kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফুটল বিয়ের ফুল

লুকিয়ে লুকিয়ে বিয়ের বাজার-সদাই সব করে নিয়েছেন, কাউকেই জানতে দিচ্ছিলেন না। তবু খুশির খবর তো আর চাপা থাকে না। ঠিক এক সপ্তাহ পরই সাবিলা নূরের বিয়ে। পালকিতে চড়ে বসার আগে আগে বিয়ে ও সম্পর্কের খুঁটিনাটি অনেক তথ্যই শেয়ার করলেন মীর রাকিব হাসানের কাছে

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটল বিয়ের ফুল

সাবিলা নূর ছবি : আতিক রহমান

অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব খুব ভালো বন্ধু সাবিলার। মিডিয়ার অনেকেই জানেন সেটা। তৌসিফের অনেক দিনের বন্ধু নেহাল। ২০১৬ সালের এক ঈদের দিন নেহালের সঙ্গে দেখা সাবিলার। তৌসিফের বন্ধু, তাই সাবিলারও বন্ধু হয়ে গেলেন। সেই বন্ধুত্ব কখন যে নাম বদলে প্রেম হয়ে গেল, টের পাননি সাবিলা। নেহাল টের পেয়ে প্রস্তাবটা আর সাবিলাকে দেননি। টেকনিক খাটিয়ে প্রস্তাবটা সাবিলার মায়ের কাছে দিলেন। ‘বন্ধুত্বের একটা পর্যায়ে মনে হয়েছে ও আমাকে পছন্দ করে। আমারও মনে হয়েছে, ও আমাকে বোঝে। আমাকে বলার আগে ও আমার মাকে বলেছে। পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আরো কিছুটা সময় যাক। আমি পরিবারের সবার ছোট। বিয়ের জন্য আমার বয়সটা কম বলেই তাঁরা মনে করছিলেন। তিন মাস আগে সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ফাইনালি এই ২৫ অক্টোবর আমার বিয়ে’—বলেই হাসলেন সাবিলা।

চেয়েছিলেন বিয়ের দু-এক দিন আগে ঘটা করে খবরটা জানাবেন। এর আগেই রটে গেল খবর। অগত্যা স্বীকার করে নেন খবরের সত্যতা। কাছের কয়েকজনকে দিয়েছিলেন বিয়ের কার্ড। সেখান থেকেই ফাঁস হয় খবরটা। দুঃখভরা কণ্ঠে সাবিলা বললেন পুরনো কিছু কথা, ‘ছয় মাস আগে একবার নিউজ হয়েছিল, আমার বিয়ে হচ্ছে। তখন আমি পরীক্ষার কারণে কাজ কম করছিলাম। সম্পূর্ণ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের একটি নিউজ হয়েছে। কোনো কারণে আমার ওপর রাগ বা ক্ষোভ আছে কারো। এবার ফেসবুকের লাখখানেক সদস্যের একটি গ্রুপে আমার বিয়ের কার্ড ছড়িয়ে দিয়েছে সেই একই গোষ্ঠী। এটা এক ধরনের হ্যারাসমেন্ট। খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি তো কখনো কারো সঙ্গে এমন কিছু করিনি!’

সাবিলার বরের পুরো নাম নেহাল সুনন্দ তাহের, পেশায় ব্রডকাস্ট প্রকৌশলী। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভিতে আছেন। বাংলাদেশ বেতারের সাবেক উপমহাপরিচালক মরহুম আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। সাবিলার হবু শাশুড়ি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কো-অর্ডিনেটর। নেহালরা এক ভাই ও এক বোন। সেই হিসাবে সাবিলা বাড়ির একমাত্র বউ। ২৫ অক্টোবর রাজধানীর একটি পার্টি সেন্টারে জমকালো আয়োজনে হবে তাঁদের বিয়ে। আগের দিন ২৪ অক্টোবর গায়েহলুদ, ২৭ অক্টোবর বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। ঢাকার আলাদা তিনটি স্থানে অনুষ্ঠানের ভেন্যু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন। ‘ডেকোরেশন, ফটোগ্রাফারসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ও ঠিক করে ফেলেছি। এখন বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র দেওয়া ও টুকটাক ছোটখাটো বিষয় গোছাচ্ছি। ভীষণ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে’—বললেন সাবিলা।

ছেলে হিসেবে নেহাল কেমন? ‘ঠাণ্ডা প্রকৃতির। বন্ধুবৎসল, সবার সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, সে ভালো একজন মানুষ।’

ভক্তদের কেউ সাবিলার অভিনয়ে মুগ্ধ, কেউ আবার রূপে। নেহাল কিসে মুগ্ধ? একটুও না ভেবে বললেন, ‘ও বলে, আমার ব্রেন নাকি তাকে অনেক বেশি মুগ্ধ করে। আমি নাকি তাত্ক্ষণিক বুদ্ধি বের করতে পারি, ব্রেন দ্রুত কাজ করে আমার।’

বিয়ের কেনাকাটা করেছেন ঢাকা ও কলকাতা থেকে। বিয়ের দিন সাজবেন কোথায় সেটাও চূড়ান্ত, তবে মুখ খুলতে চাইলেন না। একটা মজার কথা শোনালেন সাবিলা, মাত্র কয়েক দিন পর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন, কিন্তু এখনো হবু বরকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন। কিছুদিন আগে নেহাল দেখা করতে গিয়েছিলেন সাবিলার দাদির সঙ্গে। দুজনে অনেক প্র্যাকটিস করে গেছেন ‘তুমি’ বলার। কিন্তু মুখ দিয়ে ‘তুই’ই চলে এলো। দাদির কাছে আচ্ছামতো বকা খেতে হয়েছে দুজনকেই।

‘কিছুদিন আগেও আমার সময়টা খারাপ গিয়েছিল। মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। ভুয়া একটা ভিডিও নিয়ে আমি হেনস্তার স্বীকার হলাম। সেই সময় নেহাল  আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। যে রিউমারটা ছড়িয়েছিল, এর পরেও আমি যেন কাজ করি, সেটাই চেয়েছে নেহাল। আমাকে ডিপ্রেশন থেকে বের করতে নেহাল, এমনকি ওর মায়েরও অনেক অবদান।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা