kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

তাঁরা গান তাঁরা বাজান

রন্টি দাশ, বেলী আফরোজ ও অবন্তি সিঁথি তিন গায়িকাই এসেছেন রিয়ালিটি শো থেকে। গান গাওয়ার পাশাপাশি বাজানোতেও পারদর্শী তাঁরা। তাঁদের বাজনা নিয়ে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তবলা ও পিয়ানোবাদক রন্টি

সাত-আট বছর বয়সে নানা নির্মল দত্ত চৌধুরীর কাছে তবলায় হাতেখড়ি ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত রন্টি দাশের। এরপর শিখেছেন রুবেল বড়ুয়ার কাছে। ১৩-১৪ বছর বয়সে চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম তবলা বাজান মায়ের সঙ্গে। সে অনুষ্ঠানে বাজিয়েছিলেন রন্টির ভাই মিঠুনও। এরপর ঘরোয়া অনেক অনুষ্ঠানেই তবলা বাজিয়েছেন এই গায়িকা। নিজের বাসায় কোনো অনুষ্ঠান হলে তো কথাই নেই। বসে পড়েন তবলা নিয়ে। রন্টির পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই তাঁর তবলার ভক্ত। ছোটবেলায় রন্টির স্বপ্ন ছিল স্টেজে গাওয়ার পাশাপাশি তবলাও বাজাবেন নিয়মিত। কিন্তু গাওয়ায় মনোযোগ দিতে গিয়ে সেটা আর সম্ভব হয়নি। মাঝে রোমেল আলীর কাছে পিয়ানো বাজানো শিখেছেন রন্টি। বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পিয়ানো বাজিয়েও গান করেন। রন্টি বলেন, ‘ছোটবেলায় অনেক উচ্ছ্বাস নিয়ে তবলা বাজানো শিখেছিলাম। বড় হয়ে শিখেছি পিয়ানো। দুটি যন্ত্রই বাজাতে আমার বেশ ভালো লাগে। গান গাওয়ার দিকে ফোকাস দিতে গিয়ে স্টেজে না বাজালেও বিভিন্ন ঘরোয়া আয়োজনে ঠিকই বাজাই। বাজানোর মধ্যে আমি অন্য রকম আনন্দ পাই।’

ড্রামসে পারদর্শী বেলী

‘পাওয়ার ভয়েস’ খ্যাত বেলী আফরোজের সংগীতে হাতেখড়ি ড্রাম বাজিয়ে। বড় ভাই আলী আকবর সুমন ড্রাম বাজাতেন। তাঁকে দেখেই ড্রামের প্রতি আগ্রহ জন্মায় বেলীর। এরপর বোনকে শেখাতে থাকেন ভাই। ২০০৫ সালে ‘ব্লু বার্ডস’ নামে মেয়েদের একটি ব্যান্ডে ড্রামবাদক হিসেবে যোগ দেন বেলী। সে বছরই চট্টগ্রাম ইপিজেডে একটি অনুষ্ঠানে জীবনে প্রথম ড্রাম বাজান। ২০০৭ সাল পর্যন্ত সে ব্যান্ডে ড্রাম বাজিয়েছেন। এরই মধ্যে গায়িকা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১২ সালে ‘পাওয়ার ভয়েস’ প্রতিযোগিতায় পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে গান নিয়েই ব্যস্ত বেলী। গত বছর গান বাংলা টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে বেশ প্রশংসা কুড়ান। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া আয়োজনে প্রায়ই ড্রাম হাতে নেন এই গায়িকা। আইয়ুব বাচ্চুর ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ দিয়ে ড্রাম বাজানো শিখেছিলেন বেলী। সেই গানটি কভার করে সামনে ভিডিও প্রকাশ করবেন। সেই ভিডিওতেও ড্রামবাদক রূপে হাজির হবেন। বেলী বলেন, ‘ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল ড্রামবাদক হওয়ার। গান না গাইলে আমি স্টেজে ড্রামই বাজাতাম। তবে এখনো কোথাও ড্রাম সামনে পেলেই বাজাতে শুরু করি।’

পার্কাসন ও গিটারে দক্ষ অবন্তি 

২০১২ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীত জগতে আবির্ভাব জামালপুরের মেয়ে অবন্তি সিঁথির। কিন্তু সিঁথি পরিচিতি পেয়েছেন মূলত কাপ পার্কাসন বাজিয়ে। ২০১৬ সালে নিজের নামে ইউটিউবে একটি চ্যানেল খোলেন সিঁথি। সেই চ্যানেলে প্রকাশের জন্য ইউটিউব দেখে দেখে শিখে ফেলেন কাপ পার্কাসন বাজানো। একসময় ইউটিউবে জনপ্রিয়তা পায় সিঁথির কাপ সং। শুধু কাপ ব্যবহার করে এই গানগুলো করতেন গায়িকা, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়। স্টেজে, বিভিন্ন লাইভে কিংবা ঘরোয়া আয়োজনে নিজের গানগুলোতে নিজেই বাজিয়ে থাকেন সিঁথি। সিঁথি এখন যে কাপ পার্কাসন বাজান সেটা কাস্টমাইজ ডিজাইন করা। ২০১৮ সালে জি-বাংলার ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও ১৪তম স্থান অর্জন করেন সিঁথি। সেখানেও কাপ পার্কাসনের জন্য সবার প্রশংসা পান। এর বাইরে গিটারও বাজাতে পারেন সিঁথি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিটার হাতেও দেখা যায় তাঁকে। সিঁথি বলেন, ‘বাজানোর প্রতি আগ্রহ থেকেই কাপ পার্কাসন শিখেছি। নিজের গানগুলোতে গিটারও বাজাই। সবার কাছ থেকে যখন বাজানোর জন্য ইতিবাচক সাড়া পাই তখন খুব ভালো লাগে। মেয়ে শিল্পীদের তো সচরাচর বাজাতে দেখা যায় না। তাই এই ব্যাপারটি বেশ উপভোগ করি। নিজে বাজালে সেই গানগুলোর গাওয়াতেও বাড়তি মনোযোগ থাকে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা