kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

তারকার সংগ্রহশালা

আমার কাছে ঐতিহাসিক একটা জিনিস আছে

শখের জিনিসটা সংগ্রহে রাখেন অনেকেই। মডেল-অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া বলেছেন তাঁর সংগ্রহশালার কথা

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার কাছে ঐতিহাসিক একটা জিনিস আছে

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, ছবি : নূর-এ আলম নূর

আমার কাছে ছোট ছোট জিনিসের গুরুত্ব অনেক বেশি। ভালো লাগার হলে সেটা যত ক্ষুদ্রই হোক আজীবন নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করি। আমার সংগ্রহে নামিদামি ব্র্যান্ডের অনেক জুতা, ব্যাগ, পারফিউম আছে। টাকা হলে এগুলো যেকোনো মানুষই সংগ্রহ করতে পারে। কিছু জিনিস আছে যেটা একান্তই ব্যক্তিগত। অন্যের কাছে হয়তো এগুলোর গুরুত্ব খুব একটা নেই। কিন্তু আমার কাছে সেগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই বলব আমার একটা বিড়াল গ্রাম্পির কথা। আমি পশুপাখি অপছন্দ করতাম তা নয়, কিন্তু পোষা প্রাণীকে এত ভালোবাসা যায় সেটা জানতাম না। ছোটবেলায় বিড়াল বা এ জাতীয় গৃহপালিত পশুপাখি দেখলেও প্রচণ্ড ভয় পেতাম। দুই বছর আগ পর্যন্তও ভয়টা ছিল। গ্রাম্পিকে পাই গুলশান ক্লাবে, সেদিনই বাসায় নিয়ে আসি। মানুষ নিজের বাচ্চাকে যতখানি ভালোবাসে, গ্রাম্পিকে ঠিক ততখানিই ভালোবাসি। যারা ‘এনিম্যাল লাভার’ তারা এটা বুঝতে পারবে।

আমার বিয়ে হয়েছে ছয় বছরের বেশি সময় হলো। আমার বাসার একটা পাপোশ থেকে শুরু করে গাছ কিংবা বাসার সবচেয়ে দামি আসবাব, সবই নিজের হাতে কেনা। প্রতিটির সঙ্গেই কিছু না কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এসব ফেলে দিতে খুব কষ্ট হয়।

আমার এসএসসি থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে পড়াকালীন লয়ের বই, বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দেওয়ার যত বই-খাতা, যত নোট করেছি—সবই সংগ্রহে রেখেছি। এমনটি সবাই করে বলে আমার মনে হয় না। বাসার একটি রুম বলতে গেলে এসব বই-খাতা দিয়েই ভর্তি।

বারান্দায় বেশ কিছু গাছ আছে। একটি বনসাই। ত্রিশ বছরের পুরনো গাছটি। এটি আমার বন্ধু গিফট করেছে। খুব যত্ন নিই গাছটির। একটি পিয়ানো আছে। এটি অনেক স্পেশাল আমার কাছে। ছোটবেলায় রবীন্দ্রসংগীত শিখতাম। তখন হারমোনিয়াম ছিল। হারমোনিয়ামটি এখন আমার আম্মার স্কুলে আছে। এখন পিয়ানোতে আমার অনেক সময় কাটে। এমন না যে আমি মিউজিশিয়ান হতে চাই। পুরনো দিনের গানের ভীষণ ফ্যান আমি। গানগুলো যখন পিয়ানোতে তুলি তখন বেশ ভালো লাগে। ইয়ামাহার শুভেচ্ছাদূত আমি। ইয়ামাহা যখন ওদের মিউজিক লঞ্চ করল তখনই বলেছিলাম, আমি কিন্তু ইয়ামাহার পিয়ানো নেব। এখনো শিখছি, বিভিন্ন গান তোলার চেষ্টা করছি।

পত্রিকায় আমার যত ইন্টারভিউ হয়েছে, আমার যেগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো সংগ্রহে রেখেছি। আর প্রথম ছাপানো ছবি ও ইন্টারভিউ তো পুরো বাঁধিয়ে রেখেছি। গত কয়েক বছর ধরে এত এত ইন্টারভিউ আসে, এখন আর সব সংগ্রহে রাখা হয় না। তবু চেষ্টা করি একটি-দুটি ভালো লাগার ইন্টারভিউ সংগ্রহে রাখার। এই ফিচারের আইডিয়াটা আমার ভালো লেগেছে। ছাপা হলে এটাও ফাইলে রাখব। 

আমার পোর্টফোলিওতে অনেক পছন্দের ছবি আছে—শাড়ি পরা ছবি, বিকিনি পরা ছবি, ফ্যাশন হাউসের, র‌্যাম্পের। আমার ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনিদের যেন এসব ছবি দেখাতে পারি, সে জন্যই যত্ন করে রাখা। হয়তো ওরা ইন্টারনেটে দেখতে পাবে সব। তবু আমি জমিয়ে রেখেছি তাদের জন্য। আমি নিজে যেন ওদের এসব দেখাতে পারি। জীবনের সিঁড়িগুলোর প্রতিটি ধাপ ওদের দেখাতে চাই। ফারুক হাসান সামীরের [পিয়ার স্বামী] সঙ্গে যখন প্রেম করতাম, তখন ও কার্ড গিফট করত, অনেক ছোট ছোট জিনিস গিফট করত। সেগুলোতে ও আবার কিছু না কিছু লিখে দিত। প্রত্যেকটা জিনিস যত্ন করে রেখে দিয়েছি। ও নিজেই অবাক হয়ে বলে, ‘এগুলো এখনো আছে তোমার কাছে!’

প্রায় সব মেয়ের মতো আমারও সোনার প্রতি আকর্ষণ। ছোটবেলা থেকেই টাকা জমিয়ে সোনার নানা জিনিস কিনতাম। এটা আম্মা আমাকে শিখিয়েছেন। প্রথম সোনার যে কানের দুলটি কিনেছি, সেটাও আমার সংগ্রহে আছে। এই দুলটি আমার আকেদ পরেছিলাম।

আমার কাছে ঐতিহাসিক একটি জিনিস আছে। যেটি শুধু আমার নয়, বাঙালি জাতির জন্যই অনেক স্পেশাল। পঞ্চাশ বছর আগেকার (১৯৭১ সালের ২৯ ডিসেম্বর) পত্রিকার একটি পাতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনো পাকিস্তান কারাগারে। তাঁকে মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতার পরও আন্দোলন-সংগ্রাম চলছিল। বাংলাদেশের মানচিত্র, ফিদেল কাস্ত্রোর ছবি ওই পেপারে আছে। এটির মূল্যও অনেক। এক বন্ধু আমাকে ওটা দিয়েছিল। দেওয়ার সময় বলেছিল, ‘এমন কাউকে দিতে চেয়েছিলাম যে এটির মূল্য বুঝবে।’ আমিও বেশ যত্ন করে রেখেছি। এমনকি লেমিনেটিংও করিনি, যেন এর আসল আমেজ নষ্ট না হয়ে যায়। একটি বড় খামে খুব যত্ন করে রেখেছি।

 

 

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা