kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সন্দীপ নিখিলেশ বিমলারা আজ

প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও সেলুলয়েডে ফিরছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরে বাইরে’। সত্যজিত্ রায়ের পর একই উপন্যাস নিয়ে কাজ করেছেন অপর্ণা সেন। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে ‘ঘরে বাইরে আজ’। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন মামুনুর রশিদ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্দীপ নিখিলেশ বিমলারা আজ

১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন ‘ঘরে বাইরে’। সত্যজিত্ রায় উপন্যাসটি থেকে ছবি করেছিলেন ১৯৮৪ সালে। মাঝে ৩৫ বছর কেটে গেছে। কিন্তু ‘ঘরে বাইরে’র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ’৮৪ সালে যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল, এখনো তেমনই আছে। তাই অপর্ণা সেনের হাত ধরে আবার পর্দায় ফিরছে সন্দীপ, নিখিলেশ, বিমলা। অপর্ণার সর্বশেষ বাংলা ছবি ‘আরশিনগর’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫ সালে। শেক্সপিয়ারের ‘রোমিও-জুলিয়েট’ এর আধুনিক এই চিত্রায়ণ দর্শক-সমালোচক কেউই পছন্দ করেনি। ২০১৭ সালে ‘সোনাটা’য় অপর্ণা সেনের দক্ষতার কিছুটা ঝলক পাওয়া গেলেও সেটি নির্মিত হয়েছিল হিন্দি, ইংরেজিতে। তাই বাংলার দর্শকদের জন্য কিছু একটা করতে উশখুশ করছিলেন পরিচালক। হঠাত্ মনে হলো, বর্তমান ভারতের টালমাটাল পরিস্থিতিতে ‘ঘরে বাইরে’ করাই যায়। ঠিক করলেন, এই সময়ের প্রেক্ষাপটে হাজির করবেন নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপের ত্রিকোণ সম্পর্ককে। ‘ঘরে বাইরে আজ’-এ দেখা যাবে স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী বিমলা আকৃষ্ট হয় বিপ্লবী সন্দীপের প্রতি। তবে ‘ঘরে বাইরে আজ’-এ অবশ্য বিমলার নাম বদল হয়েছে, ছবিতে চরিত্রটির নাম বৃন্দা। ত্রিভুজ প্রেমের এই টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে অপর্ণা তুলে আনবেন ভারতবর্ষের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা। ছবির প্রেক্ষাপট আলোচিত সাংবাদিক গৌরি লংকেশ হত্যাকাণ্ড। অপর্ণা বলেন, ‘গৌরী লংকেশ, সুজাত বুখারির মৃত্যু আমাকে খুব অসহায় করে দিয়ে দিয়েছিল। নাড়া খেয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম হয়নি সে রাতে, যেদিন গৌরি লংকেশ হত্যা হয়। তখন থেকেই কিছু একটা করার কথা ভাবছিলাম।’

ছবিতে মাওবাদী বিপ্লবী নিখিলেশের চরিত্র করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বৃন্দা ওরফে বিমলা চরিত্রে বড় চমক তুহিনা দাস। ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘দৃষ্টিকোণ’-এ ছোট দুই চরিত্র করা অভিনেত্রীকেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য বেছে নিয়েছেন পরিচালক। সন্দীপ ছবিতে একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক, যে চরিত্রে দেখা যাবে যিশু সেনগুপ্তকে। তিনি পরিচালকের আগের ছবি ‘আরশিনগর’-এও ছিলেন।

সত্যজিতের ‘ঘরে বাইরে’ সিনেমায় অপর্ণা সেনের অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে হয়নি। এ নিয়ে তখন অনেক দিন মন খারাপ ছিল অভিনেত্রীর, ‘১৯৭৬ সালে আমি আর মানিক কাকা দিল্লিতে। তখন উনি বলেছিলেন—তোকে আমি বিমলাটা করাব। আমি তো খুব খুশি। তারপর বেশ কিছু সময় গেল। পরে বললেন—তুই বুড়ি বিধবা পিসিমার মতো চুল কেটেছিস। বিমলা কী করে হবে? আমি তখন বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করছি। পরে ছবিটা হয়, কিন্তু আমাকে আর নেননি। খুব অভিমান হয়েছিল। কেন নেননি পরে আর জিজ্ঞেস করা হয়নি।’

অপর্ণা অবশ্য বিমলা তৈরি করেছেন এখনকার নারীবাদী চরিত্রের ছাঁচে। পরিচালক জানান, সন্দীপ ও বিমলার চরিত্র উপন্যাস থেকে আমূল বদল হলেও নিখিলেশের চরিত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। “রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস আর মানিক কাকার ‘ঘরে বাইরে’—দুই ক্ষেত্রেই সন্দীপের প্রতি ঠিক বিচার হয়নি। বড্ড একপেশে বিচার হয়েছে। হতে পারে সন্দীপ সুযোগসন্ধানী, কিন্তু তার সবটাই খারাপ নয়। এটা আগে বলিনি কখনো। কিন্তু ছবিটা বানাতে গিয়ে এই অনুভূতি হলো! সে একজন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। সুন্দর দেখতে, ক্ষুরধার বুদ্ধি তার”—বলেন অপর্ণা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা