kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

নূ ত নে র কে ত ন

এক হিমুর কথা

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন, তবু তিনি এখনো নতুন। কারণ দর্শক সবে তাঁকে চিনতে শুরু করেছেন। উজ্জ্বল কবির হিমুকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক হিমুর কথা

টিভি খুললেই চোখে পড়ে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র। সমুদ্রে মাছের ট্রলারে জেলেরা মাছ ধরছে। এক জেলের মোবাইলে ফোন করে তার ছেলে। পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছে সে। খবরটা ট্রলারের সবাইকে জানায় জেলে। জেলে সর্দার সিদ্ধান্ত জানায়, সবচেয়ে বড় যে মাছটা ধরা পড়বে, সেটা তুলে রাখতে হবে এ প্লাস পাওয়া ছেলেটির জন্য। বিজ্ঞাপনে ছেলের বাবারূপী হিমু এখন বেশ জনপ্রিয়। নিজেই বললেন সে কথা, ‘রাস্তায় দেখলে রিকশাওয়ালারাও এখন জড়িয়ে ধরে। এমন ঘটনা আগে কখনো হয়নি। এই সেদিনের কথা, রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, এক রিকশাওয়ালা আমাকে বলে, জেলের পোলা জেলে!’

এই যে হিমুকে এখন লোকে চেনে, আগ্রহ নিয়ে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চায়—এসব কিন্তু এক দিনে হয়নি। টানা আট বছর মঞ্চে কাজ করেছেন, সুবচন নাট্য সংসদে। ‘রূপবতী’, ‘রাষ্ট্রগ্রাম’, ‘খনা’—দলের এসব নাটকে তাঁর অভিনয় ছিল প্রাণবন্ত। করেছেন পথনাটকও। প্রথমবার টিভিতে মুখ দেখান ২০০৬ সালে, সুমন আনোয়ারের নাটক ‘দূর পাহাড়ের বাতাসেরা’য়। প্রথমবার মডেল হলেন অমিতাভ রেজার ‘সংগীত হকার্স’ বিজ্ঞাপনচিত্রে। পরে বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, রবি, বিকাশের আলোচিত বিজ্ঞাপনেরও মডেল হয়েছেন। কাজ করেছেন সময়ের আলোচিত প্রায় সব বিজ্ঞাপননির্মাতার সঙ্গেই। তবে সর্বশেষ বিজ্ঞাপনচিত্রটি হিমুকে দিয়েছে নতুন উচ্চতা। এটি নির্মাণ করেছেন আবরার আতাহার।

একটা সুখবর দিলেন হিমু, শিগগিরই বড় পর্দায় তাঁকে নায়করূপে দেখা যাবে। মোহাম্মদ কাইয়ুমের ছবিটির নাম চূড়ান্ত না হলেও শুটিং প্রায় শেষ। গেল সপ্তাহেই হাওরে শুটিং করে এসেছেন। ‘প্রায় ১৬ মাস ধরে মাত্র ৩৩ দিন শুটিং করেছি আমরা। কারণ শুটিং করতে হবে বর্ষার মৌসুমেই। আরো পাঁচ দিনের শুটিং বাকি। ছবিতে আমার নায়িকা জয়িতা। এ বছরই ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা’—বললেন হিমু।

আগে ‘আয়নাবাজি’, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’, ‘ছিটমহল’, ‘দেশা দ্য লিডার’-এর মতো আলোচিত ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। প্রথমবার নায়ক হচ্ছেন, স্বভাবতই হিমু খুশি। আরো খুশির খবর আছে, প্রথম ছবি মুক্তির আগেই এ সপ্তাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জুয়েল রানার ‘ধোঁয়া’য়। গ্যারেজে কাজ করে দুই ছেলে, তাদের প্রেমের গল্প। এখানে দুই নায়কের একজন হিমু।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে। মাধ্যমিক পাস করার পরই চলে এসেছেন ঢাকায়। তার পর থেকেই সমান্তরালে চলছে পড়াশোনা আর অভিনয়। মঞ্চ থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন। কারণটাও জানালেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে মঞ্চে নেই। সত্যি বলতে, এখানে নিজেদের মধ্যে এতটা গ্রুপিং হয়ে গেছে যে কাজ করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া শোবিজের কাজ নিয়েও কম ব্যস্ততা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা