kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

গত বছর পড়া প্রিয় বই

চলছে ভাষার মাস, বইয়ের মাস ফেব্রুয়ারি। গত এক বছরে শোবিজ তারকাদের কে কোন বইটি পড়েছেন? বলেছেন তাঁরাই—

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গত বছর পড়া প্রিয় বই

 

মুনীর চৌধুরীর ‘নাটকসমগ্র’টা আবার পড়লাম

তারিক আনাম খান

আমার নাটকের বই-ই বেশি পড়া হয়। কারো নাটকের বই বের হয়েছে শুনলেই সংগ্রহের চেষ্টা করি। এ বছর মুনীর চৌধুরীর নাটকসমগ্রটা আবার পড়লাম। যেটা খুব মনে লেগে আছে। এটার তো দুটি খণ্ড। দেখা যায় অনেক দিন পরপর এটা পড়া শুরু করি। গত বছর যত বই পড়েছি, এটা আমার একটু বেশিই ভালো লেগেছে। সমকাল, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পুরাণ ও মিথাশ্রয়ী জীবনভাবনা মুনীর চৌধুরীকে করেছে অসাম্প্রদায়িক, উদার-মানবিক ও বস্তুবাদী শিল্পস্রষ্টা। তীব্র মননের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সূক্ষ্ম রসবোধ, যা তাঁর সাহিত্যকর্মকে করেছে প্রাণবন্ত ও ভিন্নমাত্রিক। তাঁর নাটকগুলো যখনই পড়ি, কিছু না কিছু শিখি। ‘আ হান্ড্রেড শর্ট স্টোরিজ অব ওয়ার্ল্ড ক্লাসিক’—এটাও এ বছর পড়া একটা ভালো বই। 

‘ঋণ’ খুব ভালো লেগেছে

ফাহমিদা নবী

গোয়েন্দা গল্প আর গানের বই পড়তে আমার ভালো লাগে। গেল এক বছরে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘ঋণ’ গল্পটা খুব ভালো লেগেছে। শীর্ষেন্দুর লেখায় কেমন যেন অন্য রকম একটা কিছু পাই। আমেরিকা-ফেরত এক বিত্তশালী নারীর খুনের ঘটনার তদন্তকে কেন্দ্র করে ‘ঋণ’। তদন্তের সূত্র ধরে পাতায়-পাতায় উন্মোচিত হয়েছে নতুন চমকপ্রদ তথ্য, তুখোড় গোয়েন্দার জেরার সামনে প্রত্যেককেই মনে হয় কোনো না কোনোভাবে সন্দেহজনক। শেষাবধি যখন ধরা পড়ে প্রকৃত খুনি, অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না ঠিকই; কিন্তু অপরাধীর জন্যও পড়ে দীর্ঘশ্বাস। এখানেই এ উপন্যাসের প্রকৃত সার্থকতা। আমি যে দুই ধারার বই পছন্দ করি তার একটি রহস্য গল্প, আরেকটি গানের বই। গানের বই আমি সব সময়ই পড়ি, রবীন্দ্রনাথের গানের বই আমার ভীষণ প্রিয়।

বইটার আবেদন শেষ হবে না

শম্পা রেজা

জিয়া হায়দার রহমানের ‘ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো’ আমার বেশ লেগেছে। ২০১৪ সালে প্রকাশ পেয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাড়াজাগানো উপন্যাস। নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য নিউ ইয়র্কার বিশদ আলোচনা ছেপেছে বইটির। কারো কারো মতে, এটি একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ক্লাসিক। জিয়া হায়দার রহমানের জন্ম বাংলাদেশের সিলেটের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর বালক বয়সে তিনি পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্রই অভিবাসী। কিন্তু তাদের একজন অভিবাসী হলেও তার কোনো অস্বস্তি নেই। এখানেই দুজনের পার্থক্য। একজনের নাগালে আছে বিশ্বের সব কিছু। আরেকজনের কাছে পৃথিবীর কোনো কিছুই নেই। উপন্যাসে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অনেক কিছুই উঠে এসেছে। অভিবাসী জীবনের যন্ত্রণা, হতাশা, পাশ্চাত্যের সবজান্তা মানসিকতা, পাশ্চাত্য শিক্ষার অন্তঃসারশূন্যতা, জঙ্গিবাদ থেকে শুরু করে ওয়াল স্ট্রিটের জীবন-মরণ প্রতিযোগিতা সব কিছুই প্রতিফলিত হয়েছে উপন্যাসে। এই বইটার আবেদন আসলে শেষ হবে না। কারণ বিশ্বজুড়ে অভিবাসীরাও থাকবে।

এ ছাড়া নমিতা দেবিদয়ালের ‘দ্য সিক্সথ স্ট্রিং অব বিলায়েত খান’ও গত বছর পড়া ভালো লাগা বই।

    

শশী থারুরের ‘হোয়াই আই অ্যাম আ হিন্দু’

মাকসুদুল হক

আমার ইংরেজি বই-ই পড়া হয় বেশি। সর্বশেষ যা পড়েছি তার মধ্যে শশী থারুরের ‘হোয়াই আই অ্যাম আ হিন্দু’র কথা বলা যায়। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘আমি কেন হিন্দু’। ভারতের কংগ্রেস নেতা এবং লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার শশী থারুর। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে খুব ভাসা ভাসা ধারণা ছিল আমার। অল্প কথায় খুব বিস্তারিতভাবে হিন্দু ধর্মের অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আমাদের অনেকগুলো ভুল ধারণা আছে। ধারণাগুলো ভাঙতে এই বই পড়া বেশ জরুরি। এখানে হিন্দু ধর্মের অনেক বড় বড় মনীষীর নাম ও তাঁদের কর্মের কথা এসেছে। তাঁদের মূল ভাব ও চিন্তাধারা কী ছিল আর এখনকার যে বিজেপি তাদের চিন্তাধারার যে কতটা অমিল সেটাও ফুটে উঠেছে। এখানে যেমন হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে, তেমনি এখনকার কট্টর হিন্দুদেরও তুলে ধরা হয়েছে। 

 

জীবনযাপনে শিল্পকলা

সাজু খাদেম

আমি বই পড়তে পছন্দ করি। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েই আমার আগ্রহটা বেশি। তবে গত বছর পড়েছি ‘জীবনযাপনে শিল্পকলা’। এটি একটি অনুবাদ বই। অনুবাদ করেছেন কবির চৌধুরী স্যার। প্রতিটি বিষয়ে শিল্পকলা কিভাবে জড়িত তা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। বন্ধুত্বের শিল্পকলা, ভালোবাসার শিল্পকলা, প্রেমের শিল্পকলা, মানুষের ব্যবহারের শিল্পকলা, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে একটা শিল্প থাকা দরকার, সেটার ওপর দারুণ একটা বই।

 

নন-ফিকশন ট্রাভেল বুক

ইরেশ যাকের

‘দ্য গ্রেট রেলওয়ে বাজার’ আমার গত বছরের পড়া সবচেয়ে ভালোলাগা বই। পল থেরক্সের বইটি প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৫ সালে। এরই মধ্যে এটি স্থান করে নিয়েছে ধ্রুপদী ভ্রমণ সাহিত্যগুলোর মধ্যে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন আর বৈচিত্র্যে ভরপুর সব রেলপথ এবং রেল নিয়ে বইটি। এটি আসলে একটি ভ্রমণের বই। রয়েছে রেলপথ-সংক্রান্ত বিভিন্ন রকম তথ্য, যা আপনাকে ভ্রমণে সহযোগিতা করবে। কিন্তু একইসঙ্গে এটাকে বলা যায় লেখকের নিজস্ব ভ্রমণ কথামালা। তিনি ঘুরেছেন, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তাঁর এই সুবিশাল যাত্রায় আছে এশিয়া আর ইউরোপের বিভিন্ন রেলপথ। বইটিতে আমি বেশ মজে গিয়েছিলাম!

 

রবীন্দ্রনাথের ওপর বেশ কিছু পড়াশোনা করেছি

মৌটুসী বিশ্বাস

গত বছর কয়েকটি বই আমাকে বেশ নাড়া দিয়েছে। এর মধ্যে একটি শাহাদুজ্জামান স্যারের ‘ক্রাচের কার্নেল’। কর্নেল আবু তাহেরকে নিয়ে লেখা। হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস ‘আগুন পাখি’ অবলম্বনে ধারাবাহিক করছি, এটিও অসাধারণ লেগেছে। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে বলেই পড়া শুরু করেছিলাম, পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। তবে গত বছরজুড়ে আমি রবীন্দ্রনাথের ওপর বেশ কিছু পড়াশোনা করেছি। প্রথম আলোতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যয় রবীন্দ্রনাথের ওপর বেশ সুন্দর করে লিখেছেন। আরো কিছু বই ঘেঁটেছি আমি। রবীন্দ্রনাথের বাড়ির মেয়েরা ভীষণ স্বাধীনচেতা ছিলেন। সংস্কৃৃতিতে ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা ভীষণ এগিয়ে ছিল, ভীষণ ভালো লিখতেনও তাঁরা।

অনুলিখন : মীর রাকিব হাসান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা