kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

নওমি ও ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু

ততটা আলোচনায় না থাকলেও ঠিকই নিয়মিত হিট ছবি উপহার দিয়ে চলেছেন নওমি হ্যারিস। ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু’ মুক্তি উপলক্ষে ছবিটি এবং অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে আলো ফেলেছেন হাসনাইন মাহমুদ

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওমি ও ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু

প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে যেমন রয়েছে ‘স্কাইফল’, ‘স্পেক্টর’, ‘র‌্যাম্পেজ’-এর মতো বক্স অফিস মাত করা চলচ্চিত্র, তেমনই সমালোচকদের হৃদয় কেড়েছেন ‘মুনলাইট’, ‘ম্যান্ডেলা—আ লং ওয়াক টু ফ্রিডম’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে। তবে অনেক আগেই ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত নওমি হ্যারিসের। শারীরিক কিছু সমস্যার জন্য ডাক্তারও উপদেশ দিয়েছিলেন ক্যামেরার সামনে না যাওয়ার জন্য, কিন্তু রুপালি পর্দাই যাঁর ঘরবাড়ি সেই নওমি পারেননি ‘নিজের পৃথিবী’ থেকে দূরে থাকতে। ৪৩ বছর বয়সী তারকা আবার আসছেন বড় পর্দায়, ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু’ নামের পুলিশ-অ্যাকশন ছবি নিয়ে। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবির পরিচালক ডিওন টেইলর।

ছবির শুরু নিউ অরলিন্স পুলিশ বিভাগে অ্যালিসিয়ার [নওমি হ্যারিস] যোগদান দিয়ে। বাহিনীতে যোগ দিয়েই এক বিশেষ পরিস্থিতির সামনে পড়তে হয় অ্যালিসিয়াকে। সে দেখে ফেলে বিচারবহির্ভূতভাবে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা এক মাদক কারবারিকে খুন করছে। তার পোশাকে থাকা ক্যামেরায় এ ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়ে যায়। অ্যালিসিয়াকে মারতে ব্যর্থ হয়ে সেই খুনি পুলিশ কর্মকর্তারা রটিয়ে দেয় অ্যালিসিয়াই হত্যাকারী। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনী ও মাদক কারবারিদের টার্গেটে পরিণত হয় অ্যালিসিয়া। বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকাণ্ডকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আগে বড় চ্যালেঞ্জ অ্যালিসিয়ার নিজের জীবন বাঁচানো। সে কি পারবে? নওমি হ্যারিস ছাড়া ছবিতে আরো আছেন টাইরিজ গিবসন, ফ্র্যাংক গিলো প্রমুখ।

পুলিশ-অ্যাকশন বলা হলেও চলচ্চিত্রটির ঘরানা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছে অ্যাকশন চলচ্চিত্রের আড়ালে এটি বর্ণবাদ এবং সামাজিক অবক্ষয়ে পুলিশের নেতিবাচক ভূমিকার আখ্যান, কেউ বা বলছে, ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু’ নিখাদই একটি অ্যাকশন চলচ্চিত্র। তবে অনেক বোদ্ধা চলচ্চিত্রটির মিল খুঁজে পেয়েছেন ২০০১ সালের বিখ্যাত ছবি ‘ট্রেনিং ডে’র সঙ্গে। ডেনজেল ওয়াশিংটন ও ইথান হক অভিনীত চলচ্চিত্রটি সে বছরের সব চলচ্চিত্র উৎসব মাতিয়েছিল। নওমির অ্যালিসিয়া চরিত্রের মধ্যে ডেনজেলের করা আলনজো হ্যারিসের ছায়া খুঁজে পেয়েছে অনেকেই। ফিকশনধর্মী চলচ্চিত্র হলেও আমেরিকায় পুলিশের বর্ণবাদী আচরণ চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্যে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশ সুনাম রয়েছে নওমির। ‘জেমস বন্ড’ চলচ্চিত্র সিরিজে সেই গত্বাঁধা আবেদনময়ী চরিত্রকে বদলে বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী নারী চরিত্রে পরিণত করেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে ‘মুনলাইট’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর চিত্রনাট্য বাছাই করার প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে ফেলেন নওমি। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘চিত্রনাট্য বাছাই করার প্রক্রিয়াটা অনেকটা উপহার পছন্দের মতোই। দামি কোনো ব্যাগের চেয়ে আমি ঘর পরিষ্কার করার সরঞ্জামই বেশি পছন্দ করি। যে ছবি করব সেটার শুধু বক্স অফিস মাত করার ক্ষমতা থাকলেই হবে না, মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে।’ ক্যারিয়ারে নানা রকম চরিত্র করলেও নওমির আক্ষেপ এখনো কোনো নারী পরিচালকের ছবিতে কাজ করতে না পারার। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা