kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

বিরল অর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩০ তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের ইউটিউবার রাবা খান। তাঁর সাফল্যের গল্প লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিরল অর্জন

সমাজের নানা বিষয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও বানিয়ে অনলাইনে তরুণদের মাঝে পরিচিতি পান। তাঁর কাজের বড় স্বীকৃতি দিল ফোর্বস। ফেব্রুয়ারিতেই রাবা জানতে পারলেন, ফোর্বসের এ তালিকায় জায়গা হচ্ছে তাঁর। অবশ্য আবেদন করেছিলেন আরো আগে। ম্যাগাজিনটির কাভারে থাকছেন সেটা জানতে পারলেন এপ্রিলে, তখন অবশ্য সবাই জেনে গেছেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকবার সাক্ষাৎকার দিতে হয়েছিল। রাবা বলেন, ‘ফোন কলেই দিয়েছি ইন্টারভিউ। বিচারক কয়েকজন। তাঁরা আসলে অনেক দিন ধরেই যাচাই-বাছাই করেছেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ফটোশুট করলাম। ছবি তুলেছেন এন সরকার প্রতীক। পুরো বিষয়টা গোপন রাখা অনেক কষ্টকর ছিল। কারণ এত বড় প্রাপ্তির খবর শেয়ার করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলাম।’

ছয় বছর আগে ইউটিউবে ‘দ্য ঝাকানাকা প্রজেক্ট’ চ্যানেল থেকে নিয়মিত ভিডিও বানিয়েছেন। এই প্রজেক্টটিই ফোর্বসের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে। “আমার পরিকল্পনার কথাও ওদের বলেছিলাম। বলেছিলাম, আমাদের প্রজন্ম আগে আগেই কাজের পরিকল্পনা করে রাখে। প্ল্যান এ, প্ল্যান বি ঠিক করেই আমরা এগোই। বিষয়টি ওদের ভালো লেগেছে। আমার বেশ কিছু বিজনেস আছে, এসবও হয়তো ওরা ভাবনায় রেখেছিল। বাংলাদেশের প্রায় ১৫০টি বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। সব কিছুই ওরা জেনেছে এবং বিচার-বিশ্লেষণ করেছে”—বললেন রাবা।

রাবার এই অর্জনে অনেকে খুশি, আবার অনেকে অখুশিও। সেটা রাবাও জানেন, ‘ফেসবুকে বেশ কয়েকটা স্ট্যাটাস দেখেছি, বলা হয়েছে আমি এসবের যোগ্য নই। এগুলো দেখলে কিছুটা বিব্রত তো হই, জেদটাও বাড়িয়ে দেয়। ছয় বছর আগে মনে করেছিলাম, ভিডিও বানাব, দেখি কী হয়। এখন আর যেনতেন ভিডিও বানালে চলবে না। মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টি মাথায় নিয়ে আরো ভালো কাজের পরিকল্পনা করেছি। সামনে ভালো কিছুই হবে। আমার বয়স মাত্র ২০ বছর। এখনো জীবনের অনেক সময় পড়ে আছে।’ ফোর্বসের তালিকায় অনূর্ধ্ব ৩০ ক্যাটাগরির মধ্যে অনূর্ধ্ব ২১-এ স্থান পেয়েছেন রাবা। শুধু তাই নয়, ‘মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং’ বিভাগে অনারারি ফিচারড করা হয়েছে তাঁকে।  

ফোর্বস এশিয়ার প্রচ্ছদে রাবা

২০১৬ সালে রাবার অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। পরেও রাবা তাঁর জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। ভালো গাইতেও পারেন। তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি গানের ‘ম্যাশআপ’ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বেশ কয়েকটি। অনেকেরই ভিডিও ভাইরাল হয়; কিন্তু সবাই টেকসই হন না। রাবা কিভাবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন এবং ধরে রেখেছেন?

‘নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে মানুষের মাঝে থাকতে হয়েছে। ভিডিও বানানোর সময় বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন—আমার ভিডিওতে কখনো কাউকে গালাগাল করি না। বিবেচনায় রাখতে হয়, ভিডিওটা যেন ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি হয়। পরিবারের সবাই যেন একসঙ্গে দেখতে পারেন। পরিবারের বড়, ছোট, মেজো—সবাই কিন্তু কোনো না কোনোভাবে আমাকে চেনে। কারণ আমি তার গল্পটা বলছি, ফলে আমার ভিডিওর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে নিজের মিল খুঁজে পায়। আমার সাফল্যের গোপন রেসিপি হলো, যদি কিছু করো সবার জন্য করো’, বললেন রাবা।

ছবি : প্রীত রেজা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা