kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

গান আর উপস্থাপনার দিঠি

ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ বিরতি নিয়েছিলেন দিঠি আনোয়ার। ১০ বছর পর ফিরে শুরু করেন উপস্থাপনা। এখন গান আর উপস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গান আর উপস্থাপনার দিঠি

দুই বছর আগে ‘আমরা সূর্যমুখী’র আয়োজনে জাতীয় জাদুঘরে একক সংগীতানুষ্ঠান করেছিলেন। দর্শক-আয়োজকদের ভালো লাগে দিঠির গান। এ বছর সংগঠনটি ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আবারও দিঠিকে আমন্ত্রণ জানায়। নিরাশ করেননি দিঠি। বলেন, ‘একই অনুষ্ঠানে দুইবার ডাক পাওয়া একজন শিল্পীর জন্য অনেক সম্মানের। দর্শক ও আয়োজকরা আমার গান পছন্দ করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এবারও দারুণ সাড়া পেয়েছি। অনেকেই দর্শক সারি থেকে অনুরোধের গান শুনতে চেয়ে চিরকুট পাঠিয়েছেন।’

দিঠির প্রতি অনেকের অভিযোগ, তাঁর নিজের গান কম। সেটি মানেন তিনি। তাই এ বছর মৌলিক গান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বছর দুটি চলচ্চিত্রে একটি করে গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। নার্গিস আক্তারের ‘যৈবতী কন্যার মন’ আর জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘জ্বিন’-এ। দুটি গানই তাঁর বাবা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা। সম্প্রতি আরো চারটি গান করেছেন। এর মধ্যে বাবার লেখা ‘দেবদাস’ তার একক গান। এ ছাড়া তিনটি দ্বৈত গান করেছেন সোহেল মেহেদী, অপু আমান ও ইউসুফের সঙ্গে। বিভিন্ন চ্যানেলের গানের অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। স্টেজ পারফরমও করছেন, তবে সেটা বেছে বেছে।

এখন পর্যন্ত চারটি একক প্রকাশ হয়েছে দিঠির। ১৯৯৯ সালে আসে প্রথম একক ‘লাল গোলাপের শুভেচ্ছা’। ২০০১ সালে ‘মরণ যদি হয়’, ২০০৩ সালে ‘একালের গান সেকালের গান’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘পোড়া চোখ’।

২০০৪ সালে বিয়ের পর গানে ভাটা পড়ে দিঠির। সংসার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর আর কোথাও গান করেননি। তবে শ্বশুরবাড়িতে ছিল গানের পরিবেশ। শাশুড়ি লতিফা হামিদ একজন সংগীতশিল্পী। সে জন্য বাসাতেই মাঝে-মধ্যে গানের আসর বসাতেন।

২০১৪ সালে দেশ টিভির সরাসরি অনুষ্ঠান ‘প্রিয়জনের গান’-এ গেয়ে আবার মিডিয়ায় ফেরেন দিঠি। পরের বছর মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘ইচ্ছে গানের দুপুর’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাম লেখান উপস্থাপনায়। এখনো উপস্থাপনা করছেন অনুষ্ঠানটি। সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো দুটি অনুষ্ঠান—আরটিভিতে ‘এই রাত তোমার আমার’ এবং চ্যানেল আইয়ে ‘পালকি’। দিঠির বাবা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গান দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘পালকি’। এটা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের গান সংরক্ষণের একটি উদ্যোগ বলে জানান এ গায়িকা। বলেন, ‘অনুষ্ঠানটির সব গান ইউটিউবে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া অচিরেই আমি আর আমার ভাই মিলে বাবার লেখা এক হাজার গান নিয়ে একটি সংকলন বের করব। বইটির পটভূমি লিখবেন বাবা নিজেই। এরই মধ্যে অনেকের কাছ থেকে গান সংগ্রহ করেছি।’

সংগীতজীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা জানতে চাইলে নিজের প্রথম প্লেব্যাকের স্মৃতি শেয়ার করেন দিঠি, ‘প্রথম প্লেব্যাক উপলক্ষে বাবা সেদিন বড় বড় সংগীত পরিচালক ও চলচ্চিত্র পরিচালকদের দাওয়াত করেন। তাঁদের দেখে এতটাই নার্ভাস ছিলাম যে আমার গলা দিয়ে কোনো গানই বের হচ্ছিল না। তার ওপর সংগীত পরিচালক ছিলেন সত্য সাহা। উনি এতটাই পারফেকশনিস্ট যে একটু খুঁত থাকলেও সেই টেক ওকে করেন না। শেষ পর্যন্ত সতেরো বারে টেক ওকে হয়। গান গাইতে গাইতে সেদিন আমার গলা ভেঙে গিয়েছিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা