kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

সম্পর্কের গল্প

আমেরিকায় হবু বর রিজবেইয়ের সঙ্গে দেখা করে এলেন, সঙ্গে নিয়েছিলেন মেয়ে সুহাকেও। আসন্ন বিয়ে ও সম্পর্কের গল্প বললেন পিয়া বিপাশা। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্পর্কের গল্প

ছবি : রাজীন চৌধুরী

দুপুর ২টা। বিছানা ছেড়ে উঠেছেন বেশিক্ষণ হয়নি। ঘুমজড়ানো কণ্ঠেই শুরু করলেন আলাপ। জানালেন বেলা করে ঘুমানোর কারণ। তিন দিন হলো আমেরিকা থেকে ফিরেছেন। এখানে যখন দিন, ওখানে তখন রাত। ঘুমের সময়টা অ্যাডজাস্ট করতেই যত বিপত্তি। তার ওপর লম্বা জার্নি করে এসেছেন। সকালে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে এসে ফের ঘুমিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে ফিরেই একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করেছেন। চায়ের বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মাণ করেছেন সঞ্জয় সমাদ্দার। কাজের খবর জানাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন পিয়া বিপাশা। বিয়ে নিয়ে কথা বলতে খুব একটা আগ্রহী নন। প্রসঙ্গটা যখন এলোই, রীতিমতো অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমার সঙ্গে কথা না বলে অনেকেই অনেক রকম নিউজ করে দেয়। বলি একটা, লেখে আরেকটা। হেডলাইন আবার মনের মাধুরী মিশিয়ে যা-তা করে দেয়।’ কিছু উদাহরণও টানলেন, ‘একটা হেডলাইন দেখলাম, বিয়ে করার মতো বাংলাদেশে নাকি কোনো ছেলে পাইনি। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা। সেদিন দেশের বাইরে যাচ্ছিলাম। এয়ারপোর্টে গিয়ে শুনি এমন নিউজ ছড়িয়ে গেছে।’

একটু থেমে বললেন, ‘সম্পর্ক কি কোনো বাধা মানে? বিদেশির সঙ্গে সম্পর্ক করেছি বলে দেশের সব ছেলেকে খারাপ বলতে যাব কোন দুঃখে! আমার পরিবারে কি পুরুষ নেই? তারা কি বাংলাদেশি না? আমার নসিবে হয়তো বিদেশি ছেলেই ছিল।’

দেড় বছর আগে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর ফেসবুকই ছেড়ে দিয়েছেন। নিয়মিত নতুন ছবি প্রকাশ করেন ইনস্টাগ্রামে। সেটাও ক্রমেই কমিয়ে আনছেন। কারণটা সরাসরি না বললেও আঁচ পাওয়া গেল তাঁর কথায়, ‘আমার হবু বর রিজবেই মুসলিম। অনেকেই বিদেশি শুনে ভেবে নিয়েছেন অন্য কিছু। ওরা বেশ ধার্মিক। আমি মডেল-অভিনেত্রী, এটা জেনেই ওরা আমাকে পছন্দ করেছে। কিন্তু ওর পরিবারের সঙ্গে মেশার পর শোবিজ আর ভালো লাগছে না আমার। আমি হয়তো আমার শ্বশুরবাড়ির নিয়মমতোই চলব।’ বিয়ের পর শোবিজে কাজ না করারই ইচ্ছা তাঁর। রিজবেই ব্রিটেনের নাগরিক। বিয়ের পর লন্ডনেই সেটল হওয়ার ইচ্ছা তাঁদের। মাঝেমধ্যে দেশে এলে হয়তো টুকটাক অভিনয় করবেন। লন্ডনে সেটলড হতে চাওয়ার আরেকটি বড় কারণ পিয়ার মেয়ে সুহা। মেয়ের ভবিষ্যৎ সেখানেই উজ্জ্বল—মনে করেন মা পিয়া। পিয়ার আগের ঘরের মেয়ে সুহা, ওর বয়স এখন ১০ বছর। এবার আমেরিকায় মেয়েকেও নিয়ে গিয়েছিলেন পিয়া। সেখানে রিজবেইয়ের সঙ্গে সুহার দেখা হয়েছে, বেশ জমেছে তাদের সম্পর্ক। পিয়া বলেন, ‘আবার বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল না। মনের মতো ছেলে পেয়েছি বলেই করছি। রিজবেই আগেই বলে রেখেছে, আমাদের সংসারে সন্তান এলেও সুহাই প্রাধান্য পাবে বেশি। আমার কাছে সবার আগে আমার মেয়ে।’

চার মাসের জানাশোনার পর ২১ জুলাই ছেলের মা-বাবা ও ভাই-বোন এসে পিয়ার হাতে আংটি পরিয়ে দেন। নভেম্বরে ঢাকায় আসবেন রিজবেই। তখন তাঁর হাতে আংটি পরাবে পিয়ার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বিয়েটা কবে? ‘আগামী বছরের শুরুর দিকে করতে চাই’—বললেন পিয়া।

রিজবেইয়ের সঙ্গে পরিচয়ের গল্পও বললেন, ‘আমার বেশ কয়েকজন কাজিন থাকেন লন্ডনে। এক ভগ্নিপতির বন্ধু রিজবেই। সেই সূত্র ধরেই পরিচয়। পরিচয়ের পর থেকেই দুজনের দুজনকে পছন্দ হয়। বলে রাখি, এটা কিন্তু ঠিক প্রেমের সম্পর্ক নয়। চুটিয়ে প্রেম করার সময়ই পাইনি। এরই মধ্যে দুজনের পরিবার বিয়ের জন্য এগিয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা