kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

দেশাত্মবোধক ৫ গানের গল্প

সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানের সংখ্যা অনেক। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে সেখান থেকে পাঁচটি গানের গল্প বলেছেন তিনি। শুনেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশাত্মবোধক ৫ গানের গল্প

জন্ম আমার ধন্য হলো

 

১৯৭০ সালে গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল পাকিস্তানের করাচিতে। গানটির সুরকার আজাদ রহমান ভাই, গীতিকার নঈম গহর, ফিরোজা আপাসহ [বেগম] সেখানে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। তখনই গানটি রেকর্ড করা হয়। গেয়েছিলাম আমি আর ফিরোজা আপা, সঙ্গে কিছু কোরাস। গানটি এত আগে করা হলেও যুদ্ধের পরিবেশের সঙ্গে ভীষণভাবে মিলে যায়! ’৭১ সালে গানটি মুক্তিযোদ্ধাদের কতখানি অনুপ্রেরণা দিয়েছে সেটা অনেক শুনেছি। রেডিওতে অনেক বেজেছে। এই গান একটা ইতিহাস। নঈম গহর ভাই এত সুন্দর করে লিখেছেন, সুরটা এত অপূর্ব কিন্তু খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে একটা লম্বা টান—‘তুমি আমার খেলার পুতুল’ এটাকে খুব ভয় পেয়েছিলাম। দুই অন্তরায় এমন দুটি লাইন ছিল। কিন্তু আজাদ রহমান ভাই বলেছিলেন, ‘তোমার কাছে কঠিন বলতে কিছু নাই। তোমার ওপর আমার ভরসা আছে।’ স্বাধীনতার পর একক কণ্ঠে টেলিভিশনে গাওয়ার পর এই ভার্সনটিও জনপ্রিয় হয়ে যায়।

 

ও আমার বাংলা মা তোর

এটা ১৯৭৪ সালের। আলাউদ্দীন আলী ভাইয়ের সুর। তিনি জীবনে প্রথম ছবির কাজ পেলেন। আমি তখন এলিফেন্ট রোডে থাকি। আলাউদ্দীন ভাই আমার বাসায় এলেন। বললেন, ‘আমি একটা ছবি পেয়েছি। কিন্তু প্রথম গানটিই দেশের গান।’ গানটির কথা ও সুর শুনে মুগ্ধ হয়ে যাই! ছয় ঋতুর বর্ণনা এত সুন্দর করে দিয়েছেন আবুল ওমরাহ মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন। যুদ্ধের সময় তিনি বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। একেক জায়গায় গিয়ে একেকটা অন্তরা লিখেছেন। আর সুরের তো কোনো জবাবই নাই।

 

একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার

এটা ১৯৭৮-৭৯ সালের। অজিত দা [রায়] রেডিওর ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের জন্য গানটি রেকর্ড করেছিলেন। অজিত দার সুরে গাওয়ার জন্য সব সময়ই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিলাম না। তিনি বললেন, ‘শোনো, আধুনিক গান তো এখনো করতে পারলাম না। চলো দেশের একটা গান করি।’ আমি রাজি হয়ে গেলাম। গানটি নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা। রেডিওতেই দুই-তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে রেকর্ডিং হলো। গাওয়ার পর শুনে অজিত দা এত খুশি হয়েছিলেন, আমাকে একটা চলোকেট ধরিয়ে দিয়েছিলেন। বললেন, ‘আর তো কিছু নাই এখন। এটা তুই খা।’ বললাম, ‘এটাই আমার জন্য অনেক বড় দোয়া।’ পরবর্তী সময়ে টেলিভিশনে গাওয়ার ফলে গানটি আরো বেশি জনপ্রিয় হয়েছে।

 

সব কটা জানালা খুলে দাও না

খুব সম্ভব ১৯৮০ সালে গেয়েছি। তখন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঙ্গে বিটিভির জন্য দেশাত্মবোধক গানের বেশ কিছু অনুষ্ঠান করেছিলাম। একেকটা অনুষ্ঠানে ৮-১০টি করে গান থাকত। এই গানটি বুলবুল আমার কাছে নিয়ে এলে কথা ও সুর শুনে অবাক বনে যাই। আমার পুরো শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। মনে হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের আত্মাগুলো উঠে এসেছে, দেশটা তাঁরা দেখছে। জিজ্ঞেস করার পর বুলবুল বলল, ‘কথা লিখেছেন নজরুল ইসলাম বাবু। তবে আইডিয়া দুজনেরই।’ বললাম, ‘অসম্ভব সুন্দর, অপূর্ব একটি গান!’ বুলবুল বলল, ‘আপনার যেহেতু পছন্দ হয়েছে, এর সঙ্গে আরো কয়েকটি গান মিলিয়ে বিটিভিতে একটা অনুষ্ঠান করে ফেলি।’ রেকর্ডিং হলো ঈপসা স্টুডিওতে। তখন যন্ত্রের সঙ্গে এক টেকেই সরাসরি গান রেকর্ডিং হতো। প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে ভয়েস দিয়েছিলাম। রেকর্ডিস্ট ছিলেন ঈপসার মালিক শাফাত আলী।

 

একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না

গানটি আমার খুব প্রিয়। কথাগুলো খুবই সুন্দর, একটু অন্য রকম তো বটেই। গানটির গল্প এমন—দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে আমার ভেতর থেকে সুর এমনিতেই চলে আসছে। একতারা, দোতারা, খঞ্জনি, বাঁশি কিছুই লাগে না। কথা লিখেছিলেন মনিরুজ্জামান মনির। সুর আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। যতদূর মনে পড়ে ১৯৮০ সালে বিটিভির যে অনুষ্ঠানে ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’ করেছিলাম সে অনুষ্ঠানে এই গানটিও ছিল।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা