিতে তাঁর যোগ দেওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে অতীতে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎকারে রাজনীতিতে আসবেন না বলে জানিয়েছিলেন কঙ্গনা।

 

সিনেমার ভবিষ্যৎ

তাঁর হাতে এখন পাঁচটি ছবি। এগুলোর ভবিষ্যৎ কী, তা খোদ প্রযোজক-পরিচালকরাও বলতে পারছেন না। করোনা বিরতির পর বিদ্যা বালান, দীপিকা পাড়ুকোনরা শুটিং শুরু করলেও কঙ্গনা কবে ফিরবেন সেটাও নিশ্চিত নয়। এর মধ্যে কঙ্গনার মুম্বাই ছেড়ে যাওয়া বিষয়টিকে আরো অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা