kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

আলোচিত ৩ ইউরোপীয় সিরিজ

মূলত ভাষার কারণেই ইংরেজির বাইরে অন্য ইউরোপীয় সিরিজগুলো বাংলাদেশে কম আলোচনায় আসে। তবে এখন নিয়মিত বাংলা সাবটাইটেল তৈরি হওয়ায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে আড়ালে থাকা সিরিজগুলো। বেলজিয়াম, নরওয়ে ও জার্মানি-অস্ট্রিয়ার তিন সিরিজ দ্য দাগ, উইস্টিং ও ডার পাস নিয়ে লিখেছেন মামুনুর রশিদ

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলোচিত ৩ ইউরোপীয় সিরিজ

ডার পাস

দ্য দাগ

‘দ্য দাগ’ বা ‘দ্য ডে’ ১২ পর্বের বেলজিয়ান সিরিজ। এখন পর্যন্ত একটা সিজনই মুক্তি পেয়েছে। একটা দিনের গল্প নিয়ে এই সিরিজ। গল্প বলা হয়েছে দুই ভাগে—‘আউটসাইড’ ও ‘ইনসাইড’। ব্যাংকে একদল ডাকাত ও তাদের জিম্মিকে ঘিরে স্পেশাল ফোর্স ও মধ্যস্থতাকারী পুলিশকে ঘিরে ঘটনা। ‘আউটসাইড’ পর্বে পুলিশ আর স্পেশাল ফোর্সের দৃষ্টিকোণ ধরে এগোয় গল্প। অপরাধী ও জিম্মিদের গল্প বলা হয় ‘ইনসাইড’ পর্বগুলোতে। দুটি পর্ব লিখেছেনও আলাদা দুজন। ‘আউটসাইড’ পর্বগুলো জোনাস গেইনার্ট ও ‘ইনসাইড’ জুলি মাহেইউ। দুজনই সিরিজটিকে বাস্তবসম্মত করতে সত্যিকারের মধ্যস্থতাকারী এবং জিম্মিদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।

অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন একজন সত্যিকারের ফেডারেল এজেন্ট। ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে অন্যতম সেরা সিরিজটি ৯০টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। সপ্তাহ দুই আগেই এটির বাংলা সাবটাইটেল মুক্তি পেয়েছে। সিরিজের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোফি ডিক্লিয়ার। 

 

উইস্টিং

নরওয়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিভি সিরিজ এটি। ১০ পর্বের এই থ্রিলার সিরিজ দুটি উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত—‘দ্য কেইভম্যান’ ও ‘হান্টিং ডগস’। প্রধান চরিত্র গোয়েন্দা কর্মকতা উইলিয়াম উইস্টিং। শুরুতেই তিনি বরফে আচ্ছাদিত একটি লাশ খুঁজে পান। লাশের গায়ে খুনির আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, ২০ বছর আগে পলাতক এক আমেরিকান সিরিয়াল কিলারের সঙ্গে ছাপ মিলে যায়। উইস্টিং তদন্তে নামেন। সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজির হন দুই এফবিআই অফিসার। ওদিকে উইস্টিংয়ের মেয়ে, যে কিনা একজন সাংবাদিক, সে তার প্রতিবেশীর মৃত্যু নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখতে অনুসন্ধান শুরু করে। কাকতালীয়ভাবে ওই মৃত্যু জুড়ে যায় উইস্টিংয়ের তদন্তের সঙ্গে। খুনির লক্ষ্য বনে যায় উইস্টিংয়ের মেয়ে। ওদিকে আগের এক তদন্তে অবহেলার খবর প্রকাশিত হয় প্রভাবশালী এক দৈনিকে। ঘটনার জেরে সাময়িক বরখাস্ত হন উইস্টিং। সব কিছুই জোড়া লাগতে থাকে ধীরে ধীরে। ১০ পর্বের প্রথম পাঁচটি উইস্টিংয়ের তদন্ত নিয়ে, পরের পাঁচটি তার আত্মরক্ষার সংগ্রাম নিয়ে। উইস্টিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন সেভেন নরডিন। মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে সিরিজটি। নরওয়েতে মুক্তির পর এটি প্রচার করছে বিবিসিও। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এটিকে এই ঘরানার ‘সেরা নরডিক’ সিরিজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কিছুদিন আগে ‘উইস্টিং’-এরও বাংলা সাবটাইটেল মুক্তি পেয়েছে।

 

ডার পাস

এই জার্মান-অস্ট্রিয়ান সিরিজটি বিদেশি ভাষার সিরিজের মধ্যে হালে সবচেয়ে জনপ্রিয় বললেও ভুল হবে না। জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে গেল মাসেই ‘ডার পাস’-এর বাংলা সাবটাইটেল মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এই সিরিজটির প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সুইডেন-ডেনমার্কের যৌথ প্রযোজনার বিখ্যাত সিরিজ ‘দ্য ব্রিজ’। জার্মান আর অস্ট্রিয়া সীমান্তে হঠাৎই বরফে ঢাকা একটি লাশ পাওয়া যায়। লাশটির মাথা আর পা পড়েছে দুই দেশে। একেবারে প্রান্তসীমায় থাকায় কোনো দেশই আলাদাভাবে লাশটি দাবি করতে পারছে না। তাই দুই দেশ থেকে দুই গোয়েন্দা খুনের তদন্তে নামে। জানা যায় এটা সিরিয়াল কিলারের কাজ। হন্যে হয়ে দুই গোয়েন্দা খুঁজতে থাকে খুনিকে। এর মধ্যে আরো লাশ পাওয়া যায়।

আট পর্বের সিরিজটি লিখতে ‘ডার পাস’-এর সৃজনশীল দল সিরিয়াল কিলিং নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছে। পুলিশ সূত্রে পাওয়া সিরিয়াল কিলারদের এক শরও বেশি সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করেছে, সংগ্রহ করেছে নানা তথ্য। এমনকি খুনির চরিত্রটি দাঁড় করাতে জার্মানের অন্যতম এক শীর্ষ অপরাধীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জোগাড় করেছে।

সিরিজের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিকোলাস অফজারেক ও জুলিয়া জেন্টসক।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা