kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বাঁচুন সোনিয়ার সংস্পর্শে

অভিনয়ে একেবারেই অনুপস্থিত, আছেন শুধু উপস্থাপনায়। প্রথমবারের মতো শুরু করেছেন আরজেগিরি—‘রেডিও আমার’-এ ‘স্টেয়িং অ্যালাইভ উইথ সোনিয়া’। নতুন পরিচয় ও তাঁর শোবিজ ভাবনা জানালেন সোনিয়া হোসাইন। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁচুন

সোনিয়ার সংস্পর্শে

‘দৌড়ের ওপর আছি ভাই’—সোনিয়ার প্রথম কথা এটা। স্বনামে রেডিও শো, এটা নিয়েই কি যত ব্যস্ততা? ‘হ্যাঁ। প্রতি সপ্তাহেই বেশ ভালো সময় দিতে হয় এখানে। নতুন একটা কাজ শুরু করেছি, কাজটা ভালোমতো করতে তো হবে’, বললেন সোনিয়া।

এই রেডিও শোতে যুক্ত হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে তিন বছর আগে ফিরে গেলেন। বলিউড তারকা শিল্পা শেঠি এসেছিলেন ঢাকায়, শো হোস্ট করেছিলেন সোনিয়া। “ওই শোর কিছু অংশ ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে শিল্পা শেঠিকে নিয়ে কিছু পজিটিভ কথা লিখেছিলাম। পুরোটা এখন মনে নেই, তবে ‘স্টেয়িং অ্যালাইভ’ জাতীয় কিছু শব্দ ছিল সেখানে। রেডিও আমার-এর শাকের তখনই আমাকে প্রস্তাব দিলেন, এই নামে আমরা কিছু করতে পারি। ২০১৬ সালের জুন-জুলাইয়ে এটা নিয়ে আমরা বেশ কয়েকবার বসেছিলাম। ফাইনাল হলো, এটা আমি ছাড়া আর কেউ করবে না। অভিনয়ের ব্যস্ততায় তখন করতে পারিনি।”

অভিনয়ে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। আমার জন্য এখন সেটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই অভিনয়টা বলতে গেলে ছেড়েই দিলাম। তবে সামনে করব না কখনো, এমনও নয়।

২০১৭-তে অভিনয় কমিয়ে উপস্থাপনায় মনোযোগী হলেন। গত বছর বিয়েশাদিও করলেন। এই নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবারে দাঁড়ালেন রেডিও আমার-এর মাইক্রোফোনের সামনে। প্রতি মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে এই শো।

সোনিয়ার মতে, টিভি আর রেডিও শোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। টিভিতে করেন সেলিব্রিটি শো, সেখানে তাঁর অতিথি থাকেন, কথা হয় রূপচর্চা বা রান্না নিয়ে। আর রেডিওতে কথা বলেন স্কুল-কলেজের তরুণদের সঙ্গে। তাদের যত হতাশা, কষ্টের কথা—সব মন দিয়ে শোনেন। এ এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা সোনিয়ার, ‘বিশ্বাস করুন, আমার ১৬ বছর বয়স থেকে এ ধরনের কিছু একটাই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন তৈরি ছিলাম না। এখন আমি তৈরি।’

‘স্টেয়িং অ্যালাইভ’ নামে ২০১৬-তেই একটা অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন ইনস্টাগ্রামে। সোনিয়ার ফলোয়ারদের কাছে নামটা আগে থেকেই পরিচিত। ‘আমার আশপাশে যাঁরাই আছেন, শোবিজ তারকা থেকে শুরু করে আমার মা-বাবা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, আমার মায়ের একটা গার্লস হোস্টেল আছে সেখানে ৬০ জন স্টুডেন্ট আছে, এমনকি আমি নিজে—সবার মধ্যেই দেখি হতাশা, অনেক সমস্যা। এর মধ্যেও আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। শোতে প্রতি সপ্তাহে একটা টপিক থাকে, সেই টপিকের সঙ্গে তরুণরা নিজেদের মেলাতে পারে। সবাই নিজেদের কথা বলে, আমি সবার কথা মন দিয়ে শুনি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি’—বললেন সোনিয়া।

এখানে প্রতি পর্বেই সোনিয়ার অতিথি থাকেন। তিনি হতে পারেন করপোরেট, হতে পারেন পলিসি মেকার, সাংবাদিক, এমনকি সিনেমার নায়িকাও। ‘এই সময়ে মিথিলাকে পেলে খুব ভালো লাগত। সমসাময়িক অন্য যাঁরা নানা সমস্যায় ভুগছেন তাঁরাও হতে পারেন। আবার কোনো রিয়ালিটি শো বিজয়ীকেও আনা হবে। তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যাটা শেয়ার করবেন আমাদের সঙ্গে। এটা কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই যে প্রতি সপ্তাহে একজন করে নতুন গেস্ট থাকতেই হবে। প্রতি পর্বেই আমি থাকব, এটা নিশ্চিত।’

টিভিতে এখন তিনটা শো উপস্থাপনা করেন—এশিয়ান টিভিতে শনিবারে প্রচারিত হয় ‘সেলিব্রিটি কুক’, বুধবার বাংলাভিশনে ‘টপ ট্রাকস’, দেশ টিভিতে চলছে ‘সুরঞ্জনা’।

অভিনয় এখন একদমই করছেন না, আপাতত করতেও চাচ্ছেন না।

কেন? ‘অভিনয়ে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। আমার জন্য এখন সেটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই অভিনয়টা বলতে গেলে ছেড়েই দিলাম। তবে সামনে করব না কখনো, এমনও নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা