kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ওপারের দিদি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে একের পর এক শো করছেন অপু বিশ্বাস। তাঁর শো মানেই মাঠভর্তি দর্শক, আয়োজকদের লগ্নি উঠে আসা। সেখানে অপুর এত জনপ্রিয়তার কারণ কী? জেনেছেন সুদীপ কুমার দীপ

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওপারের দিদি

মাহিয়া মাহি ও নুসরাত ফারিয়াকে পশ্চিমবঙ্গের দর্শক ভালো করেই চেনে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় এবং টালিগঞ্জের দুই-একটি ছবিও করেছেন তাঁরা। তাঁদের চেনারই কথা সেখানকার দর্শকের। অপু বিশ্বাস কখনোই যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করেননি। যদিও ‘শর্টকাট’ নামে গত বছর টালিগঞ্জের একটি ছবি করেছিলেন; কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে এখনো সেটি আলোর মুখ দেখেনি। অথচ কী অবাক কাণ্ড! পুরো পশ্চিমবঙ্গ ও আসামজুড়ে রয়েছে অপুর হাজার হাজার ভক্ত। একের পর এক শো করে চলেছেন সেখানে। চলতি মাসেই চারটি শো হওয়ার কথা। ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি আসাম ও মেদিনিপুরে করেছেন দুটি শো। বাকি শো দুটি ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে। কিভাবে তৈরি হলো তাঁর এই চাহিদা? ‘আমি নিজেই হতবাক হয়ে যাই। সেখানে আমার কোনো এজেন্ট নেই, নেই কোনো ব্যক্তিগত সহকারীও। তবু আয়োজকরা কোথা থেকে যেন আমার নম্বর জোগাড় করেন, ফোন দেন শোতে অংশ নেওয়ার। মাঝে মাঝে ভাবি কিভাবে সম্ভব! বিশ্বাস করেন, চাইলে এ মাসেই আরো কয়েকটি শো নিতে পারতাম। আয়োজকরা যোগাযোগও করছেন নিয়মিত। বেছে বেছে কাজ করব বলেই তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছি’, বললেন অপু।

পশ্চিমবঙ্গের ভক্তরা অপুকে ‘দিদি’ বলে ডাকে। তিনি মঞ্চে উঠলেই ‘দিদি, দিদি’ রোল পড়ে যায়। বিষয়টি বেশ উপভোগ করেন ‘রাজনীতি’ অভিনেত্রী। আর তাই ভক্তদের ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করেন প্রতিটি শো। বলেন, “আমি বাংলাদেশ ও ভারতের শোগুলোর মধ্যে কয়েকটি জায়গায় পার্থক্য পেয়েছি। বাংলাদেশের দর্শক আমাকে পেলে যতটা উচ্ছ্বসিত হয়, তারও দ্বিগুণ উচ্ছ্বসিত হয় পশ্চিমবঙ্গ বা আসামের দর্শক। একবার এক দর্শককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমাকে দেখে এত উচ্ছ্বসিত হওয়ার কী কারণ? তিনি জানান, বাংলাদেশের দর্শক চাইলেই আমাকে পায়। আমি তাদের ঘরের মেয়ে। কিন্তু ভারতে আমি অতিথি, আমাকে পেতে এক বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয় অভিনেত্রীকে পেলে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ একটু আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক।’

পশ্চিমবঙ্গের শোগুলোর বেশির ভাগ যে বড় শহর বা মফস্বল শহরে হয় তা নয়। কোনো কোনো শো হয় একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ১৭ জানুয়ারির শোটি ছিল মেদিনিপুরের তেমনি এক অঞ্চলে। না চলে ট্রেন, না আছে বিমান। মাইক্রোবাসে টানা চার ঘণ্টা জার্নি করে পৌঁছেছেন সেখানে। আসার সময়ও লেগেছে সমান সময়। তবে সেটি নিয়ে খুব একটা মন খারাপ হয় না অপুর। স্টেজের সামনে যখন হাজার হাজার দর্শক ‘দিদি’ বলে চিত্কার করে ওঠে, তখন সব ভুলে যান। বলেন, ‘আমি সাধারণত আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে আগেই ঠিক করে রাখি কতক্ষণ স্টেজে থাকব, কী কী করব। হয়তো কোথাও শুধু নাচব, কোথাও গান করব বা ছোট ছোট সংলাপ বলব। স্টেজে থাকব বড়জোর আধঘণ্টা। কিন্তু কখন যেন নিজের অজান্তে নাচ, গান, সংলাপ এবং দর্শকের সঙ্গে কথা বলে ঘণ্টা কাটিয়ে দিই বুঝতে পারি না।’

একবার অপু এক আয়োজককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আসামে তাঁর এত ভক্তের কারণ কী? অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক তাঁকে এক হাইওয়ের ধাবায় নিয়ে যান। গিয়ে দেখেন ধাবার এক টিভিতে চলছে অপু বিশ্বাস অভিনীত বাংলাদেশের ছবি। অপুকে হঠাত্ দেখে জড়ো হয়ে যায় অনেক মানুষ। অপুকে এভাবে সামনে দেখে বিশ্বাসই করতে পারেনি তারা। প্রিয় অভিনেত্রীকে কিভাবে খাতির করবে সেটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই। অপুর অভিনয়জীবনে এটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বললেন অপু নিজেই।

খুব শিগগির অপু বিশ্বাসের নতুন ছবি ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ মুক্তি পাবে। ছবিটিকে তিনি কামব্যাক করার পুঁজি মনে করছেন। কারণও ব্যাখ্যা করলেন, ‘অনেক দিন পর পর্দায় ফিরছি। দর্শক এমনিতেই মুখিয়ে আছে নতুন অপুকে দেখতে। প্রথমবারের মতো জুটি হয়েছি বাপ্পীর সঙ্গে। আমাদের পর্দায় কেমন লাগবে সেটাতেও আগ্রহ আছে অনেকের। তা ছাড়া পরিচালক হিসেবে দেবাশীষ বিশ্বাস এবং ছবির নাম তো একটা ব্যাপারই। আমার মনে হয় এই ছবি দিয়ে দারুণভাবে ফিরতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা