kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

এই গান থেকে উপার্জন করতে চাইনি

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এই গান থেকে উপার্জন করতে চাইনি

‘ভেঙে পড়ো না এভাবে’ গানের ভিডিওর একটি দৃশ্য

২০১৬ সালে ছোট্ট শিশু শিফার শরীরে ধরা পড়ে লিউকেমিয়া। এ বছরের জানুয়ারিতে পৃথিবী ছেড়ে যায় মেয়েটি। তার মৃত্যুর নেপথ্যের গল্প নিয়ে প্রীতম হাসানের গান ‘ভেঙে পড়ো না এভাবে’ প্রকাশ পেয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। ব্যাপক প্রশংসিত এই গানটি তৈরির গল্প বলেছেন প্রীতম হাসান

 

‘ভেঙে পড়ো না এভাবে’, গল্পটা আনায়া খান শিফা ও সৌরভের। সৌরভ আমার পূর্বপরিচিত, আমার বন্ধুর বন্ধু। মিডিয়াতেও টুকটাক কাজ করে। একসঙ্গে আমরা ভিডিও গেমস খেলতাম। সেই সুবাদে ঘটনাটা আমাদের কাছের অনেক মানুষই জানে। গল্পটা শিফার ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই ও চলে যাওয়ার। শিফা আমার গানের ভক্ত ছিল। যখন সৌরভের সঙ্গে কথা বলতাম, অনেক সময়ই শুনতাম শিফা আমার গান গাইছে, একদম আমার মতো করে। আমি আছি টের পেলে আরো জোরে জোরে গাইত। ও আমার রক্তের কেউ না, কিন্তু ও যখন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় সেটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারিনি। এই গানের সুর অনেক আগেই তৈরি ছিল। কিন্তু কথা কী হবে জানতাম না। সৌরভের সঙ্গে যখন কথা হয় এবং তাদের পরিবারের লড়াইয়ের গল্প শুনি, মনে হলো কিছু একটা করি। গানের কথাগুলো সেই গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। পাঁচবার পুরো গান ভেঙে আবার লিখতে হয়েছে। শেষ দফায় আমরা গানের শব্দচয়নের ক্ষেত্রে প্রেরণা নিয়েছি কবি জসীমউদ্দীনের কবিতা ‘কবর’ থেকে। মিউজিক ভিডিওর জন্য কিছু অংশ আমাদের নিজেদের মতো করে লিখতে হয়েছে। আমি নিজে মিউজিক ভিডিওর জন্য পুরো গল্পটা লিখে ভিডিওর নির্দেশক ভাস্কর জনি ও এ কে পরাগ ভাইকে দিয়েছিলাম। তাঁরা সেটা দারুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।

শিফার পরিবার গানটি শুনেছে ও দেখেছে। বিশেষ করে ওর ভাই ভীষণ খুশি। সৌরভের জন্য এই গান অন্য রকম ব্যাপার। আমারও ভালো লেগেছে যে আমার ভক্তের জন্য কিছু করতে পেরেছি। শিফার লড়াইয়ের গল্পটা আগে হয়তো ১০০ জন জানত। এখন এই গানের মধ্য দিয়ে তাকে হাজার জন চিনবে, মনে রাখবে, তার জন্য দোয়া করবে। এটুকুতেই শিফার পরিবার আনন্দিত। তারা শুধু সবার কাছে শিফার জন্য দোয়া চায়। আমি সে ক্ষেত্রে সফল। এই গান থেকে আমি উপার্জন করতে চাইনি। ভিডিও করতে যত টাকা দরকার শুধু ততটুকুই নিয়েছি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গানচিল থেকে।

গান তৈরির পর গানচিলের প্রধান আসিফ ইকবাল ভাইকে শোনাই, তিনি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন, চোখ ভিজে গিয়েছিল। এমনকি গানের ভিডিও তৈরির সময় সম্পাদনার টেবিলে বসে আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। শিফার যে ভিডিওগুলো ওর ভাই সৌরভ আমাদের দিয়েছিল, সেগুলো যতবার দেখেছি, ততবার আমাদের পুরো টিম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। ভিডিও তৈরির কথা সৌরভকে জানিয়েই শুরু করেছিলাম। কিন্তু ওকে ভিডিওটা দেখিয়েছি সব কাজ শেষ হওয়ার পর। ভিডিও দেখে সৌরভের যে অভিব্যক্তি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

অনেকের কাছ থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই গানটি ফেসবুকে শেয়ার করায় তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখছি। এটা আমার জন্য এক বিশেষ প্রাপ্তি।

 

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা