kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

অকপট মেহজাবীন

এবার ভালোবাসা দিবসে ১৩টি নাটক প্রচারিত হয়েছে তাঁর। নাটকগুলো নিয়ে নিজের মতামত তো দিয়েছেনই, মেহজাবীন চৌধুরী জবাব দিয়েছেন অনেক অভিযোগেরও। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অকপট মেহজাবীন

ভালোবাসা দিবসের নাটকের ব্যস্ততা শেষ হতে না হতেই ছুটলেন থাইল্যান্ড। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক সপ্তাহ ঘুরে এলেন। ক্লান্তি দূর করতে এ রকম সফরে প্রায়ই যেতে হয় তাঁকে। ‘ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু করেছিলাম, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত টানা ভালোবাসা দিবসের নাটকের শুটিং করলাম। আমরা তো ফ্রিল্যান্সার, সাপ্তাহিক কোনো ছুটি নেই। টানা কাজ করতে হয়। শুধু ঘুমের সময়টা হয়তো কোনো রকমে পাই। এটাই এখন আমার জীবন’, বললেন মেহজাবীন চৌধুরী।

এবার ভালোবাসা দিবসে মেহজাবীন অভিনীত ১৩টি নাটক প্রচারিত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে এসে মাত্র তিনটি দেখেছেন—‘চারুর বিয়ে’, ‘গজদন্তিনী’ ও ‘পরিপূরক’। বাকিগুলোও আস্তে-ধীরে দেখবেন। নিজের অভিনীত প্রায় সব নাটকই দেখার চেষ্টা করেন মেহজাবীন।

আর কোনো অভিনেত্রীর এত নাটক প্রচারিত হয়নি ভালোবাসা দিবসে। দর্শক কিভাবে নিয়েছে নাটকগুলো?

মেহজাবীন বলেন, “১৩টি নাটকই ১৩ রকমের। যদি কমেডি চান তাহলে আমার নাটকের মধ্যে পাবেন ‘ফ্যাশন’, ‘ব্রেকাপ এজেন্সি’। যাঁরা রোমান্টিক কমেডি দেখতে চান তাঁরা পাবেন ‘গজদন্তিনী’, ‘স্যার আই লাভ ইউ’ ও ‘শি লাভস মি’। যাঁরা খাঁটি প্রেমের নাটক দেখতে চান তাঁরা পাবেন ‘চারুর বিয়ে’, ‘মেমোরিজ’, ‘প্রতিদিন’, ‘ফিরে এসো রুবি’, ‘এ মন আমার’, ও ‘হূদয় ভাঙ্গা ঢেউ’। যাঁরা একটু সিরিয়াস বাস্তবধর্মী নাটক দেখতে চান, তাঁরা দেখতে পারেন ‘পরিপূরক’, ‘রেহনুমা’ ও ‘শিফট’। মোটামুটি সব ধরনের নাটকই করার চেষ্টা করেছি। যাতে দর্শক ভিন্নতা পান। এটাই আমার চেষ্টা ছিল। আমার মনে হয় দর্শক আমাকে ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন।”

আমি বুঝতে পারি দর্শক কী চান। ৭০ শতাংশেরও বেশি দর্শক আমাকে এভাবেই দেখতে চাইছেন। ৩০ শতাংশের জন্য তো আমি ৭০ শতাংশর বিরুদ্ধে যেতে পারি না

 

‘পরিপূরক’-এ পুরো সময়টা হুইলচেয়ারে বসে থাকতে হয়েছে। আগেও টুকটাক হুইলচেয়ারে বসে অভিনয় করেছেন, তবে এবারের বিষয়টা ভিন্ন। ‘সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় যাদের জীবন নিয়ে নাটকটি, তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। তাদের বাসাতেই শুট করেছি। লোকেশনটা ছিল সিআরপি। সেখানে আমার কখনো যাওয়া হয়নি। এ ধরনের জায়গায় গেলে প্রথম দিকে মনটা খারাপ হয়ে যায়। যখন দেখবেন আশপাশের সবাই হুইলচেয়ারে তখন একটা ডিপ্রেশন কাজ করে। কিন্তু যখন তাদের সঙ্গে মিশলাম, তাদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখলাম, সেটা সত্যিই আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে। তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা তারা ওভারকাম করেছে, এটা আসলে অনেক বেশি সাহস দেয়। ওখানকার সবাই আমাকে খুব সাহায্য করেছে।’

এবার তো কমেডি নাটকও ছিল। কমেডিতে সাধারণত মেহজাবীনকে সেভাবে পাওয়া যায় না?

মেহজাবীন বলেন, “এবার ‘ফ্যাশন’-এ যে ধরনের সংলাপ দিয়েছি, আগে কখনো এভাবে আমাকে সংলাপ প্রক্ষেপণ করতে হয়নি। খুব উচ্চৈঃস্বরে এবং অতি অভিনয় করতে হয়েছে। আমি সব সময় স্বাভাবিক অভিনয় করার চেষ্টা করি, কিন্তু এখানে অতি অভিনয়ই করতে হয়েছে। এটাও নতুন অভিজ্ঞতা।”

ভালোবাসা দিবসে প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত হয়েছে নাটক ‘শিফট’। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের গল্প, প্রচার হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাটকের ছবিগুলো প্রশংসা পেয়েছে। ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মানুষের শারীরিক অবস্থা সাধারণ মানুষের মতো থাকে না। ওই লুকটাই আনার চেষ্টা করেছি। শরীরের ওপর যতটুকু ভার নেওয়া যায়, পরিচালককে বারবার বলছিলাম, আমার ওপর আসলেই পাথর রাখো। চাপটা যখন আমার ওপর পড়বে অভিব্যক্তিগুলোও তখন স্বাভাবিকভাবেই আসবে’, বলেন মেহজাবীন।

অনেক দিন ধরেই একটু অন্য রকম চরিত্রে অভিনয় করছেন মেহজাবীন, নাটকগুলোও পাচ্ছে ভালো নাটকের স্বীকৃতি। মেহজাবীন বলেন, ‘শুধু আমি নই, কোনো অভিনেতাই একই ধরনের কাজ বারবার করতে পছন্দ করেন না। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের কাছে যেসব পাণ্ডুলিপি আসে তার বেশির ভাগই সীমিত বাজেটে শুটিং করার মতো নাটক। লেখকদের দোষ দিচ্ছি না। কারণ তাঁদের বলেই দেওয়া হয় দুই দিনে শুট শেষ করতে হবে, এই কয়টা চরিত্র রাখতে হবে, বেশি আউটডোর দেখাতে পারবেন না—আমাদের তো আসলে অনেক ধরনের সমস্যাই আছে...।’

সমস্যাগুলোর ধরন কেমন?

‘এই যেমন আমরা চাইলেই এয়ারপোর্টে গিয়ে শুট করতে পারি না। অনুমতি নেওয়া এবং সময়ের একটা ব্যাপারও আছে। হাসপাতালে শুট করতে গেলেও অনুমতি নিতে হয়। হাসপাতাল থেকে বলে দেওয়া হয়, রাত ১১টার পর আসবেন। কারণ তখন রোগীরা ঘুমায়। আমাদের একটা নিয়ম আছে, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিং। কিন্তু সেই নিয়ম আমরা কিভাবে মানব। আমার মনে হয়, সময় এসেছে ফিল্ম সিটির মতো নাটকের জন্যও একটা জায়গা করে দেওয়া, যেখানে আমরা সব ধরনের সুবিধা পাব। টেলিভিশন নাটকের জন্য আলাদা করে ভাবতে হবে, এটাকে ইন্ডাস্ট্রি করতে হবে। এতে আমাদের সময় অনেক বেচে যাবে। আমরা আসলে বড় কিছু ভাবতে পারি না। আমরা কিন্তু সত্যিই অনেক বড় কিছু করতে পারি, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সংকীর্ণ হয়ে আছি’, বলেন মেহজাবীন।

বলা হয়, টিভি নাটকে দুই-চারজন অভিনয়শিল্পী আছেন, যাঁদের কাস্ট করলে পুরো বাজেটের ৭০ শতাংশ চলে যায়। সেই শিল্পীদের মধ্যে মেহজাবীনের নামও উচ্চারিত হয়। ‘এটা একটা ভুল তথ্য। কারণ নাটকের প্রধান চরিত্র দুটোকে যদি ৭০ শতাংশ দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের যে বাজেট থাকে তাতে বাকিদের কোনোমতেই চলা সম্ভব নয়। এটা যে বা যারা বলে তাদের আরো খোঁজ নেওয়া উচিত’, বললেন মেহজাবীন।

অভিযোগ রয়েছে আরো, ঘুরেফিরে দুজন অভিনয়শিল্পীর সঙ্গেই বেশি কাজ করেন মেহজাবীন। যেটা অনেকেই ভালোভাবে নেয় না। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উল্টো প্রশ্ন মেহজাবীনের, একটা নাটক ভালো বা খারাপ কিভাবে বুঝব? নিজেই বলতে শুরু করলেন, ‘আমি আমার প্রতিটি নাটক ইউটিউবে আসার পর কমেন্ট বক্স চেক করি। কারণ এখান থেকে আমি বুঝতে পারি দর্শক কী চান। ৭০ শতাংশেরও বেশি দর্শক আমাকে এভাবেই দেখতে চাইছেন। ৩০ শতাংশের জন্য তো আমি ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে যেতে পারি না। আর আমি এমন কোনো বড় অভিনেত্রী হয়েছি বলে মনে হয় না যে আমার কথায় কাস্টিং হবে!’

ছুটি কাটিয়ে ফের ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নারী দিবসে প্রচারের জন্য বেশ কিছু নাটকের পাণ্ডুলিপি তাঁর হাতে। কাজ, কাজ আর কাজ, বিয়ে নিয়ে কি কিছুই ভাবছেন না? ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে অন্তত বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবছি না। এখন শুধু কাজ আর কাজ’, বললেন মেহজাবীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা