kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

স্মৃতিকথা

এমন সুরস্রষ্টা আর পাব না

আমজাদ হোসেনের ছবিতে এই সুরকার-নায়িকা জুটির অনেক গান কালজয়ী। আলাউদ্দিন আলীকে হারিয়ে শোকাহত ফরিদা আক্তার ববিতা। তাঁর শোকসন্তপ্ত হৃদয়ের স্মৃতিচারণা শুনেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমন সুরস্রষ্টা আর পাব না

ডেইলি স্টারের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার হাতে আলাউদ্দিন আলী ও ববিতা

আমার প্রিয় মানুষগুলো একের পর এক না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছেন। দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছি। আমজাদ হোসেন ভাইয়ের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। এবার আলী ভাইও চলে গেলেন। আমজাদ ভাই, আলী ভাই, সাবিনা ইয়াসমিন আর আমি—আমাদের চারজনের এক হওয়া মানেই কালজয়ী গানের সৃষ্টি। কত কত স্মৃতি আমাদের! আলী ভাই সুর করতে বসার আগে আমার সঙ্গে কথা বলে নিতেন। মজা করে বলতেন, আমাকে ভেবে সুর করতে নাকি সুবিধা হয়।

কত দিন যে আমরা আড্ডা দিয়েছি তার হিসাব নেই। আমজাদ ভাইয়ের ছবি মানেই যেমন আমি, তেমনি আলী ভাইও থাকতেন। শুটিং শেষে প্রায়ই আমরা চলে যেতাম ডাবিং থিয়েটারে। আলী ভাই সেখানে থাকতেন। আমাকে দেখে মুচকি হাসতেন। খুব সহজ সরল ছিলেন। আমাকে খাওয়াতে খুব পছন্দ করতেন। আমি থাকব শুনলে ভাবির হাতের রান্না করা খাবার নিয়ে আসতেন। সেসব স্মৃতি বারবার চোখে ভেসে উঠছে। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। 

দীর্ঘদিন অসুখে ভুগেছেন। শুনেছি শেষ দিকে খুব একা বোধ করতেন। পুরনো সহকর্মীদের ফোন দিতেন একের পর এক। আমাকেও ফোন দিতেন মাঝেমধ্যে। পুরনো স্মৃতি আওড়াতেন। চোখের সামনে ভেসে উঠত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘কসাই’ কিংবা ‘নয়ন মণি’র কথা। ছলছল করত দুচোখ। আসলে আমরা যে দিন কাটিয়েছি, চলচ্চিত্রের এখনকার প্রজন্ম তা কল্পনাও করতে পারবে না। এমনও হয়েছে, আউটডোর শুটিং। আমজাদ ভাই জোর করে আলী ভাইকে নিয়ে গেছেন। শুটিং শেষ করে আমরা আড্ডায় বসতাম। আলী ভাই হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান শোনাতেন।

একটা কথা না বললেই নয়, আলী ভাই তখন ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ গানের সুর করেছেন। একদিন আমাকে শোনালেন। জানালেন, জাফর ইকবালকে দিয়ে গানটি গাওয়াবেন। আমি তো অবাক! তখন আমাকে আর জাফর ইকবালকে নিয়ে বাজারে গসিপ। আমার বিরহে নাকি জাফর ইকবাল নাওয়া-খাওয়াও বাদ দিয়েছে। এ সময় তাঁকে দিয়ে এমন গান গাওয়ালে গুজবের পালে বাতাস দেওয়া হবে। আমি বললাম, আলী ভাই এটা করবেন না। আমি মানুষের কাছে ছোট হয়ে যাব। সবাই মনে করবে সত্যিই আমি জাফর ইকবালকে ছেঁকা দিয়েছি। আলী ভাই হাসলেন। বললেন, জাফর ইকবালও নাকি একই কথা বলেছিল গানটা শুনে। পরে বুঝিয়ে রাজি করিয়েছেন গাওয়ানোর জন্য। পরের ইতিহাস সবার জানা। ‘নন্দিনী’ সুপারহিট। আলী ভাই আমার জন্য অনেক কালজয়ী গান করেছেন। তবে ‘আমি আছি থাকব’ ও ‘হায়রে কপাল মন্দ’ গান দুটি বেশির ভাগ সময় আমি গুনগুন করে গাই। আলী ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল বছর দুই আগে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। আমি আর আলী ভাই আজীবন সম্মাননা পেয়েছিলাম। সেদিন অনেকক্ষণ দুজন আড্ডা দিয়েছিলাম। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে শক্ত মনে হয়েছিল। ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যখন শুনলাম তিনি আর আমাদের মাঝে নেই, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এমন সুরস্রষ্টা আমরা আর পাব না। তাঁর জন্য দোয়া করি। ওপারে নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন সুরের সম্রাট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা