kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্ঘটনা তবে ভালো

জেফার রহমান মূলত গায়িকা। ‘ন ডরাই’ ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে—নির্বাহী প্রযোজক। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন নাবীল অনুসূর্য

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্ঘটনা তবে ভালো

যেহেতু গায়িকা, ছবির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা হওয়ার কথা  সংগীতেই। কিন্তু তিনি হলেন ‘ন ডরাই’-এর নির্বাহী প্রযোজক! নতুন এই পরিচয়ে আবির্ভাবের নেপথ্যের গল্পটা বললেন নিজেই, “বলতে পারেন এটা একটা ভালো দুর্ঘটনা। ‘ন ডরাই’-এর কাজ শুরু হওয়ার পর বন্ধু হিসেবেই অনেক উপদেশ-পরামর্শ দিচ্ছিলাম—সুনেরাহকে নেওয়া যায়, এটা করা যায়, ওটা করা যায়। নিজের মিউজিক ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রেও আমি ভীষণ সিরিয়াস। কস্টিউম, গল্প, শট, লোকেশন—সব নিজেই দেখভাল করি। এটা ‘ন ডরাই’-এর প্রযোজক-পরিচালকরাও জানতেন। তাঁরাই আমাকে নির্বাহী প্রযোজক হওয়ার প্রস্তাব দেন।”

প্রস্তাব পেয়ে ভীষণ দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন জেফার, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ছবিটা নিয়েই থাকতে হবে। কিন্তু আমাকে নিয়মিত গানের রেকর্ডিং করতে হয়, ভিডিও ধারণের কাজ করতে হয়। সেগুলো কিভাবে করব?’

শুরুতে ‘না’ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাজি হতেই হয়। ‘মাহবুব ভাই [প্রযোজক মাহবুব রহমান], অংশু ভাই [পরিচালক তানিম রহমান অংশু] আমাকে অনেক বোঝালেন। অবশ্য তাঁরা কাজটাকে অনেক হালকা করে বলেছিলেন। করতে গিয়ে দেখি মহাযজ্ঞ!’—বলেন জেফার।

অবশ্য কাজটা বেশ উপভোগই করেছেন। প্রি-প্রডাকশন থেকে ছবি মুক্তি—দেড় বছর ধরে ‘ন ডরাই’ নিয়েই আছেন। নতুন অনেক কিছু শিখেছেন। “পুরো দলটা এত প্যাশনেট ছিল, কাজ করতে একটুও সমস্যা হয়নি। আর দশটা ছবির চেয়ে ‘ন ডরাই’ একদমই আলাদা। ভিন্নধর্মী কিছু করতে আমার এমনিতেই ভালো লাগে।”

তবে এই পরিচয় স্রেফ এই ছবির জন্যই, সাফ জানিয়ে দিলেন জেফার, ‘এটা আমার কাছে ব্যতিক্রমী একটা অভিজ্ঞতা হিসেবেই থাকবে। এটাকে কখনোই পেশা করব না। হয়তো আর কখনোই এই ভূমিকায় দেখা যাবে না আমাকে।’

তিনি তো আসলে গানের মানুষ। তাই ‘ন ডরাই’-এর সংগীতের অনেক কিছুরই দেখভাল করেছেন। মোহন শরীফকে দিয়ে ‘যন্ত্রণা’ গাওয়ানোর নেপথ্য কারিগরও তিনি। নিজেও গেয়েছেন একটি গান—‘হারব না’। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গানটা, ব্যবহৃত হয়েছে ছবির এন্ড টাইটেলে। গেয়েছেনও ছবির অন্য সব কাজ শেষ করে। বলেন, ‘আমি ইংরেজিতে গেয়ে অভ্যস্ত। বাংলায় আগে তেমন গাইনি। সব মিলিয়ে বাংলায় ভালো গাইতে পারব কি না, মানুষ গ্রহণ করবে কি না, সেসব নিয়েও দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু এত ভালো সাড়া পাচ্ছি, এখন বাংলায় গান করা নিয়ে সত্যিই নতুন করে ভাবছি।’

শুধু গানগুলোই নয়, দর্শকের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে ছবিটি নিয়েও। এসব নিয়ে অবশ্য তাঁরা একদমই ভাবেননি। ‘ছবিটা আমরা বানিয়েছি প্যাশনের জায়গা থেকেই। দর্শকের এমন সাড়া পাব তা আশাই করিনি!’

এই সাফল্যের সব কৃতিত্ব দিলেন দর্শকদেরই, “আমাদের ছবির প্রচারণা আসলে দর্শকই করে দিয়েছেন। প্রথম ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই তাঁরা নিজ উদ্যোগে অনলাইনে শেয়ার করেছেন। ‘যন্ত্রণা’ গানটা তো রীতিমতো ভাইরাল। একটা পুরনো শিক্ষা ‘ন ডরাই’ আবার নতুন করে দিলো— ‘পাবলিক খাবে’র ধারণা বাদ দিয়ে নিজের ভালো লাগার জায়গা থেকে ভালো ছবি বানাতে পারলে, সেটাই মানুষের ভালোবাসা পায়।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা