kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

স্মরণ

মন ভালো করা মানুষ ছিলেন

করোনার সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেলেন টিভি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘ঢাকায় থাকি’, ‘কোথাও কেউ নেই’-এর মতো কালজয়ী নাটকের প্রযোজক তিনি। তাঁকে স্মরণ করেছেন অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মন ভালো করা মানুষ ছিলেন

শুটিংয়ে বাকের ভাইরূপী আসাদুজ্জামান নূরকে দৃশ্য বোঝাচ্ছেন মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ

৩ আগস্ট বরকত উল্লাহ ভাই চলে গেলেন। এর দুই দিন আগে থেকে শুনছিলাম তাঁর স্ত্রী জিনাত অসুস্থ। তাঁকে নিয়েই চিন্তাটা ছিল বেশি। এর মধ্যেই হঠাৎ শুনি বরকত উল্লাহ ভাই নেই। খবরটা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম। বিটিভিতেই আমাদের পরিচয়। উনি মূলত নাচ-গানের মানুষ। দেশের প্রতিথযশা নৃত্যশিল্পী ছিলেন। ওইভাবেই জিনাতের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। দুজনই খুব উঁচু মাপের শিল্পী। বরকত উল্লাহ ভাই নানা ধরনের অনুষ্ঠান করেছেন বিটিভিতে। আমাদের পরিচয়টা গভীর হয় যখন ‘কোথাও কেউ নেই’ করি। নাটকটার প্রযোজক ছিলেন উনি। নানাভাবে আমাকে গাইড করেছেন। হুুমায়ূন আহমেদ তো লেখক হিসেবে ছিলেনই। ‘কোথাও কেউ নেই’-এর এত এত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে অবশ্যই বড় দাবিদার বরকত উল্লাহ ভাই। সব সময় খুব হাসিমুখে কথা বলতেন। দারুণ রসবোধ ছিল। প্রতিটি কথাই রসিকতা করে বলতে ভালোবাসতেন। মন ভালো করা মানুষ ছিলেন। বছরখানেক আগে দেশ টেলিভিশনে ‘বেলা অবেলা সারাবেলা’ নামের যে অনুষ্ঠানটি করি সেখানে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানটা নিয়মিত দেখতেন উনি। একটা পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। উনি বলেন, তুমি তো এখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব গুণীজনকে ডাক। আমাকে কেন টানাটানি করছ, আমি কে? আমি তখন এই নিয়ে উনার সঙ্গে মজা করলাম। বললাম, এই যে আপনি নিজে স্বীকার করতে চান না আপনি গুণীজন, এ জন্যই তো আপনি গুণীজন। আমি কোনো গুণীজনকে দেখিনি নিজেকে গুণীজন বলতে। আপনি আমাদের বিচারে গুণীজন তো বটেই, কিংবদন্তি একজন মানুষ। বিটিভির স্বর্ণযুগ যেটাকে আমরা বলি, সেই সময় যাঁদের সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল তাঁদের মধ্যে আপনি একজন। সুতরাং ইতিহাসের প্রয়োজনে আপনি এই অনুষ্ঠানে আসতেই পারেন। অনেক বোঝানোর পর আর না করতে পারলেন না। ওটাই আমাদের শেষ দেখা। তবে এরপর ফোনে অনেক কথা হতো আমাদের। মাঝে একটি প্রাইভেট টেলিভিশনে যোগ দিয়েছিলেন। উনার সঙ্গে চিন্তাভাবনায় মেলেনি তাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেটা নিয়েও কথা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, প্রাইভেট টেলিভিশনে আমার পোষাবে না। আমরা সেই বিটিভি আমলের মানুষ, আমরা একভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত। পুরনো দিনের অনেক স্মৃতি নিয়ে কথা হতো। এ সময় শিল্পচর্চা কিভাবে হচ্ছে সেসব নিয়ে দুজন দুজনার ভাবনা শেয়ার করতাম।

উনি ছিলেন খুব গোছাল মানুষ। আগেই নাটকের স্ক্রিপ্ট রেডি করে রাখতেন। সবার কাছে পাঠাতেন। শুধু বিশেষ চরিত্র নয়, ছোট ছোট চরিত্রগুলোকেও অনেক গুরুত্ব দিতেন। বলতেন, মূল চরিত্ররা তো বাজিমাত করবেই, ছোট চরিত্রগুলো কত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি সেটাই চ্যালেঞ্জ। ছোটখাটো ভুলও উনার চোখ এড়াত না।

উনার দুই মেয়ে—বিজরী ও কাজরী। বিজরীও একসময় নাচে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল। কাজরী মিডিয়াতে নেই। ও এখন ঠিক কী করছে জানি না। বিজরীর সঙ্গে আমার কথা হয়। জিনাতের সঙ্গেও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হতো। উনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। বরকত উল্লাহ ভাইকে হারালাম, জিনাতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা