kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

তারা ‘বিপদের দিনে’র শিল্পী

করোনাকালের শুটিংয়ে এক ঢিলে কয়েকটি পাখি শিকারের চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। টার্গেট করেছেন তারকা পরিবারগুলোকে, যারা টুকটাক নির্মাণ পদ্ধতি বোঝে। বাড়িতে শিশু-কিশোর থাকলে আরো সুবিধা। তাদের পর্দার সামনে-পেছনে এনেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন তারকাসন্তান এবার অভিনয়ে-নির্মাণে এসেছেন। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তারা ‘বিপদের দিনে’র শিল্পী

নানা, নানি, মা ও খালার সঙ্গে আনাইসা

ফখরুল বাশার-মিলি বাশার দম্পতির মেয়ে নাজিবা বাশারও অভিনয় করেন। এবার যুক্ত হলেন আরেক সদস্য, বাশার দম্পতির বড় মেয়ে নাবিলা বাশারের ছয় বছর বয়সী মেয়ে আনাইসা হোসেন। আনাইসা পড়ে কেজি ওয়ানে। শাফায়েত মনসুর রানার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মধ্য নায়ক’-এ দেখা গেছে তাকে। খালা নাজিবার মেয়ের চরিত্র করেছে সে। নাজিবা বাশার বলেন, ‘ওকে নিয়ে শুটিং করা সহজই ছিল। কয়েক দিন ধরেই ও মা-বাবা ও আমাকে বাসায় শুটিং করতে দেখছে। আমাদের সঙ্গে থেকে থেকে অনেক কিছু দেখেছে ও শিখেছে। নিজের ভাগ্নি বলে বলছি না, ও খুব মেধাবী। একটা কিছু বললে চট করে ধরতে পারে। পরিচালকও ওর কাজে বেশ খুশি।’ রানা ফোনে ডিরেকশন দিয়েছেন, আনাইসা মনোযোগ দিয়ে শুনে সেটা করার চেষ্টা করেছে। পরে আনাইসা তার খালাকে বলেছে, শুটিংয়ে এত কষ্ট তার জানা ছিল না। নাজিবা তখন বললেন, ‘তুমি তো এখন সুপারস্টার হয়ে গেছ।’ এ কথা শুনে ও বলে, ‘হ্যাঁ, আমি চিন্তা করছি এই যে কাজ করলাম, আমার টাকাটা কবে দেবে।’ ‘শুনে আমরা তো অবাক, ও জানল কিভাবে শুটিং করলে টাকা পাওয়া যায়!’

সুমন আনোয়ারের ছোট বোনের মেয়ে তাওরিন অভিনয় করেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কাগজের পাখি’তে। সিনেমাটোগ্রাফার রাজু রাজ ও অভিনেত্রী চিন্ময় গুপ্তার ছেলে আরাধ্য আগন্তুকও অভিনয় করেছে এখানে। সুমন বলেন, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মনে হলো তারা বড়দের চেয়েও বেশি কমিউনিকেটিভ। ফিল্মের ভাষায় বলা হয়, বাচ্চাদের সঙ্গে কাজ করতে গেলে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ সময় রাখতে হয়। কিন্তু তাওরিনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার খুব বেশি সময় লাগেনি। হয়তো এটা অনেক অন্য রকম কিছু হয়নি। কারণ আমরা তো লিমিটেড স্পেসের গল্প বলছি। দর্শক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখেছে। ঈদের দিন ওপরতলার বাচ্চাটা নিচতলার বাচ্চাটাকে দেখতে পারছে না—এ নিয়ে সে কাঁদছিল। ওকে আসলে কিভাবে ঈদের গিফট দেওয়া যায়, এই ভাবনায় সে সারা দিন ছিল। তারপর কাগজের পাখি বানিয়ে সুতা দিয়ে নিচে ঝুলিয়ে দেয়। আমার গল্পের দুই বাচ্চাই বেশ জমিয়ে অভিনয় করেছে।’

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওরিন। আরাধ্য পড়ছে কিশলয়ে।

কিভাবে অভিনয়টা করতে হবে, আরাধ্যকে বুঝিয়ে দিয়েছে মা-বাবা। খেলতে খেলতেই শটগুলো নিতে হয়েছে। তবে মন খারাপের দৃশ্য করতে বেশ কষ্ট হয়েছে। আরাধ্য বলে আমার তো এখন মন খারাপের কিছু হয়নি। কান্নার কিছু দৃশ্যও আছে। কান্নার শব্দ ধারণের জন্য ওর মা সত্যি সত্যি ওকে বকাঝকা করেছে।      

বাবা শাহেদ ও মা দীপার সঙ্গে আদ্রিক ও আরোহী

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘কোয়ারেন্টিন’-এ অভিনয় করেছে শাহেদ আলী-দীপা খন্দকার দম্পতির ছেলেমেয়েও। ছেলে আদ্রিক আগেও অভিনয় করেছে। তবে এখানে সে ক্যামেরার কাজও করেছে। মা-বাবা দুজনই যখন ক্যামেরার সামনে তখন পেছনে ছিল আদ্রিক। অভিনয়ে আরোহী এবারই প্রথম। দীপা বলেন, ‘ওরা আসলে শুটিংয়ের বিষয়গুলো বোঝে। দুরন্ত টিভির একটা রান্নার অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে গিয়েছিল আরোহী। মাঝেমধ্যে তো ওরা শুটিংয়েও যায়। ওরা জানে অভিনয় একটা সিরিয়াস কাজ। কেউ বললে সেটা সিরিয়াসলি করতে হয়।’

অভিনয় করতে কেমন লেগেছে? পাঁচ বছর বয়সী আরোহী বলে, ‘ভালোই লেগেছে। সাইকেল চালিয়েছি, গান করেছি।’ তবে খারাপ লেগেছে মা-বাবার ঝগড়ার দৃশ্য। মা-বাবাকে ঝগড়া করতে দেখে মন খারাপ হয়েছিল তার।

 

মা মিথিলা ও খালা মিশৌরীর সঙ্গে আইরা

প্রথমবার ক্যামেরার সামনে এলো তাহসান-মিথিলার মেয়ে আইরা তাহরিম খান। গৌতম কৈরীর ‘খোলা জানালা’য় মা মিথিলার সঙ্গে অভিনয় করেছে আইরা। তাদের সঙ্গে অভিনয় করেছে মিথিলার ছোট বোন মিশৌরী রশীদ। মিথিলা বলেন, ‘বাসায় আমার অনেক কাজের শুটিং হলো। আইরা এগুলো দেখে অভ্যস্ত। তা ছাড়া আমার সঙ্গে অনেক সময় শুটিংয়ে গিয়ে আসলে ও ব্যাপারগুলো বোঝে। আর এখানে ও সারা দিন যা করে সেটাই করেছে। তার সঙ্গে আমি আর মিশৌরী তাল মিলিয়ে শুটিং করেছি।’

 

ছেলে ও স্ত্রী যখন চিত্রগ্রাহক

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ছেলে শৈশব রুদ্র শুদ্ধ এবার চিত্রগ্রাহক। সচেতনতামূলক ওয়েব সিরিজ ‘ঘরে বসে আয়নাবাজি’র শুটিং করতে হয়েছে ঘরে বসেই। চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’তে ক্যামেরার পেছনে ছিলেন রাশেদ জামান, এখানে চঞ্চলের সামনে ছিল ১০ বছর বয়সী শুদ্ধ। চঞ্চল হাসতে হাসতে বললেন, ‘নতুন অভিজ্ঞতা হলো। ছেলের ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে হবে কখনো ভাবিনি।’

শুরুতে অমিতাভ রেজা চৌধুরী শট ডিভিশন বুঝিয়ে দিয়েছেন। তার আগে বাসার বিভিন্ন জায়গার ছবি তুলে পাঠিয়েছিলেন চঞ্চল। ছেলেকে দাঁড় করিয়ে আগে নিজে শট নিয়েছেন, সেটা দেখিয়ে বুঝিয়েছেন কিভাবে শট নিতে হবে।

ওয়েব সিরিজ ‘ভাই ব্রাদার্স’-এর চিত্রগ্রাহক পরিচালক মাবরুর রশীদ বান্নাহর স্ত্রী সানিয়া আফরিন। অনলাইন শপ পার্পল মেলোর স্বত্বাধিকারী সানিয়া। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। সিনেমাটোগ্রাফিতে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই, করোনাকালে স্বামীর বিপদে সাহায্য করেছেন কেবল। তবে ছোটবেলায় ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ক্যামেরা চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। সেটাই নাকি কাজে লেগেছে এবার। ইউটিউব দেখেও শিখেছেন কিছু। ‘লকডাউনে বাসায় অফুরন্ত সময় পাচ্ছি বলেই এ কাজ করেছি। নিয়মিত করার ইচ্ছা নেই’—বললেন সানিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা