kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

কেমন হওয়া চাই

রবিবার বিজয়ীদের হাতে দুই বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় পুরস্কার নিয়ে অসন্তোষের অন্ত নেই। কী করলে এই পুরস্কার আরো গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে পূর্ণ পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজন

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেমন হওয়া চাই

২০১৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান শেষে পুরস্কারজয়ীদের একাংশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তাঁদের পরামর্শ

 

চলচ্চিত্রের মানুষ বাড়াতে হবে

সোহেল রানা

অভিনেতা ও প্রযোজক-পরিচালক

চার বছর হলো জাতীয় পুরস্কার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। এবারও দুই বছরের পুরস্কার একসঙ্গে দেওয়া হলো, কেন বছরেরটা বছরে দেওয়া যাবে না? একই সময়ে দুটি প্রগ্রাম রাখা হলো প্রধানমন্ত্রীর—জাতীয় পুরস্কার ও বিপিএলের উদ্বোধন। দুটোই বড় প্রগ্রাম। উনিও তো মানুষ। এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটো প্রগ্রাম থাকায় প্রধানমন্ত্রীও খুব বেশি সময় দিতে পারেননি। জুরিবোর্ডে এমন অনেকেই আছেন, বলা যায় তাঁদের সিনেমায় আমরা এনেছি। আমরা তো জানি তাঁদের দক্ষতা। তাঁদের সিলেকশন নিয়ে বিতর্ক যা হচ্ছে তা স্বাভাবিকই লাগে। যেকোনো পুরস্কারে সবাইকে শতভাগ খুশি করা যায় না, কিন্তু আকাশ-পাতাল ডিফারেন্স হলে বিতর্ক হবেই। এসব ব্যাপারে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করে না সরকার। সিনিয়রদের জুরিবোর্ডের উপদেষ্টা রাখা যেতে পারে। এতেও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ৪৫ বছর ফিল্মে অভিনয় করেছি, সেই দাবি নিয়ে একটাই দাবি তুলছি, জাতীয় পুরস্কারে চলচ্চিত্রের মানুষ বাড়াতে হবে।

 

 

একসঙ্গে কেন দুই বছরের পুরস্কার দিতে হবে?

তৌকীর আহমেদ অভিনেতা ও পরিচালক

জাতীয় পুরস্কার নিয়ে আগেও বলেছি, কিন্তু সেটা নেতিবাচকভাবেই নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমি কী বলতে চাচ্ছি, সেটা যদি তারা বুঝত তাহলে হয়তো নতুন করে কিছু বলতে ভালো লাগত। প্রথমত, একসঙ্গে কেন দুই বছরের পুরস্কার দিতে হবে? অবশ্য এই সেশনজট আগের চেয়ে এখন অনেক কমেছে। জাতীয় পুরস্কারের সম্মানীও বেড়েছে। এগুলো ভালো দিক। সিনেমা একটা জটিল শিল্প। অনেক শিল্প এখানে জড়িত। তাই জুরিবোর্ডের ওপর থাকে গুরুদায়িত্ব। দায়িত্বটা বোর্ড কিভাবে পালন করছে? বোর্ড সদস্য ভালো শিল্পী হতে পারেন, অনেক ভালো পরিচালক হতে পারেন। কিন্তু এখানে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। সেটা অনেক সময়ই হয় না। তাইতো এত সমালোচনা।

 

কিছু সমালোচনা অহেতুকও হয়

 

অমিতাভ রেজা

চলচ্চিত্র পরিচালক

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিটিভি, এটা দেখতে পাড়ার গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের মতো লাগে। এসব কাজে দক্ষ মানুষ দরকার হয়। জুরি থেকে শুরু করে সেন্সর—সব ধরনের বোর্ডেই সরকারের সঙ্গে আঁতাত করা মানুষজনই চারপাশ ঘিরে রাখে। তাদের কথাই মূল্য পায় বেশি। কিছু সমালোচনা অহেতুকও হয়। মোশাররফ করিমকে কমেডিতে পুরস্কার দিয়েছে, এটা তো জুরিবোর্ডের সমস্যা নয়। হয়তো তাদের কাছে পাঁচজন কৌতুক চরিত্রের অভিনেতার নামের তালিকা গেছে। পাঁচজনের মধ্যে মোশাররফকে তাদের ভালো লেগেছে, তাঁকেই দিয়েছে। জুরিবোর্ড স্ট্রং হলে ছবির চরিত্রটা বিশ্লেষণ করে বলত, এটা কেন দিয়েছে। উল্টো প্রশ্ন করত। এখানে অনেক পলিসির ব্যাপার আছে, কোনটা রেখে কোনটা ঠিক করতে হয় সেটা বাইরে থেকে আমাদের মাথায় ঢুকবে না। আমরা সাদা চোখে পুরস্কার দেখি আর জুরিবোর্ড নিয়ে কথা বলি। তাদের কোনো বিধিনিষেধ পালন করতে হয় কি না, তা তো জানি না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা