kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুরের দীপ্তি

গৃহিণীদের নিয়ে গানের রিয়ালিটি শো ‘সিলন সুপার সিঙ্গার’-এর প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন খুলনার দীপ্তি সরকার। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুরের দীপ্তি

দীপ্তি বেড়ে উঠেছেন মামার বাড়িতে। গানে হাতেখড়ি মামার কাছেই। পরে ভর্তি হন ধ্রুব পরিষদ একাডেমিতে। সেখানে শিখেছেন কালিপদ স্যারের কাছে। তিনি মারা যাওয়ার পর দীপ্তির গান শেখা থমকে যায়। তবু অনুশীলন চালিয়ে গেছেন নিয়মিত। সাধারণত বিয়ের পর মেয়েদের নানা বিধি-নিষেধের ঘেরাটোপে বাধা পড়তে হয়। অনেকেরই গান গাওয়ার ইতি ঘটে। দীপ্তির ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। ‘বিয়ের জন্য আমার স্বামী [প্রতাপ সরকার] যেদিন প্রথম আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন, জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার পছন্দ কী? বলেছিলাম গান করা। বিয়ের পর যখন দেখলেন গান একদমই করছি না, নিজে থেকেই বললেন। তখন খুলনার আরেকজন গানের শিক্ষক পরেশ স্যারের কাছে কিছুদিন গান শিখেছিলাম’—বললেন দীপ্তি।

সিলন সুপার সিঙ্গারে অংশগ্রহণের পেছনেও প্রতাপের অবদান। বিজ্ঞাপন দেখে তিনিই দীপ্তিকে রেজিস্ট্রেশন করতে বলেন। দীপ্তি বলেন, ‘আমার খুব একটা আগ্রহ ছিল না। তাঁর আগ্রহ দেখে ভাবলাম, না গেলে ও কষ্ট পাবে। সে কারণেই রেজিস্ট্রেশন করি।’

অডিশনে দীপ্তি গেয়েছিলেন মাহমুদুন্নবীর গাওয়া ‘প্রেমের নাম বেদনা’। পার্থ বড়ুয়া ও তারিন জাহানের সঙ্গে বিচারক হিসেবে ছিলেন মাহমুদুন্নবীর মেয়ে ফাহমিদা নবীও। মেয়ের সামনে বাবার গান গাইতে ভয় লাগেনি? লেগেছিল বলেই জানালেন দীপ্তি, ‘গানটি আমার খুব পছন্দ বলেই গেয়েছিলাম। একে তো দীর্ঘদিন পর এভাবে গাওয়া, তাও আবার মাহমুদুন্নবীর মেয়ের সামনেই—সব মিলিয়ে ভীষণ ভয় করছিল। গান শুনে ফাহমিদা নবী ম্যাডাম কিন্তু প্রশংসাই করেছিলেন। বাবার স্মৃতিচারণাও করেছিলেন। জানান, তাঁর দাদার বাড়িও খুলনায়।’

কাকতালীয়ভাবে আরেকটি গানেও খুলনার সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান মিলে গিয়েছিল। ব্যান্ড রাউন্ডে দীপ্তির ভাগ্যে পড়েছিল ‘অবসকিওর’-এর গান ‘মাঝরাতে চাঁদ যদি আলো না বিলায়’। বলেন, “আগেও শুনেছি ‘অবসকিওর’-এর গান। কিন্তু সেটা যে খুলনার ব্যান্ড, সেদিনই জেনেছিলাম। আগে কখনোই ব্যান্ডের গান গাওয়ার চেষ্টা করিনি। সেটা ছিল সেরা দশের রাউন্ড। মানে ওই রাউন্ড থেকে বাদ পড়ে সেরা দশ প্রতিযোগী নির্ধারিত হবে। সে পর্বের ফলাফল ঘোষণার সময় আমিসহ মোট সাতজনকে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। তার মধ্যে এক এক করে বাকি ছয়জনকেই পরের পর্বের জন্য ডেকে নেওয়া হয়। দাঁড়িয়েছিলাম আমি একাই। তখন ধরেই নিয়েছিলাম আমি বাদ পড়তে যাচ্ছি। প্রায় কেঁদেই দিয়েছিলাম। রেকর্ডিং হচ্ছিল বলে অনেক কষ্টে কান্না চেপে রেখেছিলাম।”

প্রতিযোগিতায় এমন টেনশনে আরো একবার পড়েছিলেন দীপ্তি। দেশের গানের রাউন্ডে বিচারকরা তাঁর গান শুনে খুব একটা খুশি হননি। সে রাউন্ডে ছিলেন শেষ তিনে। সেবারও খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে এর উল্টোটাও যে বেশ কয়েকবার ঘটেছে, তার প্রমাণ দীপ্তির চ্যাম্পিয়ন হওয়া। দীপ্তি বলেন, “সেরা বারো বাছাই পর্বে গেয়েছিলাম নাজমা জামানের ‘তোমারই জীবনে’। গান শেষ করার পর বিচারকরা সবাই দাঁড়িয়ে আমাকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। সেটাই ছিল কোনো প্রতিযোগীর প্রথম পাওয়া স্ট্যান্ডিং ওভেশন। লোকগীতি রাউন্ডে আরো একবার পেয়েছিলাম এই সম্মান, সেদিন গেয়েছিলাম ‘বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না’।”

১৫ হাজার প্রতিযোগীর মাঝে চ্যাম্পিয়ন হলেন, তবু পা মাটিতেই রেখেছেন। বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হয়েছি বলে বদলে যাইনি। যেমন ছিলাম তেমনই আছি। এমনই থাকতে চাই। বাকি জীবনটাও থাকতে চাই গান নিয়ে। চাই ভালো কিছু গান রেখে যেতে, যাতে পরের প্রজন্ম আমাদের দেখে উৎসাহিত হয়। আমরা যেমন অগ্রজ কিংবদন্তি শিল্পীদের দেখে উৎসাহিত হয়েছি। সাবিনা ইয়াসমিন ম্যাম, রুনা লায়লা ম্যাম, কনকচাঁপা ম্যাম, শাহনাজ রহমতউল্লাহ ম্যাম—তাঁদের গান যেভাবে আমরা গাইছি, আমাদের গানগুলো যেন অনুজরা একই রকম আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে গাইতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা