kalerkantho

রবিবার । ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ ফাল্গুন ১৪২৬। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঢাকার সমস্যা ও তার সমাধান

১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে শোবিজ তারকারা বলেছেন নিজ এলাকার তিনটি সমস্যার কথা, দিয়েছেন পরামর্শও

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার সমস্যা ও তার সমাধান

আবুল হায়াত

বসবাস : কাকরাইল, সার্কিট হাউস রোড

সমস্যা

১. যানজট।

২. অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে।

৩. শান্তিনগর বাজারে যেতে একটা ওভারব্রিজ খুব দরকার।

 

পরামর্শ

রাস্তা খোঁড়া নিয়ে কারো কোনো কো-অর্ডিনেশন নেই। যার যখন খুশি মাটি কেটে রাস্তা মেরামত করা শুরু করে, পাইপ বা খুঁটি বসানো শুরু করে। ভালো রাস্তা, সকালে উঠে দেখি কেটেকুটে যার যা দরকার করছে। আমরা অনেক কিছুই দেখি; কিন্তু মেয়ররা সেটা দেখেন না। বিদেশে দেখেছি, কখন রাস্তা কাটে সেটা কেউ টেরই পায় না। গভীর রাতে কেটে ভোর বেলার আগেই সেটা ঠিক করে ফেলে। প্রায়ই দেখি ফুটপাত নিয়ে এক ধরনের খেলা হয়। যখন খুশি তখন ফুটপাতের টাইলস উঠিয়ে ফেলা হয়। একবার চিকন আবার মোটা করা হয়। আইল্যান্ড ভাঙা-গড়াটা পৌরসভার একটি নিত্যনৈমিত্তিক খেলা। আইল্যান্ডে যে গাছপালা লাগানো হয়—এগুলোর যত্নও কেউ নেয় না।

কুমার বিশ্বজিত্

বসবাস : উত্তরা

সমস্যা

১. পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা নেই। 

২. ক্রমেই উত্তরার সবুজ পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে।

৩. রেগুলার ময়লা পরিষ্কার করা হয় না। মানুষের মধ্যেও এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা কম। শুধু নিজের ঘরকেই ঘর মনে করে, বাকি সব যেন ডাস্টবিন।

 

পরামর্শ

যাঁরা বাইরে গিয়েছেন তাঁরা নিশ্চয়ই দেখেছেন, একটা সিটিতে লাইটের ব্যবস্থা থাকে কতটা! সিসি ক্যামেরা ঘেরা থাকে। ফায়ার হাইড্র্যান্ট একটা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোথাও আগুন লাগলে সেটা তাড়াতাড়ি নিষ্কাশন করা যায় হাইড্র্যান্টের মাধ্যমে। এলাকায় ইমার্জেন্সি কিছু সিকিউরিটিম্যান রাখা উচিত, যাদের কল দিলেই তাত্ক্ষণিক এগিয়ে আসতে পারে। মেডিক্যাল, ফায়ার সার্ভিস, আইনগত সাহায্যে তারা যেন তাত্ক্ষণিক এগিয়ে আসতে পারে। ঢাকা শহরে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ২০ শতাংশ বাড়ি আছে কি না সন্দেহ। এগুলো হয় ভাঙবে, না হয় জরিমানা নেবে।

গাড়ি রাখার জায়গা নেই; কিন্তু জরিমানা করা হয়। উত্তরার প্রতিটি রাস্তা দখল করে রাখে গাড়ি। কারো কিছু বলার নেই। ক্যান্টনমেন্টে গাড়ি নিয়ে ঢুকলে কিন্তু সবাই সচেতন হয়ে যায়! আর কত বছর অপেক্ষা করলে একটি শহর সাজানো-গোছানো হবে?

 

মেহের আফরোজ শাওন

বসবাস : ধানমণ্ডি

সমস্যা

১. পুরো ধানমণ্ডির রাস্তায় জ্যাম।

২. আমার এলাকায় হাঁটার রাস্তা নেই।

৩. যত্রতত্র পার্কিং। ফুটপাতে দোকান, মোটরসাইকেলও চলে। ধানমণ্ডি যে আবাসিক এলাকা সেটা বোঝার উপায় নেই।

 

পরামর্শ

যাঁরা নগরপিতা হতে যাচ্ছেন বা নগরপিতা ছিলেন—তাঁরা সবাই জানতেন কিভাবে কী করা যায়। কী করলে স্বস্তি ফিরতে পারে। কিন্তু সমাধান করতে পারবেন কি না এটাই তাঁদের চ্যালেঞ্জ। আমি থাকি ধানমণ্ডিতে, অফিস গুলশানে। আগে গুলশান যেতে ব্যবহার করতাম সাতরাস্তা থেকে ট্রাক স্টান্ড রোড। সাবেক মেয়র আনিসুল হক সাহেব ওই রাস্তাটা পুরো পরিষ্কার করেছিলেন। ওটা আবার আগের অবস্থায় চলে গেছে। মেয়রদের হতে হবে ডিক্টেটর টাইপের। আমরা নিয়ম মানি না, আমাদের মানতে বাধ্য করতে হবে। এটাও তাঁদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

অনুলিখন : মীর রাকিব

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা