kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

পঞ্চাশের পঞ্চাশ

সুজন সখী

এ বছর স্বাধীনতার ৫০তম বছরে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগ পর্যন্ত প্রকাশ পাবে বাংলাদেশের ৫০ বছরের সেরা ৫০টি চলচ্চিত্র নিয়ে ধারাবাহিক ফিচার। তৃতীয় পর্বে আজ রয়েছে ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুজন সখী’র কথা। লিখেছেন সৈকত সালাহউদ্দিন

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুজন সখী

‘সুজন সখী’র পোস্টার

নিজের নামের পাশাপাশি খান আতাউর রহমান ‘প্রমোদকার’ নামেও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। সহকারী সি বি জামান ও তাহের চৌধুরীকে নিয়ে খান আতার টিমের ছদ্মনাম প্রমোদকার। এই নামে তাঁরা নির্মাণ করেন ‘ত্রি রত্ন’, ‘সুজন সখী’, ‘দিন যায় কথা থাকে’ ও ‘হিসাব নিকাশ’।

কবরী ও ফারুক অভিনীত ‘সুজন সখী’র সঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল শাবানা ও মাহফুজুর রহমান খান অভিনীত ‘আলোছায়া’। পুরান ঢাকার ‘স্টার’-এ চলছিল সুজন সখী, পাশের হল ‘মুন’-এ আলোছায়া। সেই সময় খুব অর্থকষ্টে ছিলেন খান আতা। শোনা যায়, নিজের দামি রিভলবারও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। সেই কারণে প্রচারে খুব একটা খরচ করতে পারেননি। ‘সুজন সখী’র এক রকমেরই পোস্টার করা হয়েছিল, অন্যদিকে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘আলোছায়া’র নানা রকম পোস্টার ও প্রচারণা ছিল। তবু ব্যবসায় এগিয়ে যায় ‘সুজন সখী’। টানা ব্যর্থতার পর এই ছবিতে বড় সাফল্য পেলেন নায়ক ফারুক। অভিষেক ছবি ‘জলছবি’র নায়িকা কবরীকে এখানেও পেলেন ফারুক। সুপারহিট রাজ্জাক-কবরী জুটির পর ‘সুজন সখী’তে গড়ে উঠল নতুন সফল জুটি ফারুক-কবরী।

ছবি দুটিকে সেই সময় কবরী বনাম শাবানার লড়াই হিসেবেও দেখেছে কেউ কেউ। সেই সময়ে একটি ঘটনা চাউর হয়। খান আতার বন্ধু ও ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার ছিলেন সূর্য বাবু। ‘আলোছায়া’ ছবির পরিচালক-প্রযোজক মুস্তাফিজও ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ‘আলোছায়া’র পোস্টারে শাবানা পলো দিয়ে মাছ ধরছেন। ছবি মুক্তির পর সূর্য বাবু ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘শাবানার পলোর ফাঁক দিয়ে কখন সুজন সখী বেরিয়ে গেল বুঝতেও পারল না!’

প্রদর্শক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিনের মতে, ‘সুজন সখী’ বাম্পারহিট। ছবিটি আয় করেছিল কোটি টাকার ওপরে। নির্মাণব্যয় পাঁচ-ছয় লাখ টাকা।

স্বাধীনতার আগে ছিল উর্দু ছবির প্রকোপ, স্বাধীনতার পর শহরভিত্তিক ও বোম্বের প্রভাবে মারদাঙ্গা ছবি বাড়তে থাকে। ‘সুজন সখী’ গ্রামবাংলাকে ফিরিয়ে আনে পর্দায়। গ্রামের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব, অনেক বছর পর তাদের সন্তানদের প্রেম সহজ-সরল ও হূদয়স্পর্শীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির সংলাপ দারুণ। গান এ ছবির প্রাণ। ১৯৭৬ সালে দেশের প্রথম জাতীয় পুরস্কারে তিনটি শাখায় পুরস্কৃত হয় ‘সুজন সখী’। ‘সব সখীরে পার করিতে’ গানের জন্য পান আব্দুল আলীম ও সাবিনা ইয়াসমিন। চিত্রনাট্যে পান খান আতা। ‘বাচসাস’-এর পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হন কবরী, পার্শ্ব অভিনেতা খান আতা, ‘আগুন জ্বলেরে’ গানের জন্য নিলুফার ইয়াসমিন এবং সংলাপে সেরা হন আমজাদ হোসেন।

দুই দশক পর দেশে ও বিদেশে দুবার রিমেক হয় ছবিটি। ১৯৯৪ সালে সালমান শাহ-শাবনূরকে নিয়ে ‘রঙিন সুজন সখী’ করেন শাহ আলম কিরণ। ছবি রিমেকের স্বত্ব আনেন খান আতার ভাগ্নে ‘কণ্ঠরাজ’ নাজমুল হুসাইন। সহপ্রযোজক হয়েছেন এ জে মিন্টু, হাবিবুর রহমান খান ও আকন্দ সানোয়ার মোর্শেদ। পরের বছরই পশ্চিমবঙ্গে ছবিটি রিমেক করেন স্বপন সাহা। সুজন হন অভিষেক চ্যাটার্জি, সখী হন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

তবে ‘রঙিন সুজন সখী’র পরিচালক শাহ আলম কিরণ মনে করেন, আবেদন ও ব্যবসা কোনো দিক দিয়েই আগের ‘সুজন সখী’কে স্পর্শ করা সম্ভব নয়।

।  একনজরে ।

পরিচালনা : প্রমোদকার

প্রযোজনা : খান আতাউর রহমান

কাহিনী ও সংলাপ : আমজাদ হোসেন

চিত্রগ্রহণ : খান আরিফুর রহমান

চিত্রনাট্য ও সংগীত পরিচালনা :

খান আতাউর রহমান

অভিনয় : কবরী, ফারুক, সুমিতা দেবী, ইনাম আহমেদ, মিনু রহমান, রওশন জামিল, টেলিসামাদ ও খান আতা

সম্পাদনা : বশীর হোসেন

মুক্তি : ৬ অক্টোবর ১৯৭৫

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা