kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বই-সিনেমায় সময় পার

বই পড়ে ও সিনেমা দেখে তারকাদের অনেকে স্বেচ্ছাবন্দিত্বের দিনগুলো পার করছেন। এই সময়ে কোন বই বা সিনেমা তাঁদের মুগ্ধ করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে—বলেছেন তাঁরা। শুনেছেন ইসমাত মুমু

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বই-সিনেমায় সময় পার

আবুল হায়াত

পোস্ত আস্ত একটা গাইড বুক!

আবুল হায়াত অভিনেতা

ভারতীয় বাংলা ছবি ‘বেলা শেষে’ ও ‘পোস্ত’ দেখলাম। ‘বেলা শেষে’ ভালো লেগেছে, তবে মুগ্ধ করেছে ‘পোস্ত’। এই ছবি আরো আগে দেখা উচিত ছিল। কী দারুণ প্লট! কী দারুণ অভিনয়! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যে জাত অভিনেতা তার পরিচয় আরো একবার পাওয়া গেছে। প্রগ্রেসিভ সমাজে বাচ্চাদের সঠিক শিক্ষা কে দিতে পারে—দাদা-দাদি, না মা-বাবা? এই নিয়ে গল্প। এখনকার মা-বাবাদের জন্য ‘পোস্ত’ আস্ত একটা গাইড বুক! আমার বয়সের সঙ্গেও গল্পটা মেলাতে পেরেছি। তাই বেশ মুগ্ধ হয়েছি।

 

মেহজাবীন চৌধুরী

দিস ইজ আস

মেহজাবীন চৌধুরী অভিনেত্রী

সিরিজ দেখলাম কয়েকটা। এর মধ্যে ‘দিস ইজ আস’, ‘মানি হেইস্ট’ দেখা শেষ করলাম। ‘দিস ইজ আস’ বেশি ভালো লেগেছে। পারিবারিক ড্রামা। পারিবারিক বোঝাপড়া, ক্রাইসিস, বাস্তবতা দেখানো হয়েছে। আমার এ ধরনের গল্প ভালো লাগে। এখানে গল্পটা যেভাবে বুনেছেন পরিচালক সেটা চমৎকার, মুগ্ধ করার মতো।

 

কোরিয়ান ছবি হোপ

মেহের আফরোজ শাওন অভিনেত্রী-পরিচালক

‘প্যারাসাইট’ পরিচালক বং জুন হোর সব ছবি দেখেছি। সবই ভালো। কয়েক দিন ধরে কোরিয়ান ছবিই বেশি দেখছি। তবে বেশি মুগ্ধ করেছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে লি জুন ইকের ‘হোপ’। আট বছরের এক মেয়ে যৌন নির্যাতিত হওয়ার পর তার ও তার পরিবারের মানসিক অবস্থা নিয়ে ছবি। নিজের বাবাকে দেখেও ভয় পাচ্ছে মেয়েটি। এ মুহূর্তে সেই বাবার অভিব্যক্তি কেমন হতে পারে? ‘কিচ্ছু হয়নি মা তোমার’—এই বলে মেয়েকে সাহসও দিতে পারছে না বাবা। দূর থেকে মেয়ের আহাজারি শোনা ছাড়া কিছুই করতে পারছে না। এর থেকে হৃদয়বিদারক দৃশ্য আর কী হতে পারে! অরো অনেক মেসেজ আছে ছবিটিতে।

 

সোহানা সাবা

নেটফ্লিক্সের সিরিজ আনঅর্থডক্স

সোহানা সাবা অভিনেত্রী

নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘আনঅর্থডক্স’ বেশ অনুপ্রাণিত করেছে। যৌনজীবন, মেয়েদের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের কিছু ট্যাবু আছে। মেয়েদের স্বাধীনতা বলতে সাধারণত যেটা বোঝায়, পুরুষের কাছ থেকে স্বাধীনতা। ব্যাপারটা শুধু তা নয়। মেয়েদের একটা মানসিক স্বাধীনতার দরকার। সে জীবনে কী করবে সেটা তারই সিদ্ধান্ত—বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে সিরিজে। যৌনজীবন কি শুধুই বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য? এটা ঠিক একটা মেয়ের গল্প নয়। আমরা আধুনিক হয়ে যাওয়ার পরও চিন্তাধারায় যে অনেক পিছিয়ে সেই ভাবনার জায়গা আছে এখানে।

 

অ্যামাজনের সিরিজ মডার্ন লাভ

ইরেশ যাকের অভিনেতা

অ্যামাজনের সিরিজ ‘মডার্ন লাভ’ দেখে ভালো লাগল। নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত কলাম থেকে নির্মিত হয়েছে এটি। অ্যান হাথাওয়ে, টিনা ফে, দেব প্যাটেলের মতো অভিনয়শিল্পীরা আছেন। ভালোবাসার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে গল্প। আমাদের এই সময়ের প্রেম-ভালোবাসা দারুণভাবে উঠে এসেছে। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

 

কনভারসেশন উইথ উডি অ্যালেন

আশফাক নিপুণ নির্মাতা

‘কনভারসেশন উইথ উডি অ্যালেন’ বইটা এখন মুগ্ধ হয়ে পড়ছি। উডি অ্যালেন আমার সবচেয়ে পছন্দের তিন পরিচালকের একজন। তাঁর সাক্ষাৎকারধর্মী বইটি কিনেছিলাম আমস্টারডাম থেকে। ওখানকার আই ফিল্ম মিউজিয়ামে একটা পুরো সেকশন ডেডিকেট করা হয়েছে উডি অ্যালেনকে। তাঁর চশমা, বই, মুভি ছিল সেখানে। এ বইটা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। একটা সিনেমার গল্প থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্টিং ও শুটিংয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ফিলোসফি কী থাকে, কিভাবে শিল্পীদের ফিলোসফি বদলাতে হয়, আরো অনেক সমস্যা, আমাদের এখানেও যেগুলোর মুখোমুখি হতে হয়—সব আছে এরিক ল্যাক্সের লেখা বইটিতে।

 

হোমো ডিউসআ ব্রিফ হিস্টোরি অব টুমরো

অমিতাভ রেজা নির্মাতা

এই অফুরন্ত অবসরে ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘হোমো ডিউস—আ ব্রিফ হিস্টোরি অব টুমরো’ আবার পড়লাম। আগেরবার যতটা মুগ্ধ হয়েছিলাম, এবারও ততটাই। হারারি ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে সর্বোচ্চ বিক্রীত বই ‘স্যাপিয়েন্স’-এর লেখক। ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে কী হতে যাচ্ছে সেটার খুব সুন্দর ব্যাখ্যা আছে বইটিতে। উনি যা যা ব্যাখ্যা করেছেন তার অনেকটাই ঘটেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ উৎপাদন পদ্ধতি, ডিজিটাইজেশন নিয়েও কথাবার্তা আছে। 

 

সাই-ফাই অ্যাকশন লুসি

জেসিয়া ইসলাম মডেল-অভিনেত্রী

সাই-ফাই অ্যাকশনধর্মী ‘লুসি’ [২০১৪] দেখে ভীষণ মুগ্ধ হয়েছি। আমরা আমাদের মস্তিষ্কের শতকরা ১০ ভাগ ব্যবহার করি। এটুকু ব্যবহার করেই আমরা কত কিছু করি! একটা মানুষ সত্যিই যদি ১০০ ভাগের পুরোটা  ব্যবহার করতে পারে, তখন সে কী কী করতে পারবে! ছবির লুসি নামের মেয়েটি মস্তিষ্কের শতভাগ ব্যবহারের ক্ষমতা অর্জন করে। বরাবরই স্কারলেট জোহানসনের অভিনয়, ভঙ্গি খুব আকর্ষণীয় লাগে আমার। পুরো ছবি একদমে দেখে ফেলেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা