kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দেশীয় ওয়েব সিরিজ

কেন টানছে না দর্শক

নেটফ্লিক্সের এই যুগে বাংলাদেশেও তৈরি হচ্ছে একের পর এক ওয়েব সিরিজ। ইউটিউব, বায়োস্কোপ, আইফ্লিক্স, হইচই, জি ফাইভ—সবাই অর্থ লগ্নি করছে এখানে। তবু সাড়া ফেলতে পারছে না কোনোটাই। কেন? বলেছেন তিন নির্মাতা

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেন টানছে না দর্শক

কোনো প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে না

অমিতাভ রেজা

ওয়েব সিরিজ শুধু নির্মাণ করলেই হবে না, যথাযথ মার্কেটিংও করতে হবে। এখানে কোনো প্রচার-প্রচারণাই চোখে পড়ে না। কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে প্ল্যাটফর্মগুলোর। সিনেমার মতো দর্শক একবার দেখলেই এখানে লগ্নীকৃত অর্থ ফিরে আসবে না। দর্শক যেন বারবার দেখতে বাধ্য হয় তেমন গল্প নির্বাচন করতে হবে। আরেকটা বিষয়, দর্শক যেন নিয়মিত কনটেন্ট পায়। ঈদের জন্য একটা কিছু করে সারা বছর আর খোঁজ নেই, এমন হলে কিভাবে হবে? এখানে যে ওয়েব সিরিজগুলো নির্মিত হচ্ছে সেগুলোর বাজেট টিভি নাটকের চেয়ে এক চিমটি বেশি। এটা কেমন কথা! ওয়েব সিরিজ তো অনেক বাজেটে নির্মিত হবে। গল্প হবে মুক্তচিন্তার। আমাদের এখানে ইউটিউব, টেলিভিশন বা সিনেমা হলের জন্য যেমন গল্প ভাবা হয় তেমন গল্প নিয়েই হচ্ছে ওয়েব সিরিজ। তাহলে দর্শক টাকা খরচ করে কেন সাবসক্রাইব করবে আপনার অ্যাপস? আমি যে ওয়েব সিরিজটি করেছি [ঢাকা মেট্রো], সেটার বাজেট ভালো ছিল। নিজের মতো করে গল্প ভাবতে পেরেছি, ক্যামেরায় তা তুলে আনতে পেরেছি। অন্যরা হয়তো সে সুযোগ পাচ্ছেন না।

গল্প, নির্মাতা, প্ল্যাটফর্মের প্রচারণা—এই তিনটি আগে দরকার। নইলে কোনোভাবেই দর্শক পাওয়া যাবে না।

ক্যাটাগরি বাছতে হবে আগে

শিহাব শাহীন

আমাদের দেশে এই ট্রেন্ড চালু হয়েছে বেশি দিন হয়নি। এখনই হতাশ হলে চলবে না। আমাদের দর্শক এখনো এই প্ল্যাটফর্মগুলো সম্পর্কে বুঝে উঠতে পারেনি। তারা বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে ইউটিউব নিয়েই। এ মাধ্যমে দর্শক পেতে হলে অবশ্যই কনটেন্টের জোর থাকতে হবে। আমার ‘দ্বিতীয় কৈশোর’-এ প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করেছিল অপূর্ব, তাহসান ও আফরান নিশো। কেউ ভাবেওনি এমন কাস্টিং। শুরুতেই নজর কাড়তে পেরেছিলাম, গল্প তো ছিলই। নির্মাতাকে মনে রাখতে হবে, এটা আলাদা প্ল্যাটফর্ম। এখানে পয়সা দিয়ে মানুষ আপনার নির্মাণ দেখে। গতানুগতিক হলে কেন দেখবে? নেটফ্লিক্সের সিরিজগুলোর প্রতিটিই একেকটা নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শকের জন্য নির্মিত। দর্শক সেটা লুফে নিচ্ছে। আমাদেরও ক্যাটাগরি বাছতে হবে। আগে ঠিক করতে হবে কার জন্য কী বানাচ্ছি। না বুঝে একটা কিছু বানিয়ে ফেললে সাড়া তো দূরে থাক, কেউ জানবেও না। আমাদের গল্পগুলো একেবারেই সাধারণ। টাকা খরচ করে যাঁরা অ্যাপস সাবসক্রাইব করেন তাঁরা চান একটু আলাদা, ইন্টেলেকচুয়াল টাইপের গল্প—যে গল্প তাঁদের ভাবাবে। এই বিষয়টা কনটেন্ট ডেভেলপারের মাথায় থাকতে হবে।

অন্যতম কারণ বাজেট

দীপংকর দীপন

ওয়েব সিরিজ হবে এক্সক্লুসিভ। নাটকের চেয়ে সামান্য বেশি বাজেট দিলেই ওয়েব সিরিজ বানানো যায়, এই চিন্তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কলকাতায় ৪০০ মিনিটের একটি কনটেন্টের বাজেট সাত কোটি রুপি। একই বিষয় ও ব্যাপ্তির সিরিজ হিন্দিতে বানানো হয় ২০ কোটি রুপিতে। দর্শক কোনটা দেখবে? হিন্দিটাই দেখবে। সিনেমায় অনেক সময় যে বিষয়গুলো তুলে আনা সম্ভব হয় না সেগুলোই হলো ওয়েবের আসল কনটেন্ট। আমাদের সিরিজ সাড়া না ফেলার অন্যতম কারণ বাজেট। এসব অ্যাপসে যে দর্শক সিরিজ দেখে সে নিশ্চয়ই অ্যামাজন, হটস্টার, নেটফ্লিক্সও দেখে। তাহলে আমরা টিভি নাটকের চেয়ে সামান্য ভালো প্রডাক্ট দিয়ে কি করে দর্শকের দৃষ্টি কাড়ব? একটা বিজ্ঞাপন তৈরি করার জন্য নির্মাতা বা বিজ্ঞাপনী সংস্থা মাসের পর মাস অনেক কনসেপ্ট নিয়ে ভাবে। তারপর একটা পছন্দ করে। তাহলে ওয়েব সিরিজ বানানোর ক্ষেত্রে কেন ধর-মার-কাট! এখানে আরো বেশি গবেষণা প্রয়োজন।

অনুলিখন : সুদীপ কুমার দীপ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা