kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গানের জঙ্গী

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গান লিখছেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নতুন কিছু গান। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন শেখ মেহেদী মোর্শেদ

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গানের জঙ্গী

শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর লেখা গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে, বিটিভিতে। ‘আলো ছায়াতে তুমি’ শিরোনামের গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন দিবা। এর পর থেকে গত ৪১ বছরে তাঁর লেখা অনেক গানই ফিরেছে মানুষের মুখে মুখে। বেতার, টেলিভিশন, ক্যাসেট, সিডি প্রভৃতি মাধ্যমে লিখেছেন। অথচ তাঁর কথায় পূর্ণাঙ্গ একক অ্যালবাম মাত্র দুটি! ২০০৫ সালে ওয়ার্ল্ড মিউজিক থেকে এসেছিল সামিনা চৌধুরীর কণ্ঠে ‘এই বুঝি তুমি এলে’। ১৪ বছর পর এবার পিলু খানের কণ্ঠে ‘তোমরা ভালো আছ তো?’। বাংলা ঢোলের ব্যানারে এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে আট গানের অ্যালবামের পাঁচটি গান—‘আমার গল্প’, ‘তোমরা ভালো আছ তো?’, ‘সব কথা’, ‘তুমি জানো কি’ এবং ‘হৃদয়ের নীল যদি’। প্রকাশের অপেক্ষায় ‘এসো হে বন্ধু’, ‘উল্টেপাল্টে’ ও ‘এলাম প্রথমবার’। জঙ্গী বলেন, ‘আমি আসলে নিজে উদ্যোগী হয়ে কোনো অ্যালবাম করিনি। তাই পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম মাত্র দুটি। আমার গানের সংখ্যা কত হবে সেটাও জানা নেই। কেউ বললে লিখে দিই, এতেই আনন্দ পাই।’ এ বছর এই গীতিকবির আরো চারটি গান প্রকাশ পেয়েছে—তপন চৌধুরী ও স্বরলিপির ‘এই তো বেশ আছি’, শামস সুমনের ‘খোলা চিঠি’ এবং ‘সিলন সুপার সিঙ্গার’ প্রতিযোগিতার মৌলিক রাউন্ডে দুটি গান—‘প্রেমের কানা গলি’ এবং ‘এই শোনো’।

প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর লেখা আরো ১০টি গান। এর মধ্যে ‘রেনেসাঁ’র আটটি। যার ছয়টির নাম বলতে পেরেছেন—‘সাদাকালো নয়, নয় বাদামী’, ‘আমারই বধূয়া’, ‘সব কিছু ঠিকঠাক আছে’, ‘আসলে দিনের...’, ‘এই শহরে’ এবং ‘হেরিতেরি’ [চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান]। এ ছাড়া রয়েছে শামস সুমনের ‘হঠাৎ একদিন’ এবং শাকিল খানের [নোভা] ‘হে লোকালয়’। জঙ্গী বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বক্তব্যধর্মী গান করে আসছি। বিশেষ করে ব্যান্ডের জন্য। প্রেমের গান একটি-দুটির বেশি লিখিনি। চেষ্টা করেছি ভিন্ন আঙ্গিকে লেখার।’ বলতে বলতে এমন কয়েকটি গানের কথাও উল্লেখ করেন—‘তৃতীয় বিশ্ব’, ‘মুক্তো মানিক পাবার আশায়’, ‘দিকে দিকে আহাজারি’, ‘কোলাহল থেমে গেল’, ‘এইতো এখানে বৃষ্টিভেজা’, ‘আঁঁরো দেঁশত যাঁইয়ু তুঁই’ প্রভৃতি।

শোনালেন গীতিকার হওয়ার গল্পও, “তখন স্কুলে পড়ি। বাবা ছিলেন গানপাগল। প্রতি রবিবার [তখনকার ছুটির দিন] আমাদের বাসার সামনের মাঠে গানের আসর বসত। অনেক শিল্পীই গান করতেন। তবে আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করতেন আব্বাস ফকির। তিনি মরমি গান গাইতেন একতারা বাজিয়ে। বিশেষ করে রমেশ শীল ও মাইজভাণ্ডারী, যা আমার ভেতর এক ধরনের অনুভূতি তৈরি করে। বাবার লেখালেখির অভ্যাসও আমার মধ্যে আসে। কলেজে [সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম] বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। বিভিন্ন দেয়াল পত্রিকায় লিখতাম। সেগুলোও গান লেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। কলেজে থাকতেই বন্ধু নকীব, পিলু, তপন, রনি, নেওয়াজ, তাজুল সবাই মিলে ‘সৈকতচারী’ নামে একটি দল করি, যা ছিল কয়ার গ্রুপের মতো। পাঁচ-ছয় বছর ধরে দলটি চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, যাতে গাওয়া হয় আমার লেখা কিছু গানও। এই দলের সদস্যরাই পরবর্তী সময়ে আমার লেখা বেশির ভাগ গানে সুর ও কণ্ঠ দেন।”

জঙ্গী নামের রহস্যও বলেন, ‘আমাদের সময় মা-বাবারা ভালো মানুষদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে সন্তানদের নাম দিতেন। আমাদের বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীর বাবার নাম ছিল আবু সালেহ মুছা জঙ্গী। তাঁর নাম থেকেই জঙ্গী শব্দটি নিয়ে আমার নামের সঙ্গে লাগিয়ে দেন বাবা।’

 

জঙ্গীর জনপ্রিয় ১০ গান

   একদিন ঘুম ভাঙা শহরে—এলআরবি

  হৃদয় কাদামাটির কোনো মূর্তি নয়—রেনেসাঁ

   আজ যে শিশু—রেনেসাঁ

   হে বাংলাদেশ তোমার বয়স হলো কত—রেঁনেসা

   প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্ত—সোলস

   চায়ের কাপে পরিচয়—সোলস

   এরই মাঝে রাত নেমেছে—সোলস

   আমি ভুলে যাই তুমি আমার নও—পার্থ বড়ুয়া

   সময় যেন কাটে না—সামিনা চৌধুরী

   যতীন স্যারের ক্লাসে—নাসিম আলী খান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা