kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

আসিফের প্রিয় ৫ গান

শিল্পীদের গানের পেছনে কত গল্পই না থাকে! নিজের গাওয়া প্রিয় পাঁচটি গানের গল্প বলেছেন আসিফ আকবর। শুনেছেন আতিফ আতাউর

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আসিফের প্রিয় ৫ গান

নীল প্রজাপতি

 

গানটির কথা লিখেছেন গোলাম মোর্শেদ। সুর ও সংগীতায়োজনে ইবরার টিপু। মজার বিষয় হচ্ছে, গীতিকার কিংবা সুরকার—কেউই আমার কথা ভেবে গানটি লেখেননি, সুরও করেননি। একটা কাজে ইবরার টিপুর স্টুডিওতে গিয়েছিলাম। সেখানেই গানটি শুনি। কথাগুলো দারুণ রোমান্টিক। শুনে এতটাই ভালো লেগে যায় যে টিপুকে বলি, গানটা আমি গাইব। এটা ছিল গোলাম মোর্শেদের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। এরপর গানটিতে কণ্ঠ দিই। প্রকাশের পর সবাই গানটির অনেক প্রশংসা করেছেন। এখনো করেন। আমার নিজেরও অন্যতম প্রিয় একটি গান।

 

এখনো মাঝে মাঝে

প্রিয় গানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘এখনো মাঝে মাঝে মাঝরাতে ঘুমের ঘোরে, শুনি তোমার পায়ের আওয়াজ।’ আমার প্রথম অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’-এর গান এটি। অ্যালবামের গানগুলোর জন্য তখন দিনরাত খেটে চলছি। ইথুন বাবুর স্টুডিওতে গানটি প্রথম শুনি রাজেশের কণ্ঠে। রাজেশ গানটি আমাকে গিটারে তুলে দেয়। যখন কণ্ঠ দিই তখন রাত প্রায় ৩টা। বাইরের পরিবেশ একেবারেই নীরব। গানের কথাগুলোর সঙ্গে কিভাবে কিভাবে যেন রেকর্ডিংয়ের পরিবেশটাও মিলে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আমার আশে কেউ নেই। আমি একা একা গভীর রাতে হারানো প্রেমিকার জন্যই গাইছি। রেকর্ড শেষে সবাই শুনে বেশ বাহবা দিয়েছিল।

 

বিদায় বন্ধু [যেতে চাইলে]

কথা ও সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ। আমার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তুমিই সুখী হও’-এর দ্বিতীয় গান। গানটি অ্যালবামের দুই নম্বরে রাখার গল্পটা বেশ মজার। প্রথম অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ সুপারডুপার হিট। স্বাভাবিকভাবেই শ্রোতারা দ্বিতীয় অ্যালবামের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। আমার জন্যও পরীক্ষার মতো ছিল সময়টা। কারণ প্রথম অ্যালবামের শ্রোতাপ্রিয়তা ধরে রাখা। এই গানটির জন্য সেদিন বাসায় সিটিং ছিল। রাজেশদা বাসায় এলেন। এসে আমার গলায় গানটি তুলে দিয়ে চলে গেলেন। আমার ছোট ছেলে রুদ্রর বয়স তখন খুবই কম। একটু পর খেয়াল করে দেখি, সে গানটি গাইছে। ছোট্ট সন্তানের মুখে গানটি শুনে খুবই অবাক হয়েছিলাম। ভাবলাম গানটির তো মর্যাদা দিতে হবে। সে জন্যই অ্যালবামের দুই নম্বরে রাখা।

 

সাবাস বাংলাদেশ

‘বেশ বেশ বেশ, সাবাস বাংলাদেশ, যাও এগিয়ে আমার বাংলাদেশ’ গানটি আমার খুব প্রিয়। কথা লিখেছেন সোহেল আরমান। সুর করেছেন ইবরার টিপু। আমি তখন কুমিল্লায়। জিম্বাবুয়ে টিম বাংলাদেশ সফরে আসবে। তারা আসার আগে বিসিবি বাংলাদেশ টিমের জন্য একটি থিম সং করার পরিকল্পনা করে। এই থিম সংটা নাকি আমাকেই গাইতে হবে। তারা কুমিল্লা থেকে আমাকে একপ্রকার ধরেই নিয়ে আসে। আমার তখন ঠাণ্ডা-সর্দি-কাশি মিলে বেশ কাহিল অবস্থা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। দেরি যে করব তারও উপায় নেই। কারণ সফরের সময় এগিয়ে আসছে। সেই অবস্থায়ই গানটিতে কণ্ঠ দিই। গানটি শুনলে আমার ঠাণ্ডা লাগার অবস্থাটি বোঝাও যায়। গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে সবাই আমাকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশের যেকোনো বিজয় মিছিলে গানটি থাকবেই।

 

উড়ো মেঘ

কথা লিখেছেন রাজিব আহমেদ, সুর করেছেন মনোয়ার হোসেন টুটুল। রাজিব গানটি লেখার পর প্রথম আমাকে দেখায়। কথাগুলো বেশ অদ্ভুত। বোঝা যাচ্ছিল না। ‘উড়ো মেঘ তোর মনে আমি লাগাম দিব’—এজাতীয় কথা লেখা! এর মানে উদ্ধার করা বেশ কঠিন! গানের কথাগুলো ঠিকঠাক করে সুর করার জন্য টুটুল ভাইকে দিলাম। এরপর গাইলাম। রেকর্ডিংয়ের পর গানটি শুনে খুব ভালো লেগে যায়। আমার সবগুলো স্টেজ অনুষ্ঠানেই গানটি গাওয়ার চেষ্টা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা