kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

তারকার সংগ্রহশালা

সবচেয়ে প্রিয় পিয়ানোটা

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবচেয়ে প্রিয় পিয়ানোটা

নিজের ইয়ামাহার বেবি গ্র্যান্ড পিয়ানো বাজাচ্ছেন তাহসান

সামর্থ্য থাকলে শখের জিনিসটা সংগ্রহে রাখেন অনেকেই। সংগীতশিল্পী-অভিনেতা তাহসান রহমান খান বলেছেন তাঁর সংগ্রহশালা নিয়ে

বাসায় আমি যেখানে সাধারণত বসি, আমার চোখের সামনে শিল্পকর্ম রাখার চেষ্টা করি। সাধারণত যেসব জায়গায় চোখ যায়, সেখানেই আমার পছন্দের পেইন্টিংস রেখেছি। আমার বাসায় এলে ঢোকার মুখেই চড়ুই পাখির খুব সুন্দর একটা পেইন্টিং দেখতে পাবেন, রনবী [রফিকুন নবী] স্যারের আঁকা। এটা আমার জন্য খুব লাকি একটা পাখি।

বেডরুমে মাথার কাছে তিনজন ব্যক্তিকে নিয়ে তিনটি ছবি আছে। খুব দামি নয়, কিন্তু আমার কাছে অমূল্য। একজন জন লেনন, আমার অলটাইম ফেভারিট; তিনি সৃষ্টিশীলতার প্রতীক। আইনস্টাইন, বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। আর আছেন মেরিলিন মনরো, সৌন্দর্যের প্রতীক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে চারুকলায় নিয়মিত যেতাম। চারুকলার কিছু বন্ধুও ছিল। সেখানকার গ্যালারিতে চিত্র প্রদর্শনী দেখেই চিত্রকর্মের প্রতি আমার প্রেম। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, জার্মান কালচারাল সেন্টারে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতাম। সেখানকার চিত্রকর্মগুলো দেখে মুগ্ধ হতাম। কয়েকজন বড় ভাই পেইন্টিং সংগ্রহ করেন। তাঁদের সংগ্রহশালা দেখে ভালো লাগত। আমি নিজেকে একজন শিল্পী ভাবি। তাই সব ধরনের শিল্পের প্রতিই আমার একটা টান আছে। যে শিল্পে আমি পারদর্শী নই, সেটার প্রতি একটু বেশিই শ্রদ্ধা। আমার কাছে এসব ম্যাজিক মনে হয়। গান লেখা, সুর করা, গাওয়ার গুণ আমার। কিন্তু আমি ছবি আঁকতে পারি না। এ জন্য চিত্রকর্মের প্রতি এক ধরনের আলাদা টান অনুভব করি।

ভালো লাগা থেকেই পছন্দের কিছু শিল্পীর চিত্রকর্ম সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করেছি। গুলশান-২-এর আর্ট গ্যালারিতে প্রায়ই যাই। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের ভালো ছবি চোখে পড়লে কিনে ফেলি।

আমার সবচেয়ে পছন্দের শিল্পী রফিকুন নবী। তাঁর তিনটি পেইন্টিং আছে আমার কাছে। তাঁর ‘টোকাই’ ছোটবেলায় ভীষণভাবে আমাকে নাড়া দিয়েছিল। শাহাবুদ্দিন আহমেদ স্যারের চিত্রকর্ম অনেক দামি। আমি আসলে অর্থ দিয়ে চিত্রকর্মের মূল্য করতে চাই না। আমার বাসায় তাঁর ছোট একটা স্কেচ, সেটা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। হোক ছোট, তাঁর মতো শিল্পীর কিছু একটা আছে আমার কাছে, সেটাই অনেক।

নামকরা শিল্পীদের পেইন্টিং এক্সপেনসিভ হয়। সেগুলো কেনার সামর্থ্য সব সময় থাকে না। স্কেচগুলো সামর্থ্যের মধ্যে থাকে। স্কেচের খোঁজ পেলে কেনার চেষ্টা করি।

শাহাবুদ্দিন স্যার ছাড়াও মুর্তজা বশীর, মনিরুল ইসলাম, কনকচাঁপা চাকমা, অলোকেশ ঘোষের মতো বিখ্যাতদের চিত্রকর্ম আমার সংগ্রহে আছে। আরো অনেকের কাজ ভালো লাগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁদের কালেকশনে আনতে পারিনি। আস্তে আস্তে আনব। অনেক তরুণের কাজ আমার কালেকশনে আছে। সানী নামের তরুণ এক শিল্পীর কাজ আমার খুব পছন্দের। তাঁর কয়েকটা কাজ আমার সংগ্রহে আছে।

ঘরের দেয়ালে পেইন্টিং থাকলে আমি পিয়ানো বাজানোর উৎসাহ পাই। যখন বয়স কম ছিল প্রেম-ভালোবাসা, সম্পর্ক এগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হয়তো লিখতে পারতাম, সুর করতে পারতাম। এখন কেন যেন মনে হয় সুন্দর একটা আর্ট দেখলেই আসলে অনুপ্রাণিত হই।

বাসা সাজানোর জন্য তো মানুষ শোপিস কেনে। আমি আসলে সাজানোর জন্য কিনতে চাই না। জিনিসটার একটা ইতিহাস বা অন্তর্নিহিত ব্যাপার যদি থাকে, তাহলেই সেটা সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করি। ৫১৫ মিলিয়ন বছরের পুরনো একটা ফসিল আছে। টুকিটাকি আরো কিছু আছে। এগুলোর মূল্য আমি বুঝি, অন্যরা বুঝবে না। আমার মেয়ের জন্মের পর জন্ডিস হয়েছিল। হাসপাতালে ইউবি থেরাপি দেওয়ার সময় চোখে একটা ব্যান্ডেজ করতে হয়, যেন চোখে সমস্যা না হয়। ওই ব্যান্ডেজটা বাঁধাই করা আছে। সেদিন ও একটা গান লিখল আমার সঙ্গে। ও যে কলমটা ব্যবহার করেছে, সেটা এখন আমার কাছে স্পেশাল। কলমটা হয়তো রেখে দেব। 

আমার সংগ্রহে একটা জাপানি সামুরাইদের কাতানা আছে। কাতানার এখন ব্যবহার নেই, তবু বানায়। এটা একটা শিল্পকর্ম। মেয়ের জন্য রেখে দিয়েছি, কোনো একটা অকেশনে গিফট করব।

বাসায় যত জিনিসপত্র আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় আমার পিয়ানোটা। অনেক বছরের স্বপ্ন বেবি গ্র্যান্ড পিয়ানো কিনব, দুই বছর আগে কিনতে পারলাম। এটা আমার বিশেষ অর্জন। একে তো এটি দামি, বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। অর্ডার করে বিদেশ থেকে আনাতে হয়েছে। সব বাসায় এটা রাখার জায়গাও হয় না। বাসায় ঢুকে পিয়ানোটা দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। এটা আমার দ্বিতীয় পিয়ানো। ‘ব্ল্যাক’-এর প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পর ছোট একটা পিয়ানো কিনেছিলাম। 

অনুলিখন : মীর রাকিব হাসান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা