kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সেই সব গান

চলছে স্টেজ শোর মৌসুম। স্টেজ শোতে ঘটে মজার মজার ঘটনা। কখনো কখনো একই শোতে একই গান একাধিকবার গাইতে হয় শিল্পীদের। তেমনই কিছু গানের খবর নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

মো. খুরশীদ আলম   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই সব গান

সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে আমার এমন ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানটি ছিল একটি স্কুলের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। সাধারণত আমি কোনো অনুষ্ঠান শুরু করি আমার প্রথম প্লেব্যাক ‘আগন্তুক’ ছবির ‘বন্দি পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে’ দিয়ে। সে অনুষ্ঠানেও তাই করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এসপি সাহেব এলেন। তিনি বললেন গানটি করার জন্য। যখন বললাম সেটা করে ফেলেছি। তিনি বললেন, ‘গানটি আমার অনেক পছন্দের। আপনি করেছেন, আমি তো শুনিনি।’ অনুরোধ করেন আবার গাওয়ার জন্য। গাওয়ার পর তিনি খুব খুশি হন। অন্য শ্রোতারাও মন দিয়ে শোনেন। ‘চুমকি চলেছে একা পথে’র ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে এমনটি হয়। একটি গানের প্রতি শ্রোতার ভালো লাগা থেকেই এ অনুরোধগুলো আসে। শিল্পীর জন্যও এটা নিশ্চয়ই আনন্দের!

 

এস ডি রুবেল

একই স্টেজ শোতে একই গান দুইবার করার অভিজ্ঞতা আমার বেশ কয়েকবার হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন স্টেজ শোতে ‘লাল বেনারসি’, ‘আমার একটা সাথি ছিল দেশের বাড়িতে’ এবং ‘অনেক বেদনা ভরা আমার এ জীবন’ গানগুলো দুইবার করে গাইতে হয়েছে। একজন শিল্পী মূলত একই গান একাধিকবার না করে সেখানে আরেকটি গান শ্রোতাদের শোনাতে চায়। কিন্তু যখন শ্রোতারা প্রচণ্ড ভালোবাসা থেকে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন সেটাকে উপেক্ষা করা যায় না। কারণ শ্রোতার জন্যই শিল্পী। শ্রোতাদের সেই অনুরোধের মূল্যায়ন করতে গিয়ে এই তিনটি গান বিভিন্ন স্টেজে দুইবার করে গেয়েছি। এর মধ্যে শিল্পী-শ্রোতা উভয়েই অন্য রকম একটা আনন্দ খুঁজে পান!

 

জুলি

একই স্টেজে দুটি গান দুইবার করে গাওয়ার কথা মনে আছে আমার। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৭ সালের থার্টিফার্স্ট নাইটে। সেবার ক্যাডেট কলেজ ক্লাব ঢাকার অনুষ্ঠানে গান করছিলাম ভাইয়া [বালাম] আর আমি। ‘প্রেমের ধুন’ ও ‘লুকোচুরি’ গান দুটি ভাইয়ার একক হলেও স্টেজে ভাই-বোন মিলে করেছিলাম। একবার গাওয়ার পর শ্রোতারা আবারও অনুরোধ করতে লাগলেন গান দুটি শোনার জন্য। শ্রোতারা এতই জোর আবদার করছিলেন, গান দুটি আবারও করতে হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি গত ২০ নভেম্বরের। শোটি ছিল সিলেটে। সেখানে ভাইয়া আর আমার দ্বৈত গান ‘ভালোবাসার উত্সবে’ গাওয়ার পর শ্রোতারা অনুরোধ করার পর আবারও করতে হয়। একই শোতে ভাইয়ার ‘প্রেমের ধুন’ গানটিও দুজন মিলে দুইবার করি।

 

কোনাল

বছর তিনেক আগে বুয়েটের অডিটরিয়ামে ইউএনডিপির একটি অনুষ্ঠানে জীবনে প্রথমবারের মতো একই গান দুইবার করতে হয় আমাকে। এটি ছিল একটি আরবি গান। শিরোনাম ‘বিন্ত-ইল-শালবিয়া’। গানটির সঙ্গে একটি নাচ আছে। আমি গানের তালে তালে সেই নাচটিও করি। ফলে পুরো পরিবেশনাটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা খুব উপভোগ করেন। সবাই অনুরোধ করেন গানটি আবার করতে। আবারও সবাই গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। গানটির মূল শিল্পী লেবানিজ গায়িকা ফাইরুজ। তবে প্রথম শুনেছি রুনা লায়লার কণ্ঠে, খুব ছোটবেলায়। এত ভালো লাগে যে তখনই শিখে ফেলি। স্টেজের পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি লাইভেও গানটি করি। তবে একই অনুষ্ঠানে দুইবার গাওয়ার অভিজ্ঞতা সেবারই প্রথম হয়েছিল। আমার নিজেরই খুব প্রিয় গান এটি।

 

কর্নিয়া

প্রায় ৯ বছর আগের কথা। আমি তখন প্রথম প্রথম গান করি। তখনো ‘পাওয়ার ভয়েস’ শুরু হয়নি। অনুষ্ঠানটি ছিল বনানীর চেয়ারম্যানবাড়িতে। তখন মমতাজ আপার কণ্ঠে রাজ্জাক দেওয়ানের ‘আমার ঘুম ভাঙাইয়া গেল গো মরার কোকিলে’ চারদিকে বেশ জনপ্রিয়। সে অনুষ্ঠানের শেষ গান হিসেবে গানটি ধরি। সবাই নেচে-গেয়ে খুব উপভোগ করে। গানটি শেষ হওয়ার পরই সবাই চিত্কার করে বলতে থাকে এটি আবার গাইতে হবে। আবার গাইলাম। এর পরও সবার একই কথা। আবার গাইতে হবে! আমি বললাম, একই গান আর কতবার গাইব! অনুষ্ঠান তো শেষ। কিন্তু উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা সেটা মানলেন না। আবারও গাওয়ার অনুরোধ করলেন। তৃতীয়বারের মতো গাইলাম। আবারও সবাই অনুরোধ করতে লাগলেন। এবার আর গাইনি! এমন ঘটনা জীবনে আর কখনো ঘটেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা