kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

এইচবিও সিরিজের দীপ

এইচবিও অরিজিনাল সিরিজ ‘ইনভিজিবল স্টোরিজ’-এর একটি পর্বের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের সুদীপ বিশ্বাস দীপ। তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন ইসমাত মুমু

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এইচবিও সিরিজের দীপ

প্রমো বা ট্রেলার কিছুই আসেনি, এসেছে ‘বিহাইন্ড দ্য শুট’ ভিডিও। আর তাতেই আলোচনায়! বাংলাদেশের ছেলে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে, তা নিয়ে আলোচনা তো হবেই। তবে দীপ মুখ খুলতে চাইলেন না খুব একটা, ‘ওদের নিষেধ আছে। ট্রেলার আসবে ডিসেম্বরে। তাই খুব বেশি ডিটেইল বলছি না। বিষয়টা আমার জন্য বিব্রতকরও। প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছি, উত্তর আছে আমার কাছে, তবু বলতে পারছি না। ওদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে কিচ্ছু বলতে পারব না।’ তবে এ কথা সে কথা বলতে বলতে অনেক কিছুই বলেছেন দীপ।

ছয় পর্বের ‘ইনভিজিবল স্টোরিজ’-এর একটি পর্বে অভিনয় করেছেন এবং সেটা কেন্দ্রীয় চরিত্রই। সিরিজটির প্রতি পর্বের গল্পই আলাদা। সুদীপ এখানে বাংলাদেশি যুবক, নাম সাইফ। সিঙ্গাপুরের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির অব্যক্ত গল্প ও অন্ধকারজগেক তুলে ধরা হবে এই সিরিজে। ৫ জানুয়ারি রাত ১০টায় এইচবিও চ্যানেল ও ‘এইচবিও গো’ ওয়েবে প্রচার শুরু হবে সিরিজটির। এই সিরিজে দীপের সুযোগ পাওয়ার গল্পটা দারুণ। ২০১৪ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘আইডেন্টিটি’তে অভিনয় করেছিলেন। রুহুল রবিন খানের ছবিটি ৯টি আন্তর্জাতিক উত্সবে প্রদর্শিত হয়। ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে ছবিটির প্রিমিয়ারে দীপ নজর কাড়েন এই সিরিজের কাস্টিং ডিরেক্টরের। তার পরও সময় গড়ায়। এই প্রজেক্টের প্ল্যানিং শুরু হলে এপ্রিলে এইচবিও কর্তৃপক্ষ সুদীপের বিষয়ে যোগাযোগ করে পরিচালক রুহুল রবিন খানের সঙ্গে। তারপর পাঠায় পাণ্ডুলিপি। পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী অভিনয় করেন দীপ, সেটার ভিডিও ফুটেজ পাঠানো হয় কর্তৃপক্ষের কাছে।

‘অডিশন ও নির্বাচন হয় অনলাইনে। আমি একা নই, বাংলাদেশের আরো কয়েকজন দিয়েছিলেন অডিশন। তবে শেষ পর্যন্ত আমাকেই চূড়ান্ত করেন নির্মাতা লার জিয়ান এবং সিঙ্গাপুর যেতে বলেন আমাকে। জুনে সেখানে গিয়ে প্রথম ধাপের শুটিং করে ফিরে আসি। আবার যেতে হয় জুলাইয়ে। শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরি আগস্টে। পুরো শুটিংই হয়েছে সিঙ্গাপুরে’—বললেন দীপ।

চারটি ভাষায় কথা বলতে হয়েছে দীপকে—চায়নিজ, ইংরেজি, বাংলা ও সিঙ্গাপুরিয়ান ইংরেজি। প্রথম লটের শুটিংয়ের আগে রিহার্সাল করে সংলাপগুলো আয়ত্ত করে নিয়েছেন। ‘চীনের জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রীও আছেন আমাদের সঙ্গে। নামটা মনে পড়ছে না, চায়নিজ নাম তো, উচ্চারণ বেশ কষ্টসাধ্য। তিনি থিয়েটার করেন, দারুণ ডেডিকেটেড শিল্পী’—বললেন দীপ।

১১ নভেম্বর এইচবিও এশিয়ার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পায় ‘মেকিং অব ইনভিজিবল স্টোরিজ’। আড়াই মিনিটের ভিডিওতে বেশ কয়েকটি দৃশ্যে দেখা মিলেছে দীপের। তাঁর সঙ্গে আছেন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার শিল্পীরাও। দীপ বলেন, ‘আমার প্রধান সহশিল্পী সিকার সারি, তিনি ইন্দোনেশিয়ান অভিনেত্রী। শুধু অভিনেত্রীই নন, ইন্দোনেশিয়ার দর্শক তাঁকে চেনে উপস্থাপিকা ও নৃত্যশিল্পী হিসেবেও।’

এইচবিওর সিরিজটি করার পর অনেক হিসাব-নিকাশ কষে কাজ করছেন দেশে। ‘রঙের মেলা’র ‘নূতনের কেতন’ সংখ্যায় দীপকে নিয়ে ফিচার হয়েছিল ২০১৬-তে। এর আগে ও পরে মডেলিং, অভিনয় [নাটক-চলচ্চিত্রে] কম করেননি। তবে আলোচনায় এলেন এইচবিওর সিরিজটি করে। এবার বড়ভাবে কিছু করতে চাইছেন। এ সময়ের আলোচিত একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন। সিনেমার নামটা বললেও প্রকাশ না করার অনুরোধ করলেন খুব করে। পরিচালক-প্রযোজকের নিষেধাজ্ঞা আছে এখানেও।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা