kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কেমন জুরিবোর্ড চাই

বলেও কি লাভ হয়?

মোরশেদুল ইসলাম চলচ্চিত্রকার ও সাবেক জুরিবোর্ড সদস্য

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে





বলেও কি লাভ হয়?

জুরিবোর্ডে অনেকেই আছেন যাঁরা আধুনিক সিনেমার কিছুই বোঝেন না। আধুনিক চলচ্চিত্রের ভাষার সঙ্গে তাঁদের তেমন পরিচয় নেই। চলচ্চিত্র যে কোথায় এগিয়ে গেছে সেই ধারণা নেই তাঁদের। এসব কারণে সঠিক বিচারটা হচ্ছে না। এ বছর অনেক ভালো ছবি থাকা সত্ত্বেও কিছু নিম্নমানের ছবিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এটা খুব দুঃখজনক। কয়েক বছর ধরেই আরেকটা প্রবণতা দেখছি যেটা হাস্যকর, আগেও বলেছি। জুরিবোর্ডে যাঁরা থাকেন তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পুরস্কৃত করেন। এটা একমাত্র বাংলাদেশেই ঘটে। সংগীত বোঝেন, চিত্রগ্রহণ বোঝেন, সম্পাদনা বোঝেন—জুরিবোর্ডে সব সেক্টরের লোকজনকেই রাখা হয়। আবার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লোকজনও থাকেন। মানুষগুলো যদি একটু আধুনিক মনস্ক হন, চলচ্চিত্রের ভাষা সম্বন্ধে জানেন তাহলে বিচারকার্য অনেক ভালো হবে। সরকারি লোকজন জুরিবোর্ডে রাখার কোনো মানেই দেখি না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো এক বিভাগের মহাপরিচালক, তিনি চলচ্চিত্রের কী বোঝেন! জুরিবোর্ড তো চলচ্চিত্রের মান যাচাই করবে, নন্দনতত্ত্ব যাচাই করবে। চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি বিষয়ে তার ধারণা থাকার তো কথা নয়। আমাদের এখানে এখন অনেক তরুণও ভালো বোঝেন চলচ্চিত্র। এমন কথা নেই যে তাঁর অনেক দিন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে হবে, না হয় সরকারি যোগ্যতা থাকতে হবে। তাঁর নিজের ছবি না থাকলেই হলো। ছবি বুঝুক বা না বুঝুক বোর্ডে সব সময় সিনিয়র লোকজন রাখতেই হবে, এই প্রবণতাও ঠিক নয়। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি রাখতে হবে, সেটাও ঠিক নয়। এগুলো ছাড়া এ দেশে জুরিবোর্ড সম্ভব কি না জানি না। কোনো দিন হবে কি না তা-ও জানি না।

ধরুন, চিত্রগ্রহণে পুরস্কার দেওয়া হবে। জুরিবোর্ডের ১৫ জন ভোট দেবেন। বোর্ডে হয়তো একজনই আছেন যিনি চিত্রগ্রহণ বিষয়টা ভালো বোঝেন, কিন্তু ভোট তো বাকি ১৪ জনও দেবেন! ১৫ জনের সবার যদি চলচ্চিত্রের সব শাখা সম্বন্ধে ন্যূনতম জ্ঞান না থাকে তাহলে কিভাবে হবে! আমি এখনকার অনেক পরিচালকের কাজ দেখেছি। হয়তো গল্পটা আমার অতটা ভালো লাগেনি, কিন্তু চিত্রগ্রহণ দুর্দান্ত। সিনেমাটি আর কোনো শাখায় না পাক তার তো সিনেমাটোগ্রাফিতে পাওয়া উচিত, কিন্তু সেটা আমরা দিতে পারি না। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এমনও কিছু সদস্য থাকেন বোর্ডে যাঁরা বলে, সম্পাদনা মানে কী, এ পুরস্কারটা কী হিসেবে দিচ্ছি? ওইখানে আর কী-ই বা বিচার হতে পারে! তাঁদের ভোট তো আমাদের ভোটেরই সমান। এসব কথা বলতে চাই না, কিন্তু না বলেও থাকতে পারি না। বলে যে খুব একটা লাভ হবে তা-ও মনে হয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা