kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘সব জাতিরই ক্লাসিক কিছু থাকতে হয়’

এ বছর সংগীতজীবনের ২০ বছর পূর্ণ করেছেন অদিতি মহসিন। এ উপলক্ষে আগামীকাল এই রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীকে নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘সব জাতিরই ক্লাসিক কিছু থাকতে হয়’

সংগীতজীবনে ২০ বছর পূর্ণ করেছেন। আপনাকে অভিনন্দন!

ধন্যবাদ।

 

‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’র পরিকল্পনা কিভাবে হলো?

আমি প্রফেশনালি রবীন্দ্রসংগীত করছি ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে। সে হিসাবে জানুয়ারিতেই আমার সংগীতজীবনের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। তার আগে থেকেই আমার কিছু ভক্ত, অনুরাগী, শুভাকাঙ্ক্ষী এমন একটি আয়োজনের কথা বলে আসছিলেন। সেটা করি করি করতেই এই ডিসেম্বর। আয়োজনটি করছে এক্সপ্রেস ইভেন্টস। সমন্বয়ক সৈয়দ আপন আহসান। অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন পর্ষদের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরো ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্ব। এ আয়োজন আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া বলে মনে করি।

 

অনুষ্ঠানে কী কী থাকছে?

৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হবে এই আয়োজন। প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি। উদ্‌যাপন পর্ষদের সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পর অতিথিরা বক্তব্য দেবেন। তার পরই শুরু হবে আমার একক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা। প্রায় দেড় ঘণ্টা অতিথিদের গান শোনাব। এটা আসলে যতটা উদ্‌যাপন তার চেয়ে বেশি গান শোনানোর উপলক্ষ।

 

এবার বলুন, ২০ বছরের জার্নিটা কেমন ছিল? 

এর মধ্যে ভালো যেমন আছে, তেমন কিছু মন্দও হয়তো আছে। ভালোটা নিশ্চয়ই বেশি। তবে এখন একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। আমার মনে হচ্ছে, আমাদের সংস্কৃতির ক্ষেত্রটা কেমন জানি অস্থির হয়ে আসছে। গান, নাটক, চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই এই অস্থিরতা। এই জায়গাটায় সব জাতিরই ক্লাসিক কিছু থাকতে হয়। সেটাই সেই জাতির পরিচয় বহন করে। কিন্তু এই জায়গাটায় এখন পর্যন্ত অনেকখানি অভাব দেখছি।

 

আপনার কথার রেশ ধরেই বলি, আমাদের দেশে মূলত রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও প্রয়াণ দিবসেই তাঁকে নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি কি যথার্থ?

রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও প্রয়াণ দিবসেই মূলত তাঁকে ঘিরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, কথা সত্য। সেটা চ্যানেলগুলো করে। এর বাইরে বিচ্ছিন্ন দু-একটি অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগই বেশি। এটা কখনোই যথার্থ নয়। আমি মনে করি শুধু রবীন্দ্রনাথ নয়, নজরুল বা আমাদের অন্য যে লোককবিরা আছেন সেই চর্চাগুলোও দু-একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর কিছু কিছু করে হওয়া উচিত। আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব, আমাদের গৌরব কী কী সেটা পরবর্তী প্রজন্মকে শেখাতে হলে এই চর্চাগুলো আরো বেশি বেশি হওয়া দরকার।

 

পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি আগ্রহ কেমন দেখছেন?

ঢাকায় যারা বড় হচ্ছে, চলছে, ফিরছে তাদের মধ্যে হয়তো কিছুটা কম। তার পরও কিছু কিছু পরিবারে আগ্রহ আছে বলেই ছায়ানট বা এসব জায়গায় এত ছেলে-মেয়ে ভিড় করে। তবে আমি দেখেছি ঢাকার বাইরে মফস্বল শহরে সাংস্কৃতিক চর্চা বা গান শেখার আগ্রহ তুলনামূলক একটু বেশি। ঢাকায় তো আমরা আসলে যান্ত্রিক হয়ে গেছি। এ ছাড়া রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি পরবর্তী প্রজন্মের যে আগ্রহ আছে সেটাকে সঠিক পথে নিয়ে আসা হচ্ছে কি না তাও দেখতে হবে। 

 

সংগীতে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

অবশ্যই মানুষের ভালোবাসা। এই ২০ বছরে অনেক বড় মানুষদের সান্নিধ্য পেয়েছি। অনেকের স্নেহ, ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছি। এই যে উদ্‌যাপন হচ্ছে, মানুষের এত আগ্রহ, আপনারা সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন—এগুলোই তো বড় অর্জন। মানুষের ভালোবাসা না থাকলে এই জিনিসগুলো ঘটত না।

 

স্মরণীয় অনুষ্ঠান?

২০১৬ সালে পৃথিবী বিখ্যাত লন্ডনের রয়াল অ্যালবার্ট হলে গান করেছি। সেটা ছিল আমার জীবনের জন্য একটা মাইলফলক। অ্যালবার্ট হলে বাংলা গান খুব কমই হয়েছে। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে আমিই প্রথম গেয়েছি। এ ছাড়া ভালো লাগার অনুষ্ঠান আরো অনেক আছে।

 

আক্ষেপ বা অপ্রাপ্তি?

আক্ষেপ বা অপ্রাপ্তি খুব বেশি নেই। কিন্তু যখন আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিষ্ঠার অভাব, ভালো জিনিসকে কদর করার অভাব দেখি তখন খুব আক্ষেপ হয়। 

 

আপনার ১৩টি একক অ্যালবামের সাতটি এসেছে বাংলাদেশ আর ছয়টি ভারত থেকে। দুই বাংলায় অনুষ্ঠানও করছেন নিয়মিত। অনেকে বলেন আপনি দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়? নিজের অভিমত কী?

কোথায় কতটা জনপ্রিয় সেই বিচার শ্রোতারা করবেন। আমি বাংলাদেশের মেয়ে, বাংলাদেশে থাকি। কিন্তু ভারতে কম যাই, কম গাই তা কিন্তু নয়। দেশের গণ্ডির ভেতর মানুষের খ্যাতি, নাম হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ওপারের বাঙালিরা কখনো বুঝতে দেয়নি যে আমি অন্য দেশের মেয়ে। তারা আমাকে এতই ভালোবেসেছে, যার ফলে শুধু কলকাতা নয়, পুরো ভারতবর্ষে গাইতে পারছি। এটা আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।

 

‘একটি সিনেমার গল্প’তে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে একটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন। চলচ্চিত্রে যদি মৌলিক গানের প্রস্তাব পান করবেন?

এ পর্যন্ত তেমন ইচ্ছা নেই। তবে যদি আমার মতো করে কোনো গান পাই তাহলে হয়তো করতেও পারি।

 

শুনেছি নিজের নামে ইউটিউবে চ্যানেল খুলছেন।

আমার অসংখ্য গান ইউটিউবে আছে। কিন্তু কোনো গানই আমি প্রকাশ করিনি। কারণ ইউটিউবে আমার কোনো চ্যানেলই নেই। যে যার মতো করে আপলোড করেছে। সে জন্য নিজেই অফিশিয়ালি একটা চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন বছর থেকে সেই চ্যানেলে নিয়মিত গান প্রকাশ শুরু করব। এতে আমার সব গান শ্রোতারা একসঙ্গে পাবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা