kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

১০০ গানের প্রজেক্ট

১০০ গানের একটি প্রজেক্টে সুরকার হিসেবে কাজ করছেন মুহিন খান। এপার-ওপার দুই পারের শিল্পীরা কণ্ঠ দিচ্ছেন তাঁর সুরে। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১০০ গানের প্রজেক্ট

জামাল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। বর্তমানে এনবিআরের সদস্য। কিন্তু তাঁর নেশা গান, কবিতা, নাটক। গল্প-উপন্যাসও লেখেন। নিজের লেখা গান প্রকাশ করার জন্য একজন মিউজিশিয়ান খুঁজছিলেন তিনি। এগিয়ে আসেন মুহিন। তাঁর লেখা কিছু গানে সুর করেন। মুহিনের সুরে মুগ্ধ হন জামাল। এরপর মুহিনের হাতে নিজের লেখা প্রায় ১৫০টি গান তুলে দেন। সেখান থেকে ১০০টি গান নির্বাচন করে একটি প্রজেক্ট করছেন মুহিন। বলেন, ‘ব্যস্ততার মধ্যেও যে এমন দায়িত্বশীল একজন মানুষ শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা করেন, এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। প্রথমে তাঁর লেখা চার-পাঁচটি গান নিয়েছিলাম। পরে আরো কিছু নিই। এখন তো ১০০ গানের প্রজেক্টই করছি। এটা আমার ক্যারিয়ারে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

জামাল হোসেনের লেখা আর মুহিনের সুর করা গানগুলো প্রকাশের লক্ষ্যে বছর দুয়েক আগে ‘রঙ্গন মিউজিক’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। আপাতত যা ইউটিউব চ্যানেলে সীমাবদ্ধ। প্রতি বৃহস্পতিবার দুজনের করা একটি করে গান চ্যানেলটিতে আপলোড করা হচ্ছে। ১০০ গানের প্রজেক্টের ১৯টি এরই মধ্যে চলে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—সৈয়দ আবদুল হাদীর ‘মনের জানালা’, ফাহমিদা নবীর ‘শ্রাবণ এলে’, লুইপার ‘তোমার প্রতি’, হৈমন্তীর ‘যদি জানতে চাও’, স্বরলিপির ‘ভাবনার বাতায়নে’ প্রভৃতি।

এ ছাড়া এই প্রজেক্টে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিত্, সামিনা  চৌধুরীসহ তরুণ প্রজন্মের অনেকে। আছেন ওপার বাংলার কুমার শানু, শুভমিতা ব্যানার্জি, রাঘব চ্যাটার্জি, রূপঙ্কর বাগচী প্রমুখ। গানগুলোর বেশির ভাগই মেলোডি। আছে চটুল ও রিদমিকও। কেমন সাড়া পাচ্ছেন? মুহিন বলেন, ‘অনেক ভালো। এখন পর্যন্ত নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার মিল আছে। তবে শুদ্ধ সংগীতে শ্রোতাদের টানতে আরেকটু সময় লাগবে। আমাদের বেশির ভাগ গানই লিরিকাল ভিডিওতে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি আছে ভিডিওতে।’

মুহিনের সংগীতে আগমন ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ : ২০০৬’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়েছিলেন। গান গেয়ে পরিচিতি পেলেও পরে সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার কারণটাও জানালেন, ‘গান আমার পেশা। বতর্মান ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু গান গেয়ে টিকে থাকা কঠিন। সংগীত পরিচালক হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু এখানে অন্য সব পেশার মতো মাস শেষে কোনো বেতন নেই। বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যেই সংগীত পরিচালনা করছি। তা ছাড়া সংগীত পরিচালক হিসেবে অনেক সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পাচ্ছি। এটা আমাকে সমৃদ্ধ করছে।’

শুধু সুর নয়, মুহিন গানের কথাও লেখেন। নিজের কথা, সুর ও সংগীতায়োজনে আটটি গানে কণ্ঠ দিয়ে প্রকাশ করেছেন। ছয় বছর আগে প্রকাশিত মুহিনের সুর করা প্রথম গানটিও ছিল তাঁর নিজের লেখা—‘কলিজায় কলিজায় লাগে।’

অন্যদের জন্য সুর করার পাশাপাশি নিজের জন্যও গান বানাচ্ছেন  মুহিন। আগামী বছর ১০টি গান প্রকাশ করবেন বলে জানালেন। তবে আপাতত বেশি সময় দিচ্ছেন স্টেজ শোতে। 

আগামীকাল ঢাকার একটি হোটেলে সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলমকে ‘গানে গানে গুণীজন সংবর্ধনা’ দেবে সিটি ব্যাংক এনএ বাংলাদেশ। সে অনুষ্ঠানে খুরশীদ আলমকে সম্মান জানিয়ে তাঁর গাওয়া ১০টি গান গাইবেন মুহিন। এখন সেদিকেই তাঁর যত মনোযোগ। বলেন, ‘খুরশীদ আলম স্যারের গান শুনে, গেয়ে বড় হয়েছি। তাঁর সামনে তাঁর এতগুলো গান গাইব—এটা হবে আমার জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা