kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

এই সময়ের ৭

প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ সারা দুনিয়ার প্রেক্ষাগৃহ। কিন্তু স্ট্রিমিং সাইটগুলোর কল্যাণে থেমে নেই সিনেমা মুক্তি। সম্প্রতি হলিউড ও বলিউডের আলোচিত সাত চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক ও হাসনাইন মাহমুদ

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এই সময়ের ৭

দা ফাইভ ব্লাডস

দা ফাইভ ব্লাডস

সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সুনাম রয়েছে স্পাইক লির। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর সিনেমা ‘ব্ল্যাকক্ল্যান্সম্যান’-এর সাফল্যের পর পরিচালক ফিরেছেন নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে তাঁর সিনেমা ‘দা ফাইভ ব্লাডস’-এর গল্প একদল সাবেক সেনাকে ঘিরে। যারা যুদ্ধ শেষে আবারও ফিরে যায় ভিয়েতনামে, তাদের নিহত দলপতির দেহাবশেষ ও গুপ্তধনের সন্ধানে। যুদ্ধের সময় দলপতির সাহায্যেই তারা গুপ্তধন লুকিয়েছিল। চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে দেখে যাবে ডেলরয় লিন্ডো, জোনাথন মেজরস, ক্লার্ক পিটারস, চ্যাডউইক বসম্যানের মতো তারকাদের। শুরুতে চলচ্চিত্রটি পরিচালনার কথা ছিল কিংবদন্তিতুল্য চিত্রপরিচালক অলিভার স্টোনের। পরে সেটি হয়নি। এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পর্দা ওঠার কথা থাকলেও করোনা বদলে দেয় দৃশ্যপট। বড় পর্দায় মুক্তির পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নির্মাতাদের তাই বেছে নিতে হয় নেটফ্লিক্সকেই। ১২ জুন মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে চলচ্চিত্রটি। বিশেষ করে পল চরিত্রে ডেলরয় লিনডোর অনবদ্য অভিনয় ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

ওয়াসপ নেটওয়ার্ক

ওয়াসপ নেটওয়ার্ক

ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক-লেখক ফার্নান্দো মোরাইসের নন্দিত উপন্যাস ‘দ্য লাস্ট সোলজার অব দ্য কোল্ড ওয়ার’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাপট শীতলযুদ্ধ। শীতলযুদ্ধের সমাপ্তির সময় বেশ কয়েকজন কিউবান গুপ্তচরের গল্প নিয়েই সিনেমা। খুন ও গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে নব্বইয়ের দশকের শেষে আমেরিকায় পাঁচ কিউবান গুপ্তচর আটক হয়। এই বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ফরাসি পরিচালক অলিভিয়ের অ্যাসায়াস। রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার এই চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিখ্যাত স্প্যানিশ অভিনেত্রী পেনেলোপি ক্রুজ ও গোল্ডেন গ্লোবজয়ী অভিনেতা এডগার রামিরেজ। এ ছাড়া আরো দেখা যাবে বাফটাজয়ী অভিনেতা গায়েল গার্সিয়া বার্নাল এবং ‘নাইভস আউট’খ্যাত অভিনেত্রী অ্যানা ডে আরমাসকেও। ২০১৯ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রটি ১৯ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়।

 

দ্য ওল্ড গার্ড

কমিক বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা সুপারহিরোদের জয়জয়কার এখন সর্বত্র। তবে  ডিসি-মার্ভেলের বাইরে অন্যান্য কমিকস অবলম্বনেও নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। আগামীকাল ১০ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাচ্ছে ইমেজ কমিকসের জনপ্রিয় সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য ওল্ড গার্ড’। মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে শার্লিজ থেরনকে। কাহিনি গড়ে উঠেছে একদল অমর ভাড়াটে যোদ্ধাকে কেন্দ্র করে। যেকোনো আঘাত থেকে দ্রুত সেরে ওঠার অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী এই দলটি হুট করেই আরেকজন অমরত্বের অধিকারী সত্তার উপস্থিতি আবিষ্কার করে। পাশাপাশি তাদের যুদ্ধে নামতে হয় নতুন শত্রুর বিরুদ্ধেও, যাদের লক্ষ্য অমরত্বের রহস্য ফাঁস করা। জিনা প্রিন্স-ব্রাইথউডের চলচ্চিত্রটিতে থেরন ছাড়া আরো দেখা যাবে কিকি লেইন, মারওয়ান কেনজারি ও চিওয়েতেল এজিওফোরদের।

 

হ্যামিলটন

গত দশকের ব্রডওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক ‘হ্যামিলটন’। মিউজিক্যাল ড্রামাধর্মী নাটকটি আমেরিকানদের মধ্যে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে প্রতিটি প্রদর্শনীর টিকিট বিক্রি শুরু হতো প্রায় দুই মাস আগে; যা আধঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। এবার ডিজনি প্লাস দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছে নাটকটির চলচ্চিত্ররূপ। ৩ জুলাই দর্শকের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। এতে অভিনয় করেছেন ব্রডওয়ের ‘হ্যামিলটন’ চরিত্রে রূপদানকারী লিন-ম্যানুয়েল মিরান্দা। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে মঞ্চ নাটকের অনুকরণে। গল্প আমেরিকার স্বাধীনতার অন্যতম রূপকার আলেকজান্ডার হ্যামিলটনের জীবন অবলম্বনে।

 

চমন বাহার

ছোট শহরের প্রেক্ষাপটে চেনা গল্প। মূল চরিত্র প্রেম কুমার যাদব। ছত্তিশগড়ের যুবক প্রেম কুমার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পানের দোকান খোলে। দোকানে বসে দেখে রাস্তার মানুষের আসা-যাওয়া। ভালোই চলছিল সব, মুশকিল হয় স্থানীয় তরুণী রিংকুর প্রেমে পড়ার পর। তারপর কী হয় সেটা নিয়ে গল্প। ১৯ জুন নেটফ্লিক্সে আসার পর থেকেই দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পাচ্ছে ছবিটি। অপূর্ব ধর বাদগাইয়া পরিচালিত সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিতেন্দ্র কুমার, যিনি ‘কোটা ফ্যাক্টরি’ সিরিজের কল্যাণে ‘জীতু ভাইয়া’ নামে খ্যাত। কয়েক বছর ধরে ছোট বাজেটের ওয়েব সিরিজে ‘পাশের বাড়ির ছেলে’ টাইপ চরিত্র করে দারুণ জনপ্রিয় জিতেন্দ্র। কিছুদিন আগে অ্যামাজন প্রাইমে প্রচারিত আরেকটি সিরিজ ‘পঞ্চায়েত’-এও প্রশংসিত হন জিতেন্দ্র। সমালোচকরা ছবিটির গল্প বলার ভঙ্গি আর জিতেন্দ্রর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

আখোনি

চেরাহাগত ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতাসহ নানা কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে বৈষ্যমের শিকার হন। দিল্লির মতো বড় শহরে সেটা হয় আরো বেশি। এ রকম বক্তব্য নিয়েই ছবি ‘আখোনি’। এই ‘আখোনি’ এক ধরনের খাবারের নাম। শূকরের মাংস দিয়ে রান্না হয়। যেকোনো উৎসবে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রধান খাদ্য এটি। ছবির গল্প দিল্লিতে থাকা উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকজন তরুণীকে নিয়ে। যারা এক বন্ধুর বিয়ে উপলক্ষে আখোনি রান্না করতে চায়। কিন্তু এর তীব্র গন্ধ নিয়ে বাড়ির মালিকের প্রবল আপত্তির মুখে পড়ে। এ ঘটনা সামনে রেখে পরিচালক নিকোলাস খারকোনগর ছোট জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। নিকোলাস নিজেও মেঘালয়ের মানুষ। ‘আখোনি’র প্রধান চরিত্র করেছেন বাঙালি অভিনেত্রী সায়নী গুপ্ত। ‘আর্টিকল ১৫’, ‘ফোর মোর শর্টস প্লিজ’-এর পর এখানেও দারুণ অভিনয় করেছেন তিনি। ১২ জুন ছবিটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়। 

 

মনোজ বাজপাই

ভোঁসলে

আজকাল স্ট্রিমিং সাইট কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোঝা গেছে ‘ভোঁসলে’র মুক্তি দিয়ে। কারণ ২০১৮ সালে নির্মিত স্বাধীন ঘরানার ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভূয়সী প্রশংসা পেলেও ভারতে মুক্তি পাচ্ছিল না। একেবারেই নিরীক্ষামূলক চলচ্চিত্রটি দেখানোর আগ্রহ দেখাননি কোনো পরিবেশকই। তবে ভারত তো বটেই, বিশ্বের নানা প্রান্তের দর্শককে ছবিটি দেখার সুযোগ করে দিয়েছে সনি লিভ অ্যাপ। ২৬ জুন অ্যাপে ছবিটি মুক্তির পর অনেকেই এটিকে বছরের অন্যতম সেরা ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ছবির পরিচালক দেবাশিষ মাকিজা বরাবরই নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেন। এবার তাঁর ছবির বিষয় মহারাষ্ট্রে কাজের সন্ধানে আসা বিহারি ও স্থানীয় মারাঠিদের দ্বন্দ্ব। ছবির মূল চরিত্র অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল গণপত ভোঁসলে। পরিচালক বিহারি বা মারাঠি কোনো পক্ষ না নিয়েই দারুণভাবে গল্প বলতে পেরেছেন বলে মনে করেন সমালোচকরা। সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন মনোজ বাজপাই। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় অভিনেতার ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা বলে মনে করা হচ্ছে। মনোজ বলেন, ‘প্রায় তিন দশক হয়ে গেল কাজ করছি। কত সিনেমাই তো করছি। কিন্তু কিছু কাজ আছে, যা সারা জীবন বলে বেড়ানো যায়, এটি তেমনই। স্ট্রিমিং সাইট না থাকলে এই ছবি মুক্তি পেত কি না সন্দেহ। পেলেও হয়তো হাতে গোনা কয়েকটি হলে সকাল ৯টার শো পেত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা