kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এগোবেন কচ্ছপ গতিতে

বিয়ের পর তাঁকে পাওয়াই যাচ্ছিল না—না অভিনয়ে, না নাচে। অবশেষে ফিরলেন শায়লা সাবি। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এগোবেন কচ্ছপ গতিতে

ছবি : গোলাম সাব্বির

বছর তিনেক আগের ঘটনা। মডেলিং, টিভি নাটকে ভীষণ ব্যস্ত। নাম লিখিয়েছেন সিনেমায়ও। ‘আদি’র ট্রেলার প্রকাশের পর চারদিকে ‘সাবি সাবি’ রব। এমন সময় হুট করেই বিয়ে করে ফেললেন। এর পর থেকে শোবিজে একরকম নিখোঁজই ছিলেন। তাঁকে নিয়ে রটেছে নানা গালগল্প। সেসবে কান দেননি সাবি, চলছিলেন নিজের মতোই। এখনো তাঁর মতোই চলছেন। বললেন সেসব দিনের কথা, ‘আমরা বেশ ভালো বন্ধু ছিলাম। বন্ধুত্বের জায়গা থেকেই আমাকে প্রপোজ করে সাব্বির। ওকে তখন সরাসরিই বলেছি—প্রেমট্রেম না, পরিবারের সঙ্গে কথা বলো, রাজি হলে বিয়ে করব। দুই পরিবার রাজি, আমাদেরও বিয়ে হলো।’

অনেকেই বিয়ের পর শোবিজে কাজ করেন। কিন্তু সাবি একদমই অফ হয়ে গিয়েছিলেন। সবাই ভেবেছিলেন, শোবিজকে গুডবাই জানালেন কি না। সাবি বলেন, ‘অনেকেই তখন আমার খবর জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেওয়ার মতো কোনো খবর ছিল না। স্বামী-সংসার নিয়েই ছিল ব্যস্ততা। এমন কোনো শর্ত ছিল না যে আমি অভিনয় করতে পারব না। নিজে থেকেই অফ ছিলাম। চেয়েছিলাম সংসারটা গোছাতে।’

মাঝখানের বিরতিতে অনার্স সম্পন্ন করেছেন, মাও হয়েছেন। ২২ সেপ্টেম্বর মেয়ের এক বছর হলো। মাবরুর রশীদ বান্নাহর নাটক ‘লাফিং হাদিউল’-এ ফিরেছিলেন এ বছরের শুরুতে। নাটকটা করে সাবির মনে হলো, এখনো পুরোপুরি ফিট নন তিনি। আরো কিছু সময় নিয়ে সম্প্রতি ফাইনালি ফিরলেন শ্রাবণী ফেরদৌসের নাটক ‘অন্য রকম ভালোবাসা’য়। এখানে তাঁর সহশিল্পী ইরফান সাজ্জাদ। এর পরই হাতে নিলেন আফরান নিশোর সঙ্গে আলম আশরাফের নাটক ‘বিএফ পাস’। ‘মা হওয়ার পর একটু মুটিয়ে গিয়েছিলাম। বান্নাহ ভাইয়ের নাটকটা করে দেখতে চাইছিলাম, পর্দায় কেমন দেখায় আমাকে। বেশ মোটাই লাগছিল। ওজন কমানোর জন্য খুব বেশি কসরত করেছি তা নয়, তবু শেষ পর্যন্ত একটা শেপে আসতে পেরেছি’—বললেন সাবি।

চলচ্চিত্র নিয়ে আপাতত কোনো ভাবনা নেই। কনফিডেন্স লেভেল আরেকটু বাড়লে বড় পর্দা নিয়ে ভাববেন। বলেন, ‘এখন নিয়মিত কাজ করে যেতে চাই। দর্শকের ভালোবাসা পেলে চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবব। খরগোশের গতিতে নয়, কচ্ছপের গতিতেই এগোব।’

এর মধ্যে খারাপ সময়ও গেছে। সাবি বলেন, ‘জন্মের পর আমার বেবিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল পাঁচ দিন। আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক সময় ছিল সেটি। আর এখন মেয়েকে নিয়ে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো কাটাচ্ছি। ওর দাঁত উঠেছে ছয়টা। কামড় দিতে চায়। খুব দুষ্টুমি করে। মিউজিক শুনলেই নেচে ওঠে—এগুলো ভীষণ উপভোগ করি।’

ইমরান মাহমুদুলের একটি গানে মডেল হবেন, শিগগিরই শুটিংয়ে যাবেন। ইমরানের সঙ্গে মিটিং সেরে বের হয়েই সময় দিয়েছেন রঙের মেলাকে। জানালেন, বান্নাহর দুটি নাটকের শুটিং করবেন এ সপ্তাহেই। দুটিতেই তিনি মোশাররফ করিমের সহশিল্পী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা