kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আর নয় লুকোচুরি

দুই-তিন বছর পর পর চলচ্চিত্রে ফেরেন তিনি। এবার তো ফিরছেন চার বছর পর—রাকিবুল আলম রাকিবের ‘ইয়েস ম্যাডাম’-এ। কেন এই আসা-যাওয়া? সাবরিনা সুলতানা কেয়া জানিয়েছেন সেটা, লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আর নয় লুকোচুরি

২ ডিসেম্বর দুপুরের কথা। ইউনাইটেড হাসপাতালের করিডরে অপেক্ষা করছেন কেয়া। মায়ের ডায়ালিসিস করাতে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন তাঁর মা। সেই সঙ্গে আছে উচ্চ রক্তচাপ। পান থেকে চুন খসলেই অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন মাকে সুস্থ করতে খাওয়া-ঘুম থাকে না কেয়ার। পরিবারের একমাত্র ভরসা তিনিই। সাত ভাই, তিন বোনের মধ্যে তৃতীয় হলেও সেই ২০০৪ সাল থেকে একাই সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অবশ্য উপায়ও ছিল না, ‘সেই দিনটির কথা গত ১৫ বছরে এক দিনের জন্যও ভুলতে পারিনি। বড় ভাই, মা ও ছোট তিন বোন ছিলেন এক গাড়িতে। ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গাড়িটি। নিমিষেই কালো রাত নেমে আসে আমার পরিবারের ওপর। বড় ভাই স্পট ডেড। মা মারাত্মকভাবে দুই পায়ে আঘাত পান। টানা ছয় মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। ছোট তিন বোনও হয়েছিল গুরুতর জখম। বাবা এই ঘটনার পর ভেঙে পড়েন। ফলে আমি ছাড়া সংসারটা দেখভাল করার মতো আর কেউ ছিল না। ১৫টা বছর ধরে আমাকেই চালিয়ে নিতে হচ্ছে এই বড় পরিবারটাকে’, বললেন কেয়া।

১৯৯৮ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কঠিন বাস্তব’ দিয়ে শুরুটা। ২০০৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বেশ কয়েকটি ছবি হিট হয়েছিল। মান্না, আমিন খান, রিয়াজ, শাকিব খানসহ সমকালীন সব নায়কের নায়িকা হয়েছিলেন। অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাকের মতো অভিনেতা-পরিচালকের ছবিতেও। সেই কেয়াই কেন ক্যারিয়ারের সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছেন বারবার? শেষ ছবি ‘ব্ল্যাকমানি’ হিট করলেও কেন আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি?

পরিষ্কার করলেন নিজেই, “২০১৬ সালে হিটের তকমা পেয়েছিল ‘ব্ল্যাকমানি’। আমার হাতে রাতারাতি বেশ কয়েকটি ছবির প্রস্তাব আসে। হঠাৎ বাবা স্ট্রোক করেন। বাবাকে বাঁচানোর যুদ্ধে নেমে পড়লাম। সেই সময় কে কখন ফোন করেছেন, কার সঙ্গে দেখা করতে হবে, গল্প শুনতে হবে, শিডিউল মেলাতে হবে—কোনো দিকেই খেয়াল ছিল না। শুধু মনে হয়েছে বাবাকে মাথার ওপর ছায়া করে রাখতে পারলেই আমার চেষ্টা সার্থক। কিন্তু হলো না! পরের বছরই বাবা চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। আবারও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লাম। পর্দায় ফেরার ইচ্ছাটাই হারিয়ে গেল। অনেক পরিচালক ফোন দিয়েছেন গত দুই বছরে। বেশির ভাগ ফোনই রিসিভ করিনি। যাঁদের ফোন রিসিভ করেছি প্রত্যেককে বিনয়ের সঙ্গে আমার মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছি। তাঁরাও আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছিলেন।”

‘মনে বড় কষ্ট’ অভিনেত্রী এবার সিদ্ধান্ত বদলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে যা ঘটেছে, সেটা ভাগ্যে ছিল—তেমনটাই মানছেন। ফের মন দিতে চান চলচ্চিত্রে। চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রাকিবুল আলম রাকিবের ‘ইয়েস ম্যাডাম’-এ। কেয়ার ফেরার খবরে অনেক পরিচালকই তাঁকে নিয়ে ছবি করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কেয়া বলেন, ‘পর্দার পাশাপাশি বাস্তবেও আমাকে অভিনয় করে যেতে হবে। মনে যত কষ্টই থাকুক দর্শককে সেটা বুঝতে না দিয়ে নিয়মিত কাজ করতে হবে। ভক্তদের কথা দিচ্ছি, আর নয় লুকোচুরি, এখন থেকে আমাকে নিয়মিত পাবেন।’

‘ইয়েস ম্যাডাম’-এ কেয়াকে পুলিশের চরিত্রে পাওয়া যাবে। বেশ কিছু মারপিট দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে তাঁকে। ক্যারিয়ারে এটাই প্রথম লেডি অ্যাকশন ছবি। মারপিটে একেবারে আনকোরা। ২০ ডিসেম্বর শুটিং, তার আগ পর্যন্ত  প্রশিক্ষকের কাছে মারপিটের তালিম নেবেন। 

পারিবারিক ব্যবসাটাও দেখাশোনা করছেন। আগে থেকেই তাঁদের ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা। সেটাকে আরো বাড়িয়েছেন। করেছেন বুটিকসের একটি কারখানাও। আর বিয়ে? ‘বিয়ের কথা তো এখনো ভাবিনি! পরিবার সামলেই না এসব ভাবব? মাকে আগে সুস্থ করে তুলি তারপর দেখা যাবে’, বললেন কেয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা