kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

এবারের অস্কারে প্রথম বিদেশি ভাষার ছবি হিসেবে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে ‘প্যারাসাইট’, যা দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্রের উত্থানের বড় প্রমাণ। কোরীয় সিনেমার নানা দিক এক পৃষ্ঠার আয়োজন

৫ এর ৫

কান থেকে অস্কার—‘প্যারাসাইট’-এর কল্যাণে চেনা নাম বং জুন-হো। তবে তিনি ছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক আছেন কোরীয় চলচ্চিত্রে। এ সময়ের অন্যতম সেরা পাঁচ পরিচালক ও তাঁদের একটি করে সিনেমা নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বং জুন-হো

 

দ্য হোস্ট

‘প্যারাসাইট’ দিয়ে অস্কার জিতলেও বং জুন-হোর অন্যতম সেরা সৃষ্টি ‘দ্য হোস্ট’। ২০০৬ সালের  চলচ্চিত্রটি সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে পরিণত হয়। চলচ্চিত্রটির কাহিনি সিউলের হান নদী থেকে উঠে আসা এক দানবকে ঘিরে। যে একের পর এক মানুষকে আক্রমণ করতে শুরু করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বং জুন-হো ফ্যান্টাসিধর্মী এ চলচ্চিত্রটির প্রেরণা একটি সত্য ঘটনা। মূলত হান

নদীতে অদ্ভুত এক মাছের খবর পড়ার পর থেকেই

এই ছবির আইডিয়া আসে মাথায়।

কোয়ান্টিন ট্যারান্টিনোর করা ১৯৯২ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সেরা বিশ ছবির একটি ‘দ্য হোস্ট’।

মনস্টার ছবির আড়ালে ছবিটির মাধ্যমে বং

জুন-হো আসলে পরিবেশ দূষণ নিয়ে বার্তা

দিতে চেয়েছেন।

কিম কি দুক

স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার... অ্যান্ড স্প্রিং

কোরিয়ার চলচ্চিত্রকে বিশ্বের বুকে সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসতে কিম কি দুক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর ক্লাসিক সৃষ্টি ‘স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার...অ্যান্ড স্প্রিং’। চলচ্চিত্রটি যেন রুপালি পর্দার শান্ত ও স্নিগ্ধ এক কবিতা। ছবির উপজীব্য এক শিক্ষানবিশ বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও তাঁর একাকিত্বের জীবন। বিভিন্ন ঋতুকে এখানে রূপক হিসেবে প্রকাশ করে পরিচালক মানবজীবনের বিভিন্ন দিক অনিন্দ্যসুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বড় পর্দায়। চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় দিক—সংলাপের চেয়ে পারিপার্শ্বিকের সাহায্যে

গল্পের রূপায়ণ। ছবিটি ২০০৪ সালের অস্কারে কোরিয়া থেকে সেরা বিদেশি ভাষার ছবি হিসেবে মনোনীত হয়েছিল। বিখ্যাত মার্কিন সমালোচক রজার এবার্টের করা শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের তালিকায় জায়গা পেয়েছে ছবিটি।

পার্ক চান উক

ওল্ডবয়

রুপালি পর্দায় ভয়ংকরতম কাহিনির সুনিপুণ রূপায়ণের জন্য বিখ্যাত পার্ক চান উক। তবে এ পরিচালকের পদচারণ শুধু সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি পরিচালনা করেছেন রোমান্টিক চলচ্চিত্রও। এ পরিচালকের ‘জয়েন্ট সিকিউরিটি এরিয়া’কে অনেক সমালোচক কোরিয়ার চলচ্চিত্রের জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করে। তবে বিশ্বজুড়ে এ পরিচালক সবচেয়ে বিখ্যাত তাঁর চলচ্চিত্র ‘ওল্ডবয়’-এর জন্য। মেয়ের জন্মদিনে যাওয়ার পথে এক ব্যবসায়ী অপহূত হন। প্রায় পনেরো বছর বন্দিদশায় থাকার পর মুক্তি পান। তাঁকে নামতে হয় মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার এবং তাঁর জীবনের পনেরো বছর কেড়ে নেওয়ার প্রতিশোধের লড়াইয়ে। ‘ওল্ডবয়’ পরিচালকের একটি ট্রিলজির অংশ। ‘দ্য ভেনজেন্স ট্রিলজি’-এর অন্য দুই কিস্তি ‘সিম্প্যাথি ফর মিস্টার ভেনজেন্স’ ও ‘লেডি ভেনজেন্স’।

হং সাং সু

ওম্যান ইজ দ্য ফিউচার অব ম্যান

২০০৪ সালে বড় পর্দায় মুক্তি পায় রোমান্টিকধর্মী ‘ওম্যান ইজ দ্য ফিউচার অব ম্যান’। বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও কান চলচ্চিত্র উত্সবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। চলচ্চিত্রটির কাহিনি আবর্তিত দুই বন্ধু লি মুন হো ও কিম হিউয়েন গনকে ঘিরে। তাদের জীবনে একটি বড় অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হয় কিমের পুরাতন প্রেমিকা পার্ক। তিনজনের মধ্যে সম্পর্কের এ টানাপড়েনে চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন স্তরে ফুটে উঠেছে মানবচরিত্রের নানা অব্যক্ত দিক। চলচ্চিত্রটির শিরোনাম পরিচালক নিয়েছেন লুই আরাগেঁর একটি ফরাসি কবিতা থেকে যা তিনি দেখেছিলেন একটি পোস্টকার্ডের ওপর। হাং সান সু বিকল্প ঘরানার ছবি করেন। এ জন্য সাধারণ বাণিজ্যিক ছবির দর্শকদের কাছে তাঁর তত পরিচিতি নেই। তবে সমালোচকদের কাছে বরাবরই সমাদৃত তিনি। বিখ্যাত ফরাসি অভিনেতা ইজাবেল হুপারের সঙ্গে কাজ করেছেন। 

কিম জি-উন

দ্য গুড, দ্য ব্যাড, দ্য উইয়ার্ড

২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া কোরীয় ওয়েস্টার্ন ছবি। নাম শুনে অনেকেই অনুমান করতে পারবেন এটি তৈরি হয়েছে সার্জিও লিওনির বিখ্যাত ‘দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি’র প্রেরণায়। লি বাইয়ুং-হান, সং কাং-হো ছিলেন ছবির উল্লেখযোগ্য চরিত্রে। ‘দ্য গুড, দ্য ব্যাড, দ্য উইয়ার্ড’ কিম জি-উনের ছবি। আগে বাইয়ুং-হানের সঙ্গে তিনি ‘আ বিটারসুইট লাইফ’ করেছিলেন। কান চলচ্চিত্র উত্সবে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পর ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা পায়। ‘দ্য গুড, দ্য ব্যাড, দ্য উইয়ার্ড’, ‘আ বিটারসুইট লাইফ’ ছাড়া কম জি-উনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছবি ‘আ টেল অব টু সিসটার্স’। জি-উনের ছবিগুলো সমালোচক প্রশংসার সঙ্গে সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। কোরিয়ার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রেও কাজ করেছেন পরিচালক। তবে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকে নিয়ে ‘দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ ততটা সফলতা পায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা