kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

চর্চায় তাহসান

ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’, নতুন গান, নাটকে সেঞ্চুরি, ব্যক্তিগত জীবন—এসব নিয়েই চর্চায় আছেন তাহসান রহমান খান। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চর্চায় তাহসান

ছবি : গ্রামীণ ইউনিকলো

জীবনটা উপভোগ করতে হয় আশপাশের বন্ধুবান্ধব নিয়ে, আবার একাও উপভোগ করা যায়। তাহসান দ্বিতীয়টির পক্ষে। একা থাকতেই একটু বেশি পছন্দ করেন। তাই বলে দ্বিতীয়বার বিয়ে করবেন না, এমন কোনো পণ করেও বসে নেই। শিল্পীদের জীবন অনেকটা যাযাবরের মতো। বিশেষ করে যাঁরা কনসার্ট করে বেড়ান, শুটিংয়ে ঘরের বাইরে যান—তাঁরা কতক্ষণই বা ঘরে থাকতে পারেন। তার ওপর তাহসানের আছে ঘুরে বেড়ানোর শখ। পৃথিবীর অনেক সুন্দর শহর-গ্রাম তিনি ঘুরেছেন। ফুরসত মিললে তবেই ফেরেন বাসায়। বাসাটাও সাজিয়েছেন অদ্ভুত সুন্দর সব পেইন্টিং দিয়ে।

‘বিখ্যাত ও পছন্দের শিল্পীদের আঁকা ছবি আমার ঘরের দেয়ালে দেয়ালে। সব সময়ই চাই চোখের সামনে যেন কোনো না কোনো শিল্পকর্ম থাকে। প্রায়ই সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। নিজেকে আমি শিল্পী ভাবি, শিল্পচর্চা করে জীবনটা পার করে দেওয়াই আমার লক্ষ্য। শিল্পকর্মকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি, যে শিল্পকর্মে আমার দখল নেই সেটার প্রতি আরো বেশি’—বললেন তাহসান।

তাহসানের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু তাঁর পিয়ানো। এবি ব্র্যান্ডের পিয়ানোটা কেনার জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে। একে তো বেশ ব্যয়বহুল, তার ওপর দেশেও পাওয়া যায় না। অর্ডার করে আনাতে হয়। সব বাড়িতে রাখাও যায় না। ‘ব্ল্যাক’-এর প্রথম অ্যালবাম রিলিজের পর একটা পিয়ানো কিনেছিলেন—ইয়ামাহা। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতেন এবি ব্র্যান্ডের পিয়ানোর।

বেশ কয়েক দিন ধরে দাড়ি-গোঁফ রেখে দেবদাসের মতো ঘুরছিলেন তাহসান। হঠাত্ এমন লুকের কারণ জানা গেল মঙ্গলবার, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ইংরেজি ছবি  ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। এই ছবির জন্যই এমন লুক নিয়েছেন। ফারুকীর ছবির অভিনেতারা কখনোই মুক্তির আগে ছবি নিয়ে কিছু জানাতে চান না, তাহসানও ব্যতিক্রম নন। তবে বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ও অজি অভিনেত্রী মিশেল মেগানের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করার জন্য যে মুখিয়ে আছেন, সে উত্তেজনা চেপে রাখতে পারেননি। মোস্তফা কামাল রাজের ‘যদি একদিন’ দিয়ে এ বছরই চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হয়েছেন। পরের ছবিতেই এত বড় সুযোগ পাওয়াটাকে ভাগ্য বলেই মানছেন।

তাহসান এখন আছেন ম্যানহাটানে। ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর শুটিংয়ের জন্যই কি তাঁর এই সফর? খুললেন না সেই রহস্যের জালও।

অভিনয়ে দারুণ একটা সময় কাটাচ্ছেন গানের মানুষ তাহসান। কিছুদিন আগেই অভিনয় করলেন শততম নাটকে—মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘মেমোরিজ—কল্পতরু’ নাটকটির গল্প বাছাই করেছেন তাহসান নিজে। শততম নাটকের জন্য গল্প চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পেয়ে যান ৭০টি গল্প।

তাহসান বলেন, ‘ভক্তরা আমার গানের সংখ্যা হিসাব করে পাঠাত। কিছুদিন আগে এক ভক্ত নাটকের তালিকা করে পাঠায়। দেখলাম, ৯৭টি নাটকের তালিকা। এরপর বিষয়টি আমাকে ভাবায়। কাছের পরিচালক ও একজন প্রযোজক শততম নাটক নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করলেন। শততম নাটকের শুটিংয়ে আমরা কেকও কাটি।’

গানের মানুষ তাহসান অভিনয়ে এলেন ২০০৪ সালে, আফসানা মিমির নাটক ‘অফবিট’-এ। তাহসানের ২৫তম নাটক শিহাব শাহীনের ‘নীলপরী নীলাঞ্জনা’, শাফায়েত মনসুর রানার ‘হাতটা বাড়িয়ে দাও না’ ৫০তম, ৭৫তম নাটক মাহমুদুর রহমান হিমির ‘বাড়ি ফেরা’।

অনেকেই হয়তো জানেন না, অভিনয়ে আসার আগে তালিম নিয়েছিলেন তাহসান, ‘স্কুলে পড়ার সময় আজাদ আবুল কালাম ভাইয়ের কাছে কর্মশালা করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়েও টুকটাক অভিনয় করেছিলাম।’

‘হাতটা বাড়িয়ে দাও না’ নাটকে সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন তাঁর সাবেক ব্যান্ড ‘ব্ল্যাক’-এর সদস্য জন কবিরকে। ‘এই নাটকে অভিনয়ের সময় জনকে অনেক কথা শুনয়েছিলাম। কারণ আমার ব্যান্ড ছাড়ার পেছনে অন্যতম একটা কারণ জন। সে শর্ত দিয়েছিল, নাটক করতে পারবা না, মডেলিং করতে পারবা না। অথচ পরে সে নিজে নাটকে অভিনয় শুরু করে দিল, ব্যান্ডটাও ছেড়ে দিল।’

শততম নাটকে তাঁর কণ্ঠে একটি গানও পাওয়া যাবে। মালার সঙ্গে গাওয়া ‘আনমনে’ গানের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে এ সপ্তাহের শুরুতে। গানটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনারা যদি পাশ্চাত্যের মিউজিক ভিডিও দেখেন, দেখবেন সেখানে কোনো স্টোরি থাকে না। থাকে শুধু রং আর আবেগ। এ গানের ভিডিও ঠিক সে রকমই হয়েছে।’

গান তাহসানের আবেগের জায়গা। অভিমান করে বললেন, ‘অভিনেতা তাহসানকে নিয়ে যত লেখালেখি হয়, গান নিয়ে তার সিকি ভাগও হয় না। এটা ভীষণ কষ্ট দেয়।’

শততম নাটকটির পরও করেছেন দুটি নাটক— সাগর জাহানের ‘মেঘ মিলন’ ও তপু খানের ‘শেষ ভালোবাসা’।

এই মুহূর্তে তাহসানের মনোযোগ শুধুই বিনোদনজগত্ আর তাঁর মেয়ে আইরার প্রতি। একসময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। অভিনয়-গানের জন্য শিক্ষকতা ছেড়েছেন। তবে সামনে আবার শিক্ষকতায় ফেরার ইচ্ছা আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা