kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রিয় ৫

টাইটানিক দেখেই মনে অভিনয়ের ইচ্ছা জাগে

অবসরে সিনেমা দেখেই সময় কাটে অনেকের। মেহ্জাবীন চৌধুরী বলেছেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ৫ ছবির কথা

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাইটানিক দেখেই মনে অভিনয়ের ইচ্ছা জাগে

মেহ্জাবীন চৌধুরী ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

জীবন থেকে নেয়া [১৯৭০]

জনগণের রাজনৈতিক চাহিদার এত স্বতঃস্ফূর্ত রূপায়ণ বাংলাদেশের আর কোনো ছবিতে আছে কি না আমার জানা নেই। ঐতিহাসিকভাবেও ছবিটির একটা গুরুত্ব আছে। ঘরানার দিক থেকে এটিকে সামাজিক বা পারিবারিক ছবি বলা চলে। এর ভেতর দিয়েই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অব্যক্ত কথার সুন্দর প্রতিফলন দেখিয়েছেন নির্মাতা জহির রায়হান। বাংলা ধ্রুপদি চলচ্চিত্রগুলো আমি দেখার চেষ্টা করি। ১৯৭০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ২০২০ সালে এসেও প্রাসঙ্গিক। কী সুন্দর গল্পের বুনন! গানগুলো অসাধারণ। বছর দশেক আগে দেখেছিলাম, এখনো সব মনে আছে।

ইটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড [২০০৪]

আমার মনে হয়, এ ছবিটি সময়ের আগে বানানো হয়েছে। এই ছবি বুঝতে হলে দুই থেকে তিনবার দেখতে হবে। এই বয়সে এসে আমি এখন ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। কোন সময়ের কথা কখন বলা হচ্ছে, কখন কার কী ইচ্ছা ছিল, কিভাবে মানব-মানবীর সম্পর্ক হয়, কখন ভাঙে আবার জোড়া লাগে—মনস্তাত্ত্বিক এই বিষয়গুলো এখানে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  অবাস্তব একটা গল্পকে কী চমৎকারভাবেই না উপস্থাপন করা হয়েছে। এক কথায় অসাধারণ, অনবদ্য। অনেক দিন আগে দেখা হলেও কাহিনিটি মন থেকে মুছে যায়নি। ছবির শেষের গল্প মধুর ও বিষাদময়। একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। কেট উইন্সলেট আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেত্রী। তিনি অভিনয় করেছেন, এ কারণেও ভালো লেগেছে।

কুইন  [২০১৪]

কঙ্গনা রানাওয়াত বরাবরই ভালো অভিনয় করেন। তবে এই ছবিতে তিনি অনবদ্য। পুরোপুরি কঙ্গনাময় একটা ছবি। সব মিলিয়ে একটা কমপ্লিট প্যাকেজ ‘কুইন’। পার্শ্বচরিত্র যাঁরা করেছেন, তাঁদের কাজও দারুণভাবে আদায় করে নিয়েছেন পরিচালক বিকাশ বেহল। সিনেমাটোগ্রাফি আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দুর্দান্ত। বিচ্ছেদের পাশাপাশি এটি ভালোবাসার গল্পও—নিজেকে ভালোবাসার এবং নিজের ভেতরের মানুষটাকে আবিষ্কার করার গল্প।

রাজি [২০১৮]

কিছু চরিত্র থাকে, দেখলেই মনে হয়, ইস্,  যদি আমি করতে পারতাম! ১৯৭১ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের গল্প। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে শুটিংও হয়েছে কাশ্মীরে। কাশ্মীরি গুপ্তচর চরিত্রে আলিয়ার অভিনয় দারুণ ও বিশ্বাসযোগ্য। ছবিতে আলিয়ার দৃশ্যগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী।

টাইটানিক [১৯৯৭]

আমার অলটাইম ফেভারিট সিনেমা। ছোটবেলা থেকে ঠিক কতবার ছবিটা দেখেছি গুনে বলতে পারব না। প্রতিটা দৃশ্য, সংলাপ মুখস্থ। এই ছবি দেখেই প্রথম প্রেমে পড়তে ইচ্ছা করে, এই ছবি দেখেই মনে অভিনয়ের ইচ্ছা জাগে। এখনো ‘টাইটানিক’ দেখলে কেঁদে চোখ ভাসাই। আমার ধারণা, পৃথিবীর ৮০ শতাংশ চলচ্চিত্রপ্রেমী ছবিটি দেখেছে। তাই নতুন করে এর গল্প আর শিল্পীদের অভিনয় নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা