kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

যেমন আছেন সাবা

পর্দায় তাঁকে খুব একটা পাওয়া যাচ্ছিল না। কী করছেন? কী ভাবছেন? কেমন আছেন সোহানা সাবা? জেনেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন কামরুজ্জামান জুয়েল

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেমন আছেন সাবা

গত বছর জুলাইয়ে ‘আব্বাস’ মুক্তির সময় সাবাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনো সাংবাদিকের সঙ্গেও কথা বলেননি। এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। কী হয়েছিল? ‘যে সিনেমাটির নাম নিলেন, সেটি আমার লাইফে ঘটেছে, এটাই মনে করতে চাই না। ছবিটা করে আমি আসলে প্রতারিত হয়েছি। ওটা নিয়ে আমি কথাই বলতে চাই না, আমলেও নিতে চাই না। এ কারণেই ছবিটি মুক্তির সময় আমি কারো সঙ্গে কথা বলিনি’, বললেন সাবা।

গত বছরটা একেবারেই ভালো যায়নি সাবার। বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত হোসেন মারা গেছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করেছেন দেশ-বিদেশে। সাবার ব্যবসার কাজটাও তেমন ভালো যায়নি। তবে এ বছরটা নতুন করে সাজাচ্ছেন। ‘অনেক খারাপ সময় গেছে আমার। কিন্তু গত বছরটা ছিল সবচেয়ে খারাপ। এমন একটা বছর ভুলে যেতে চাই’, বলেন সাবা।

সব কিছু নতুন করে সাজাচ্ছেন। চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আফজাল হোসেনের ছবি ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’য়। ২৭ জানুয়ারি থেকে উত্তরায় হবে প্রথম লটের শুটিং। সাবা বলেন, ‘এখানে আমার সঙ্গে ফেরদৌস ভাইয়া আছেন। তা ছাড়া আফজাল ভাইকে নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। সব মিলিয়ে আমরা একটা ভালো ছবি দর্শকদের দিতে যাচ্ছি। এ ছাড়া কলকাতায় একটি ছবি করব। এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। কারণ ক্যামেরার সামনে এখনো দাঁড়াইনি। যেদিন দাঁড়াব, সেদিন থেকে বলব ছবিটি নিয়ে। তবে এতটুকু বলতে পারি, বেশ ভালো হবে ছবিটা।’

টিভি নাটক এখন একেবারেই করতে চাইছেন না। তবে দীপ্ত টিভির ধারাবাহিক ‘মধ্যবর্তিনী ২’-এর প্রচার শুরু হবে শিগগিরই। সাবা বলেন, ‘খুব স্পেশাল কিছু না হলে আমি ধারাবাহিক করি না। দীপ্ত টিভির ইনহাউস প্রডাকশন ‘মধ্যবর্তিনী’ করেছিলাম, দর্শক খুব পছন্দ করেছিল। এ কারণেই দ্বিতীয় সিজনটা ওরা করেছে। সিরিয়াল যে মানুষ এখনো দেখতে চায়, সেটা এ সিরিয়াল দিয়ে নতুন করে বুঝলাম।’

এ বছর নতুন কিছু করতে চান বলেছিলেন, কী সেটা?—‘ওয়েব সিরিজ’। সিরিজটির গল্প তাঁরই লেখা—‘টুইন রিটার্ন’। ‘আমি অভিনয় করছি এটা কনফার্ম। পরিচালনা করবেন আরেকজন। এখনই সব কিছু বলতে চাচ্ছি না। এখানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতেরও কিছু শিল্পী অভিনয় করবেন’, বলেন সাবা।

সাবার লেখা নাটক ১৩-১৪ বছর আগেই প্রচারিত হয়েছে। তাঁর পরিচালনায়ও ৮-৯ বছর আগে প্রচারিত হয়েছে নাটক। ‘টুইন রিটার্ন’-এর গল্পটা লিখেছিলেন ২০১৩ সালের দিকে। ‘এখানে বাজেটটা একটু বেশি লাগবে। এটা আসলে তখনকার প্রেক্ষাপটে টেলিভিশনগুলো এফোর্ট করতে পারত না। তাই তখন নির্মাণ করিনি। প্রধান চরিত্র করব, তাই ডিরেকশনও দিতে চাচ্ছি না। শুটিং করব ফেব্রুয়ারি থেকে। তার আগে একটা অনুষ্ঠান করে বিস্তারিত জানাব’, বলেন সাবা। 

‘তারকালয়’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মে অনেক দিন ধরে করছেন ‘আড্ডা উইথ সোহানা সাবা’। সেটার শুটিংয়ে বসেই কথা বলছিলেন। রবি ও এয়ারটেলের গ্রাহকরাই শুধু দেখতে পারে এই শো। সব মিলিয়ে কাজ কি একটু কম করছেন? ভ্রু কুঁচকালেন সাবা, বললেন—‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শুনে আসছি এটা। আমি একটু চুজি তো, অবশ্য এ কারণেও বলে অনেকে।’ একটু থেমে সাবা বলেন, “সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানেন? দুই বা তিন মাস পর হয়তো কোনো একটা দেশে বেড়াতে গেলাম। দেশে ফিরলেই মানুষ ফোন দিয়ে বলা শুরু করবে, তুমি কি দেশে? অনেক চ্যানেল। সবটায় আমি মুখ দেখাই না বলেও হয়তো মানুষ বলে কাজ কম করি। আমি তো আমার পা ভাঙার নিউজ মানুষকে দিতে চাই না। এ জন্য হয়তো মিডিয়ায় আমার অনেক বেশি নিউজ আসে না। তা ছাড়া দুটি একক নাটক করব, তারও বা নিউজ করার কী আছে! আমি সব সময়ই নতুন খবর দিতে চাই। ‘তিন নাটকে সাবা’—আমাকে নিয়ে এমন নিউজ করারও কোনো মানে নেই।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা