kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লালনকে লালনের গল্প

লালন সাঁইয়ের গান করেই খ্যাতি পেয়েছেন ফরিদা পারভীন। এবারের মৃত্যুবার্ষিকীতে লালনকে স্মরণ করে তিনি শুনিয়েছেন নিজের লালনশিল্পী হয়ে ওঠার গল্প। শুনেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লালনকে লালনের গল্প

১৯৭২ সালের কথা। আমি তখন মাত্র মেট্রিক পাস করেছি, কলেজে ভর্তি হব। থাকি কুষ্টিয়ায়। তখনই প্রথমবারের মতো লালনের গান শিখি। গানটি ছিল ‘সত্য বল সুপথে চল’। আমার গুরু মকসেদ আলী সাঁই গানটি তুলে দিয়েছিলেন। তিনিই মূলত আমাকে লালনের গান করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। তারপর পারিবারিকভাবেও অনুপ্রেরণা পাই। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও গানটি শিখি। মূলত দোল পূর্ণিমাতে লালন সাঁইজির গান নিয়ে একটি মহাসমাবেশকে সামনে রেখেই গানটি শেখা। তা-ও মহাসমাবেশের ১০-১৫ দিন আগে। তুলতে বেশ কিছুদিন লাগে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন স্টেজে গাইলাম তখন দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লেগে গেল। স্বাধীনতার পর পর তো, তাই ঢাকা থেকে বড় বড় মানুষজন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সে অনুষ্ঠান দেখতে যান। গানটি করার পর মানুষের ঢল নেমে যায়। কিন্তু তখন আর কোনো গান শেখা ছিল না বলে গাইতে পারিনি। এরপর আমার গুরু বললেন, ‘তোর ভালো লাগলে গাবি। ভালো না লাগলে আর গাবি না।’ কিন্তু শ্রোতাদের অনুপ্রেরণাতেই আমার ভালো লাগা শুরু হয়ে গেল। কুষ্টিয়ায় সে অনুষ্ঠান করার পর গুরু আমাকে ঢাকায় নিয়ে এলেন। তখন ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে গানটি করি। বাংলাদেশ টেলিভিশনেও গাই। এর পর থেকেই আমি লালনের গানের সংখ্যা বাড়াতে লাগলাম। আর এখন তো বলার অপেক্ষাই রাখে না।

১৯৭৮ সালে ঢাকা রেকর্ড থেকে আমার আটটি গানের একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়। চারটি দেশাত্মবোধক গানের পাশাপাশি সেখানে চারটি গান ছিল লালনের। গানগুলো হলো ‘বাড়ির পাশে আরশিনগর’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘মিলন হবে কত দিনে’ ও ‘পারে লয়ে যাও আমায়’। নাম ছিল সম্ভবত ‘ফরিদা পারভীনের একক রেকর্ড’। গানগুলো মানুষ গ্রহণ করতে শুরু করল। এরপর ডন কম্পানি, সারগাম, দোয়েল প্রডাক্টস থেকেও রেকর্ড বের হতে থাকে। এ পর্যন্ত রেডিওতে দু-আড়াই শ গান করেছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে রেকর্ড বেরিয়েছে প্রায় ১০০টি। ১০০টি গান নিয়ে আমি স্বরলিপিও করছি। এর বাইরে লালনের আরো অনেক গানই আমার জানা।

একটা মায়ের যদি বারোটা সন্তান থাকে তবে বারোটা সন্তানের জন্যই মায়ের মায়া সমান। আমি যখন যে গানটি করি ভালোবাসার সঙ্গে করি। এ পর্যন্ত লালনের যত গান করেছি সবই মানুষ খুব সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। মানুষের ভালোবাসা থেকেই আমার পছন্দের বিষয়টি নির্ধারণ হয়। তেমন গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির পাশে আরশিনগর’, ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘পারে লয়ে যাও আমায়’, ‘মানুষগুরু নিষ্ঠা যার’, ‘কবে সাধুর চরণধূলি’, ‘আশা পূর্ণ হলো না’, ‘সহজ মানুষ’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ প্রভৃতি।

কয়েক বছর আগে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লালনের গান নিয়ে আমার সর্বশেষ অ্যালবাম ‘সত্য বল সুপথে চল’ প্রকাশ করে। এরপর আর অ্যালবাম তৈরি করা হয়নি। চিন্তা করছি, সামনে আবার কিছু গান রেকর্ড করব।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা