kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

চন্দনার গান বন্দনা

‘ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্ট’-এর তৃতীয় দিন গান করবেন চন্দনা মজুমদার। এরপর তিনি বসতে যাচ্ছেন ‘বাউলিয়ানা’র বিচারকের আসনে। করছেন নতুন অ্যালবামের কাজ। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চন্দনার গান বন্দনা

‘ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্ট’-এর প্রথম আসর মাতিয়েছিলেন চন্দনা মজুমদার। লোকগান নিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে বড় সংগীত আসরে সেবার শ্রোতাদের গান শুনিয়ে খুবই তৃপ্তি পেয়েছিলেন গায়িকা। আবারও সেই সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘দ্বিতীয়বারের মতো ফোক ফেস্টে গাইব। এত বড় আসরে আয়োজকরা আমাকে গাইবার সুযোগ দিয়েছেন। এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের। এ জন্য আয়োজকদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি।’  এবার চন্দনার গান শোনা যাবে উত্সবের শেষ দিন ১৬ নভেম্বর। প্রায় ৪০ মিনিট স্টেজ মাতাবেন তিনি। কী কী গান গাইবেন? প্রস্তুতি কেমন? ‘লালন, রাধারমণ, শাহ আব্দুল করিম, বিজয় সরকার, পাগলা কানাইসহ আমাদের লোক ও মরমি গীতিকবিদের গান করব। এ ছাড়া চলচ্চিত্রে নিজের গাওয়া গানও করতে পারি। তবে তা নির্ভর করবে শ্রোতাদের চাওয়ার ওপর। আমি কিন্তু সব প্রস্তুতিই নিয়ে রাখছি।’ 

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে সব সময় যাঁরা বাজান তাঁরাই এখানে বাজাবেন। ঢোল, দোতারা, বাঁশি, একতারার মতো লোকজ ধারার যন্ত্রের পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাখবেন কিছু আধুনিক যন্ত্রও।

লোকগান নিয়ে এমন আয়োজন আরো হওয়া উচিত বলে অভিমত তাঁর, ‘আমাদের লোকসংগীতের যে ভাণ্ডার তা এক কথায় অতুলনীয়। এই রত্নভাণ্ডারকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগ আরো নেওয়া উচিত।’ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েও লোকগান করছেন চন্দনা। দুই মাস আগে কানাডার টরন্টোতে গেয়ে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন।

মাছরাঙা টেলিভিশনের বাউলগানের রিয়ালিটি শো ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র এবারের আসরে মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এখন দেশব্যাপী চলছে এ প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব। চন্দনা বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন গানের প্রতিযোগিতায় অতিথি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি। এবার মূল দায়িত্ব পালন করব। এমন উদ্যোগকে আমি সব সময়ই স্বাগত জানাই। গান-বাজনা তো এখন সস্তা হয়ে গেছে। সেই সস্তার মধ্যেও যে লোকসংগীতে এখনকার ছেলে-মেয়েরা আসছে, এটা আমাদের জন্য খুব বড় একটা পাওয়া। এর মধ্য দিয়ে যে ছেলে-মেয়েরা উঠে আসছে, সেটাকে মন্দের ভালো বলতে হবে। এর ফলে গ্রামের অনেক গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়েও সামনে আসতে পারছে। এ জন্য চ্যানেলগুলোকেও ধন্যবাদ জানাই। তবে আয়োজন সুষ্ঠু ও সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়।’

৫০টির মতো অ্যালবামে গেয়েছেন। এবার কাঙাল হরিনাথ, উকিল মুন্সী ও জালাল খাঁ—এই তিন গীতিকবির গান নিয়ে দুটি অ্যালবামের কাজে হাত দিয়েছেন। এর মধ্যে কাঙাল হরিনাথকে নিয়ে অ্যালবামের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এখন উকিল মুন্সী অথবা জালাল খাঁ—এই দুজনের একজনকে নিয়ে কাজ শুরু করবেন। চন্দনা বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে তো একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য ধারাবাহিকভাবে করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে লালন, রাধারমণ, শাহ আব্দুল করিম, বিজয় সরকার প্রমুখের গান নিয়ে আমার বেশ কয়েকটি অ্যালবাম করেছে। এবারও তারাই উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি নতুন বছরের শুরুতেই একটি অ্যালবাম প্রকাশ করতে পারব।’

‘চারণ লোকশিল্পী দল’ নামে চন্দনার বাবা নির্মলচন্দ্র মজুমদার একটি গানের সংগঠন গড়েছিলেন। সংগঠনটির দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে ৪ ডিসেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠান করতে চান তিনি। ব্যস্ত আছেন সেটা নিয়েও।

স্বামী কিরণচন্দ্র রায় আর একমাত্র কন্যা শতাব্দী রায়কে নিয়ে সুখে আছেন বলেই জানালেন চন্দনা। মেয়ে কলকাতায় মাস্টার্স শেষে সেখানেই সংগীতচর্চা করছেন। গান-বাজনার পাশাপাশি সংসার সামলে নিতেই দিন চলে যায় চন্দনার। বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির পুরো সংসারের দায়িত্ব আমার কাঁধে। সংসার আমার কাছে সবার আগে। ঘরদোর পরিষ্কার করা, গাছ লাগানো পছন্দ করি। নিজের আর পরিবারের প্রিয় মানুষদের পোশাক সেলাইয়ের  কাজ করেও সময় কাটে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা