kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

গানে ২৫ শোবিজে ৩৫

গানে ২৫ বছর হলো। শোবিজে তাঁর যাত্রা আরো ১০ বছর আগে—১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ ছবিতে। সেবার পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পীর জাতীয় পুরস্কার, এবার প্রথমবার পেলেন প্লেব্যাকে। আঁখি আলমগীরের গল্প শুনেছেন নাবীল অনুসূর্য

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গানে ২৫ শোবিজে ৩৫

প্রথম প্লেব্যাক ১৯৯৪ সালে, ‘বিদ্রোহী বধূ’ ছবিতে। ইস্পাহানী আরিফ জাহানের ছবিটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছিলেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। সংগীতায়োজনে তাঁর ভাই আনোয়ার জাহান নান্টু। সে গল্প বললেন আঁখি নিজেই, “একদিন বাসায় ঝন্টু আংকল এসে বাবাকে বললেন, ‘আলমগীর, আমার ছবিতে আঁখি একটা গান গাইবে।’ শুরুতে বাবা রাজি হচ্ছিলেন না। ঝন্টু আংকল একরকম জোর করেই আমাকে দিয়ে গান তোলালেন। শেষে আংকলের জোরাজুরিতে বাবাও রাজি হলেন। এভাবে হঠাত্ করেই শুরু। এরপর ঝন্টু আংকলেরই ৬০-৭০টা গান গেয়ে ফেলেছি। আলম খান, আলাউদ্দীন আলী, আনোয়ার পারভেজ, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, শেখ সাদী খান—সব আংকলের গানেই কণ্ঠ দিয়েছি।”

আঁখির প্রথম অ্যালবাম ‘কলি’ প্রকাশ পায় এরও তিন বছর পর। স্টেজ শো শুরু করেন এরপরই। ‘স্টেজে নিজের গান গেয়েই পরিচিত হতে চেয়েছি, অন্যের গান গেয়ে নয়। তাই স্টেজে উঠতে দেরি করেছি’—বললেন আঁখি।

কিন্তু তাঁর তো সংগীতশিল্পী নয়, হওয়ার কথা ছিল অভিনয়শিল্পী। শোবিজে শুরুটাও হয়েছিল সে পরিচয়েই। ১৯৮৪ সালে প্রথম ছবি আমজাদ হোসেনের ‘ভাত দে’তে অভিনয় করেই পান জাতীয় পুরস্কার। তবু কেন গানই বেছে নিলেন? ‘অভিনয়শিল্পী থেকে সংগীতশিল্পী হয়ে গেছি, এমনটা কিন্তু নয়। আমি আগাগোড়াই সংগীতশিল্পী ছিলাম। ছোটবেলাতেই গান শেখার শুরু। অভিনয়টা হয়তো আমার জন্য সহজ হতো; কিন্তু আমি সব সময় নিজে কিছু করতে চেয়েছি। সংগীতের সাধনায় চলার পথের যুদ্ধটা আমাকেই করতে হয়েছে। প্রাপ্তিটাও আমার নিজের।’

তবে সে জন্য কম কষ্ট করতে হয়নি তাঁকে। ‘ভীষণ আদরে-আহ্লাদে বড় হয়েছি। কষ্ট করায় একদমই অভ্যস্ত ছিলাম না। আমাকে সেই জীবন থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, শো করতে সাত-আট ঘণ্টার রাস্তা এসি ছাড়া মাইক্রোতে চড়ে গেছি। ধুলায়-ঘামে একাকার অবস্থা। রাতে চট্টগ্রামে শো করে গাড়িতে করে ঢাকায় এসে সকালের ফ্লাইট ধরেছি। পরদিন রাতে দুবাইয়ে শো করেছি। কাউকে বুঝতেও দিইনি আগের রাতে একটুও ঘুমাইনি। স্যাক্রিফাইসও করতে হয়েছে অনেক। আমার বাচ্চা যেদিন স্কুলে ভর্তি হয়েছে, থাকতে পারিনি সঙ্গে। এমনকি যখন ওর ডেঙ্গু হলো, সারা রাত হাসপাতালে থেকে পরদিন সকালে গাড়িতে করে রংপুর গেছি। শো করে রাতে ফিরে পরদিন থেকে আবার হাসপাতালে। চলার পথে কখনো হিসাব করিনি আমি কার মেয়ে। বরং নিজের পরিশ্রমে সবার মতো যুদ্ধ করে আজকের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি,’ বলেন আঁখি।

১৯৯৪ থেকে ২০১৯—ক্যারিয়ারের রজত জয়ন্তীতে এসে গানের জন্য পেলেন প্রথম জাতীয় পুরস্কার। তবে বছরের এই হিসাবটা নাকি একদমই মাথায় ছিল না তাঁর। ‘ভাত দে’র পুরস্কারের কথা মনে করিয়ে দিতে বললেন, ‘হ্যাঁ, সেটা হিসাব করলে শোবিজের বয়স আরো ১০ বছর বাড়ে। কিন্তু মাঝের সময়টায় তো কিছুই করিনি। তাই ওভাবে হিসাব করাটা বোধহয় ঠিক হবে না। তাহলে তো বলা যায়, শোবিজের বয়স আর আমার বয়স সমান। কারণ আমার জন্মের খবর তখনকার প্রতিটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল!’

অবশ্য পরিবারে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনি একা নন। আঁখি বলেন, ‘এবার জাতীয় পুরস্কার আমরা তিনজন পেয়েছি—বাবা, রুনা আন্টি [রুনা লায়লা] ও আমি। বাবা পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা, রুনা আন্টি সুরকার হিসেবে। পুরস্কার তাঁরা বহুবার পেয়েছেন। তাঁদের এত এত পুরস্কার যে বাসায় রাখার জায়গাই হয় না! আমারটা নিয়েই সবাই বেশি খুশি।’

পুরস্কার পাওয়ার সময় তাঁরা তিনজন ছিলেন তিন জায়গায়। “খবরটা যখন পাই তখন আমি মায়ের [খোশনূর আলমগীর] সঙ্গে। শুনেই মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। সেই অনুভূতিটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়! বাবাকে ফোন দিয়ে জানালাম। বাবা বললেন, ‘তুমি অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলে, এবার গানে পেলে। এটা একটা ইতিহাস হয়ে গেল।’ এদিকে আম্মু মিষ্টি কিনে এলাহি কারবার করে বসেছেন! রুনা আন্টি তখন ভারতে। দুই দিন পর দেশে ফিরলে তাঁকে সালাম করে আসি। ভয়ে ছিলাম আমার মেয়েদের নিয়ে। জাতীয় পুরস্কার নিয়ে ওরা তেমন আগ্রহী হবে কি না কে জানে! কিন্তু না, ওরা আমার চেয়েও বেশি খুশি।”

গানের জগতে ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন। যেতে চান আরো বহুদূর। সেই চলার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে এসেছে এবারের জাতীয় পুরস্কার। সেই সঙ্গে বাড়িয়ে দিয়েছে দায়িত্ববোধ। এমনটা জানিয়ে আঁখি বললেন, ‘অনেক গান করেছি, তবে আরো অনেক ভালো গান করার ইচ্ছা আছে। সময়ও আছে। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পাওয়া কিন্তু মানুষের ভালোবাসা। আমি সেই ভালোবাসার কাঙাল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা