kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইতি, তোমারই ঢাকার

ওরা ১১ জন

কাল মুক্তি পাবে বাংলাদেশের প্রথম অমনিবাস চলচ্চিত্র ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’। ১১ তরুণ নির্মাতার ১১টি গল্প নিয়ে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের চলচ্চিত্রটি ২৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ১১টি ছবি নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ওরা ১১ জন

প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর ও ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার আবু শাহেদ ইমনের সঙ্গে ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’র ১১ পরিচালক

ঢাকা মেট্রো

পরিচালনা : মাহমুদুল ইসলাম

অভিনয়ে : ইন্তেখাব দিনার, শতাব্দী ওয়াদুদ, স্নাতা শাহরিন

 

এই অমনিবাস চলচ্চিত্রের ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার আবু শাহেদ ইমনকে অনেক বছর ধরে চেনেন মাহমুদুল। ‘উনি যখন ইমপ্রেসে জয়েন করলেন, আমরা নিয়মিত বসতে থাকলাম। ছবির টপিক নিয়ে অনেকগুলো অপশন ছিল হাতে। সবাই মিলে সিলেক্ট করি ঢাকা। এখানকার বেশির ভাগ পরিচালকেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। খুব কাছ থেকে ঢাকার অনেক কিছু দেখেছি। তাই আমরা ঢাকাকেই বেছে নিলাম’—বললেন মাহমুদুল।

‘ঢাকা মেট্রোর গল্পে উঠে এসেছে শহরের আগ্রাসী রূপ। এই শহর মানুষকে গ্রাস করে ফেলে, বদলে ফেলে। সহজ-সরল কেউ এখানে সার্ভাইভ করতে পারে না। ‘মূল চরিত্র করেছেন দিনার ভাই। আরেকটা চরিত্রে শতাব্দী ভাই। মাত্র দুটি দৃশ্য তাঁর, দুই দৃশ্যেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়’—বললেন মাহমুদুল।

 

সাউন্ডস গুড

পরিচালনা : গোলাম কিবরিয়া ফারুকী

অভিনয়ে : সর্দার সানিয়াত হোসেন, মুনিরা শাহতাজ, রাকিবুল হাসান রেজা, মাহমুদা আপন, রঙ্গন হূদ্য

 

‘আমরা যারা ভালো গল্প বলতে চাই, স্বাধীনভাবে ছবি বানাতে চাই, তাদের জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম বা চ্যানেল আই বেডরুমের মতো। ইমন যখন আমাকে এই প্রজেক্টের কথা বলল, কে আছে না আছে, বাজেট কী, কোনো কিছু না ভেবেই রাজি হই’—বললেন কিবরিয়া।

ছবির বিষয়বস্তু শহরের তরুণদের প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক। তিন বয়সের তিনটি প্রধান চরিত্র। পরিচালক তাদের দিয়ে দেখাতে চেষ্টা করেছেন সম্পর্কের রসায়ন।

 

আফটার টুয়েলভ এএম

পরিচালনা : মীর মুকাররম হোসাইন

অভিনয়ে : মনোজ প্রামাণিক, দিলরুবা হোসেন দোয়েল

 

ইমন আর মুকাররম দীর্ঘদিনের বন্ধু। একসঙ্গে ফিল্ম সোসাইটি করেছেন। ফিল্ম বানানোর ইচ্ছা সব সময়ই ছিল মুকাররমের। এই প্রজেক্টটা নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন। ‘এই শহরে আমি আগন্তুক। আমি বড় হয়েছি গ্রামে। শহরে এসে বুঝেছি, এটা বেশ কঠিন জায়গা। ঢাকা শহরে ব্যাচেলরদের বাস্তবতা আমরা জানি। একটু বেশি রাত হলে ভাড়াটিয়া বাসায় ঢোকার অনুমতি পায় না। কিন্তু কোনো কারণে তো দেরি হতেই পারে। এই রকম একটা জায়গা থেকেই আমার গল্প’—বললেন মুকাররম।

 

এম ফর মানি/মার্ডার

পরিচালনা : তানিম নূর

অভিনয়ে : ইরেশ যাকের, গাউসুল আলম শাওন

 

ইমনের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধু তানিম। ফিল্ম নিয়েই কথা হতো তাঁদের। এই প্রজেক্টের কথা ইমনই জানান। ‘আইডিয়াটা তো চমত্কার। আমার অপছন্দ করার কোনো কারণ নেই। আমরা সবার গল্প সবার সঙ্গে শেয়ার করেছি, লজিক নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সেখান থেকেই একেকটা গল্প পূর্ণ রূপ নিয়েছে’—বললেন তানিম।

তানিমের গল্পটা একটা পলিটিক্যাল থ্রিলার। দুজন অসত্ মানুষের গল্প। একজন আরেকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজে বাঁচার চেষ্টা করে।

 

 

জিন্নাহ ইজ ডেড

পরিচালনা : কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যয়

অভিনয়ে : লুত্ফুর রহমান জর্জ, ইলোরা গহর, মোস্তফা মনোয়ার, শারমিন আঁখি

 

স্বাধীনতার পর ঢাকায় আটকে পড়া বিহারিদের নিয়ে কৃষ্ণেন্দুর গল্পটি। ‘এই সম্প্রদায়কে আমরা ট্রিট করি পাকিস্তানি হিসেবে। তাদের আদি নিবাস ভারতের বিহার অঞ্চল। আমি বড় হয়েছি মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পের পাশে, বাবর রোডে। সেই সূত্রে ক্যাম্পে যাওয়া-আসা হতো। বিহারিদের আইডেন্টিটি সংকটের গল্পটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ঢাকার গল্প বাছতে গিয়ে আমার মনে হলো, এটা দর্শককে ছুঁয়ে যাবে’—বললেন কৃষ্ণেন্দু।

‘চিয়ার্স’-এ অর্চিতা স্পর্শিয়া ও তানিন

 

 

চিয়ার্স

পরিচালনা : সৈয়দ আহমেদ শাওকি

অভিনয়ে : অর্চিতা স্পর্শিয়া, তানিন, ইয়াশ রোহান

 

ঢাকা শহরের দুটি মেয়ে প্রথমবার মদ খাবে—এটা নিয়ে তাদের এক রাতের একটা জার্নি। ‘ওরা কেন মদ খাবে? খাবে কি খাবে না, সেটাও একটা প্রশ্ন। খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হয়, কিন্তু খাওয়ার যে স্ট্রাগল সেটা গল্পের মূল। ঢাকায় অ্যালকোহল অবৈধ, মেয়েদের জন্য আরো বেশি অবৈধ। একটু ডার্ক কমেডি বলা যায়’—বললেন শাওকি।

 

আকাশের পোষা পাখিরা

পরিচালনা : তানভীর আহসান

অভিনয়ে : ত্রপা মজুমদার, শাহনাজ সুমী, তৌফিকুল ইমন, আজিজ বারী

 

তানভীর এই প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছেন সবার শেষে। অন্যদের অনেকে তত দিনে শুটিং শেষ করে এনেছেন। ‘জেলখানায় থাকা এক ছেলেকে নিয়ে গল্প, যাকে গল্পে একদমই দেখা যায় না। ছেলেটার জামিন করানোর জন্য ওর মা চেষ্টা করতে থাকেন। মা একটা সমিতিতে কাজ করেন, তাই বাসায় অনেক টাকা-পয়সার লেনদেন হয়। ছেলের জামিন করানোর জন্য টাকা লাগবে, তাই সমিতিতে লোন চাইলেন। এদিকে তাঁর ছোট মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। মেয়েটা মায়ের আনা সমিতির টাকা চুরি করে ছেলেটাকে দেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে মায়ের চাকরিটা চলে যায়’—নিজের ছবির গল্পের ধারণা এভাবেই দিলেন তানভীর।

‘জুঁথি’তে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও রওনক হাসান

 

জুঁথি

পরিচালনা : সৈয়দ সালেহ আহমেদ সোবহান

অভিনয়ে : নুসরাত ইমরোজ তিশা, রওনক হাসান

 

প্রথমে গল্পটা যেভাবে ভেবেছিলেন, পরে অনেক পরিবর্তন এনেছেন সালেহ। ‘অনেক কেটেছিঁড়ে ফাইনালি এই গল্প দাঁড় করিয়েছি। এটা একটা নবদম্পতির যৌন সম্পর্কের গল্প’—বললেন সালেহ।

 

[বাকি তিন পরিচালকের দুজন দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের গল্পের বিষয়বস্তু জানা সম্ভব হয়নি, নুহাশ হুমায়ূন কিছু জানাননি। আবু শাহেদ ইমনও জানাতে চাননি]

 

ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট

পরিচালনা : নুহাশ হুমায়ূন

অভিনয়ে : ফজলুর রহমান বাবু, মোস্তাফিজুর নুর ইমরান, জোভান, ইরফান সাজ্জাদ, নাজিবা বাশার

 

জীবনের গান

পরিচালনা : রাহাত রহমান

অভিনয়ে : অ্যালেন শুভ্র, মুশফিক আর ফারহান

 

মাগফিরাত

পরিচালনা : রবিউল আলম রবি

অভিনয়ে : শ্যামল মাওলা, সোহানা সাবা,

ফারহানা হামিদ

ইমনের কথা

আমি পড়াশোনা করেছি অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও কোরিয়ায়। কোরিয়ায় পড়াকালেই বানিয়েছিলাম ‘জালালের গল্প’। ঢাকায় এসে বাংলাদেশের ফিল্ম নিয়েই কাজ করতে চেয়েছি। আমি এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, চ্যানেল আইতে জব করি—সব কিছুই সিনেমার উন্নতির জন্য। তারই একটা অংশ এই সিনেমা। এখানে যারা ছবি বানিয়েছে, এদের কাউকে আমি আবিষ্কার করেছি এমন নয়। প্রত্যেকের কাজের সঙ্গেই পরিচিত ছিলাম। এক-দুইজন আমার বড় ভাই, আমার বন্ধুরা আছেন, আছে ছোট ভাইরাও। ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’র বড় বৈশিষ্ট্য, গল্পগুলো যেমন ঢাকার, তেমনি বাংলাদেশের। আবার যেকোনো মডার্ন শহরেরও গল্প। হংকংয়েও এ ধরনের ঘটনা ঘটে, ঘটতে পারে মুম্বাই, কাবুল কিংবা তেহরানেও। চলচ্চিত্রটি নিয়ে বিভিন্ন উত্সবে গেছি, সবখানেই বিপুল সাড়া পেয়েছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও আকর্ষণ করেছে গল্পগুলো। এ পর্যন্ত ২৫টির বেশি উত্সবে অংশ নিয়েছে ছবিটি। জয়পুর উত্সবে পুরস্কার মিলেছে ‘বেস্ট অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে’র, রাশিয়ার কাজান উত্সবে পেয়েছে গিল্ড পুরস্কার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা