kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

করোনা মৌসুমে ছবি

ঈদে দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিষয় ছিল করোনা। ঘরবন্দি থেকেই এগুলো নির্মাণ করেছেন সাত নির্মাতা—নূরুল আলম আতিক, গিয়াসউদ্দিন সেলিম, সুমন আনোয়ার, অনিমেষ আইচ, শিহাব শাহীন, শাফায়েত মনসুর রানা ও গৌতম কৈরী। নতুন দিনের এই নির্মাণের গল্প বলেছেন অনিমেষ আইচ

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মৌসুমে ছবি

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একা’য় আশনা হাবিব ভাবনা

[গিয়াসউদ্দিন] সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ভাই বললেন, চলো, করোনা সময়ের গল্প নিয়ে একটা প্রজেক্ট করি। আইডিয়া বেশ ভালো লাগল। রাতারাতি তাঁকে একটা গল্প শোনালাম। তিনি পছন্দ করলেন। বললেন, ‘গল্পটা ভালো, আমি আইডিয়াটা আরো কয়েকজনকে বলি। কয়েকজন মিলে কাজটা করি।’

আমার কম্পিউটার নষ্ট। মোবাইলেই এক রাতে পাণ্ডুলিপি টাইপ করে ফেললাম। সেলিম ভাইকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিলাম। জানালেন, অন্যরাও দিচ্ছে গল্প। সেলিম ভাই তাঁর গল্পটা শোনালেন। নির্মাণে আমাদের সঙ্গে আরো কে কে যুক্ত হতে পারেন, আলোচনা হলো। শুটিংয়ের কয়েক দিন আগে জানতে পারলাম প্রযোজক   শাহরিয়ার শাকিল প্রযোজনা করবেন এবং টেলিভিশনে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন। সিরিজটির নাম দেওয়া হলো ‘ঘরবন্দি সময়ের গল্প’। গিয়াসউদ্দিন সেলিম বানিয়েছেন ‘কোয়ারেন্টিন’, নূরুল আলম আতিক ‘করোনার ফুল’, সুমন আনোয়ার ‘কাগজের পাখি’, শিহাব শাহীন ‘লকডাউন’, শাফায়েত মনসুর রানা ‘মধ্য নায়ক’, গৌতম কৈরী ‘খোলা জানালা’ এবং আমি নির্মাণ করলাম ‘একা’। আমার ছবিতে অভিনয় করেছেন ভাবনা, শতাব্দী ওয়াদুদ ও রুনা খান।

খুবই অল্প বাজেট। বাসায় বসেই শুটিং। ২০ মিনিটের গল্পগুলো নেওয়াই হয়েছে এমন যেন বাসায় বা বড়জোর দুই লোকেশন মিলিয়ে শুটিং করা যায়।

সেলিম ভাই কাজটা করেছেন জুম অ্যাপের মাধ্যমে। তাঁর কুশীলব শাহেদ আলী সুজন-দীপা খন্দকার মিলে মোবাইল ক্যামেরা বসিয়েছেন। ভিডিও কলে সব তদারকি করেছেন সেলিম ভাই।

আগেই বলে রেখেছি, আমি এভাবে কাজ করতে পারব না। আমার বাসায় শিল্পীদের গাড়িতে করে নিয়ে এসে মোবাইল ফোনে শুটিং করে দেব। শতাব্দী ওয়াদুদ, রুনা খান, ভাবনা—আমার তিন শিল্পীই এত দিন হোম কোয়ারেন্টিনে ছিল। ওদের বাসায় গিয়ে গাড়িতে তুললাম। বাসায় নিয়ে এসে আগে গোসল করালাম। আমার বাসায় আমার মোবাইল দিয়ে করলাম শুটিং। লাইট বা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিছুই ছিল না। মোবাইলের ক্যামেরায় যা সুযোগ-সুবিধা ছিল তা-ই। ‘ফোর কে’তে শুট করলাম। শুটিং শেষে ওদের আবার বাসায় দিয়ে এসেছি। ফুটেজগুলো গুগল ড্রাইভে করে পাঠালাম ভিডিও সম্পাদকের কাছে। পাণ্ডুলিপি আগেই পাঠিয়ে রেখেছিলাম। বাসায় বসেই কারেকশন দিতে থাকলাম। ফাইনাল হলে আলফা আই প্রডাকশন হাউসে মেইল করে দিলাম। তারপর ঈদের তৃতীয় দিন রাতে প্রচারিত হলো। পুরো কাজটাই টেকনোলজি বেইসড হলো।

আসলে বেসিক হলো গল্প আর অভিনয়। গল্পটা ঠিকঠাক লিখতে পারলে শিল্পীরাও ভালো কাজ করতে পারে। দর্শক এখনকার সীমাবদ্ধতাটাও জানে। সেটা মাথায় রেখেই দেখেছেন তাঁরা। সাতটি ছবিই ভালো হয়েছে। বিশেষ করে সেলিম ভাই ও আতিক ভাইয়ের কাজ আমার বেশি ভালো লেগেছে।  

আমি যেভাবে কাজটা করেছি বা সেলিম ভাইয়েরা যেভাবে কাজটা করেছেন—এখন আসলে এভাবেই কাজ করতে হবে। যতই স্বাস্থ্যবিধি মানি না কেন, এখন আসলে সেই বিশাল লটবহর নিয়ে শুটিং করা সম্ভব নয়। শুটিংয়ের গাড়িতে উঠব, সেখানে কে কখন উঠছে আমি তো জানি না। আমার মনে হয়, এখন যদি সামনেও কাজ করি এমন গল্প বাছাই করব—বন্ধুর বাসায় গেলাম; বন্ধু ও বন্ধুর বউকে দিয়ে তার বাসাতেই শুটিং করলাম। আগামী এক-দুই মাস যদি প্রজেক্ট করি, এভাবেই করব। জীবনের থেকে শুটিং আগে না। আরো দুই-তিনটা নাটকের পরিকল্পনা করেছি, সেগুলো এই উপায়েই করব। 

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা