kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

করোনাজয়ের গল্প

করোনা মহামারির কবলে সারা বিশ্ব। আক্রান্ত হয়েছেন শোবিজের অনেকেই। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন হয়েছেন কভিড-১৯ পজিটিভ। এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে তাঁদের জয়ী হওয়ার গল্প লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাজয়ের গল্প

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর অন্য সব সেক্টরের মতো স্থবির হয়ে যায় মঞ্চ, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গন। ১৮ মার্চ বন্ধ হয় চলচ্চিত্রের শুটিং, ২২ মার্চ বন্ধ হয় নাটকের শুটিং। শিল্পী-কলাকুশলীরা চলে যান স্বেচ্ছাবন্দিত্বে। তবু রেহাই পাননি অনেকে। ঢাকাই শোবিজে প্রথম করোনা আক্রান্ত হন এক নাট্যনির্মাতা। দুর্যোগের প্রথম দিকে খবরটি নিশ্চিত করেন নাট্যনির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহ্উদ্দীন লাভলু। তবে আক্রান্ত নির্মাতার নাম প্রকাশ করেননি। পরে জানিয়েছেন, ওই নির্মাতা বাসায় চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

৩০ মে কভিড-১৯ পজিটিভ হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা সুজেয় শ্যাম। আক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি বাসায়ই থাকতেন। ২৬ মে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিনই নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করার পর বাসায় ফিরে যান। ৩০ মে ফল পজিটিভ জানার পর একই হাসপাতালে আবার ভর্তি করা হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সংগীত পরিচালককে। করোনার সঙ্গে ১১ দিনের লড়াই শেষে ৯ জুন কলাবাগানের বাসায় ফিরেছেন ৭৪ বছর বয়সী এ সুরকার। তাঁর ভাষ্য, তিনি এখন এতটাই সুস্থ যে কিছুদিনের মধ্যে গানেও ফিরতে পারবেন।

বলেন, ‘করোনাকে জয় করার জন্য দরকার প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস। এর তো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। হাসপাতালে দেখেছি কত রোগী ভালো হয়ে বাসায় চলে যাচ্ছে, তখন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আবার অনেকে সামান্য কিছু উপসর্গ নিয়ে এসেও বাঁচতে পারেনি, তখন মনটা ভেঙে গেছে। আমার মেয়ে রূপমঞ্জুরী শ্যাম আমার সঙ্গেই ছিল। কোনো ভয়ডর ছাড়াই ও আমার সেবা করেছে। কিন্তু ও করোনা নেগেটিভ ছিল। আমার জামাইও সার্বক্ষণিক ছিল। ওখানকার চিকিৎসকরা বলেছেন, এমন মেয়ে থাকলে রোগী তো করোনা জয় করবেই। আর চিকিৎসকদেরও আমি যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি।’

৬ জুন করোনা পজিটিভ হয়েছেন টিভি উপস্থাপক ফেরদৌস বাপ্পী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন রাত ৩টায় তাঁকে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্টে ভোগায় দিতে হয় অক্সিজেন। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষেও নিতে হয়। তাঁর করোনামুক্তি মিলেছে প্লাজমা থেরাপি দিয়ে। স্ত্রী জেরিন আক্তার ও বোন ঝুমুর তাঁর পাশে ছিলেন সার্বক্ষণিক। ছিলেন তাঁর বন্ধুরাও। অবশেষে তিনি করোনা থেকে মুক্তি পান। তবে করোনার ধকল এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বাড়িতেই বিশ্রামে আছেন।

শরীরে নানা রোগ, এর পরও সৃষ্টিকর্তার কৃপা, সঠিক চিকিৎসা এবং মনোবল শক্ত থাকায় করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছেন প্রবীর মিত্র

জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে করোনা পরীক্ষা করান বরেণ্য সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।  ১৫ জুন জানতে পারেন তিনি করোনা পজিটিভ। একেবারেই ঘাবড়ে যাননি। এ অবস্থায়ও তিনি নতুন গান তুলেছেন, রেওয়াজ করেছেন, অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়েছেন। এসব করেছেন মনের জোর বাড়ানোর জন্য। দুজন চিকিৎসক ফোনে তাঁর তদারকি করেছেন, বাসায় তাঁকে দেখভাল করেছেন ছোট বোন।

বন্যা বলেন, ‘শুরুর দিকে বেশ ভালোই ছিলাম, সেরেও উঠছিলাম দ্রুত। আমার শ্বাসকষ্ট হয়নি, গলা ব্যথাও ছিল না, অক্সিজেন স্যাচুরেশনটা একটু কমে গিয়েছিল। সেদিকে লক্ষ রাখতে হয়েছিল। আমাকে আসলে সাহস জুগিয়েছে গান। যখনই গানের চর্চা করেছি, ভালো অনুভব করেছি। করোনার তো কোনো ওষুধ নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই চলেছি।’

হাড়ক্ষয়সহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক বছর ধরেই চার দেয়ালে বন্দি ৭৯ বছর বয়সী অভিনেতা প্রবীর মিত্র। এর মধ্যেই ২২ জুন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তবে মিডিয়ায় খবরটা তখনই জানাননি। জানিয়েছেন ১৪ দিন পর, করোনামুক্ত হয়ে। পান্থপথের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একবার অক্সিজেনও দিতে হয়েছে তাঁকে। ৭ জুলাই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন, এখন তিনি বাসায়ই আছেন। বড় ছেলে মিঠুন মিত্র ও পুত্রবধূ সোনিয়া ইয়াসমিন অভিনেতার সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন। প্রবীর মিত্র বলেন, ‘শরীরে নানান রোগ, তার পরও সৃষ্টিকর্তার কৃপা, সঠিক চিকিৎসা ও মনোবল শক্ত থাকায় করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছি।’

করোনায় ভুগেছেন গানবাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সংগীতশিল্পী কৌশিক হোসেন তাপস ও টেলিভিশনটির চেয়ারপারসন ফারজানা মুন্নী। দুজনই এখন সুস্থ। তাপস বলেন, ‘২৮ জুন আইইডিসিআরের পরীক্ষায় ও ২৯ জুন বেসরকারি একটি পরীক্ষার ফলাফলে আমরা করোনামুক্ত বলে নিশ্চিত হই। পারিবারিক সমর্থন, সহযোগিতা আর ইতিবাচক পরিবেশই আমাদের দ্রুত করোনামুক্ত হতে সাহায্য করেছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা