kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাসুদ রাসেল রানা

‘কে হবে মাসুদ রানা?’ চ্যানেল আইয়ের আলোচিত এই রিয়ালিটি শোর চ্যাম্পিয়ন দিনাজপুরের রাসেল রানা। তাঁর ‘মাসুদ রানা’ হয়ে ওঠার গল্প শুনেছেন মাহতাব হোসেন, ছবি তুলেছেন অরণ্য জিয়া

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাসুদ রাসেল রানা

সালমান শাহর একনিষ্ঠ ভক্ত রাসেল। টেলিভিশনে প্রয়াত এই অভিনেতার ছবি প্রচারের খবর পেলেই বসে পড়েন। অন্যদের ছবিও দেখেন, তবে সালমানের সব ছবিই তাঁর দেখা, বারবার দেখেন। ‘তাঁর স্টাইল আমাকে মুগ্ধতার জালে জড়িয়ে ফেলেছিল। শৈশবেই মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম, আমিও সালমান শাহর মতো নায়ক হব’, বললেন রাসেল।

সালমান হওয়ার পথে সবে প্রথম ধাপে পা রেখেছেন। ‘কে হবে মাসুদ রানা’ বিজয়ী হয়ে শক্ত একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন। সেটা ধরে এগোতে পারলে হয়তো মনের গোপন ইচ্ছাটা বাস্তবে রূপদান করতে পারবেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের এই তরুণ।

নায়ক হতে হলে কোন পথ ধরে এগোতে হয়, তার কিছুই জানা ছিল না। বীরগঞ্জের গোলাপগঞ্জ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিকে এ গ্রেড পেয়ে এলেন ঢাকায়, ভর্তি হলেন কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভে (কোডা)। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে রাসেলকে জোর করে মঞ্চে উঠিয়ে দিয়েছিলেন সহপাঠীরা, তাঁকে নাচতেই হবে। কিন্তু রাসেল নাচতে জানতেন না। ভাঙা গলায় গান করেছিলেন সেদিন। গানের গলা তাঁর খারাপ না। তবে নাচতে না জানার ব্যর্থতা তাঁকে পীড়া দিয়েছে বেশ। কলেজে পড়ার সময়ই শুরু করলেন র‌্যাম্পে হাঁটা। রাসেলের চলাফেরা আকৃষ্ট করল কোরিওগ্রাফার আসাদকে। “একদিন আসাদ ভাই আমাকে বললেন, ‘তুমি র‌্যাম্পে ভালো করবা, তুমি বুলবুল টুম্পা আপার সঙ্গে যোগাযোগ করো, আমি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।’ টুম্পা আপুর কাছেই হাতে-কলমে হাঁটা শেখা। তাঁর কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ২০১৫ সালে সুযোগ পেলাম ফ্যাশন হাউস অঞ্জনস-এর মডেল হওয়ার”, বললেন রাসেল।

পড়াশোনার পাশাপাশি টুম্পার অধীনে করলেন বিভিন্ন হাউসের ফটোশুট, হাঁটলেন র‌্যাম্পেও। কিন্তু রাসেল তো হতে চান সিনেমার নায়ক! ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে আর জিমে গিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন। অনার্স শেষ হয়ে গেলেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলেন না।

হতাশ হওয়ার পাত্র নন রাসেল, ‘মা-বাবার সঙ্গে শেয়ার করতাম সবই, তাঁরা বরাবরই উৎসাহ দিয়েছেন। তাই হতাশা আমাকে কখনোই পেয়ে বসেনি।’

একদিন ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়ে দেখতে পেলেন ‘কে হবে মাসুদ রানা’র বিজ্ঞাপন। ‘একটু চমকেই উঠেছিলাম। মনে হলো, কোনোভাবে যদি বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে পারি, নিজেকে প্রমাণ করতে পারব। মাসুদ রানা পড়ে পড়ে আমার ভেতরে একটা মাসুদ রানা আগে থেকেই তৈরি ছিল। আমার বাবাও মাসুদ রানার ভীষণ ভক্ত।’

অডিশন রাউন্ডের বিচারক ছিলেন ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ও শবনম ফারিয়া। ‘তাঁরা আমার আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা নিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় শুধু উতরেই যাইনি, আত্মবিশ্বাস বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল। এ আত্মবিশ্বাসটাই আমাকে পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়ন হতে সহায়তা করেছে’, বললেন রাসেল। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল। প্রসঙ্গটা উঠতেই রাসেল আগ বাড়িয়ে বললেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়া ছিল একদম পারফেক্ট।’ 

প্রতিযোগিতার অনেক ঘটনা রাসেলের স্মৃতিতে এখনো রঙিন। দু-একটা উদাহরণও দিলেন, “নাচের একটা পর্বে বিচারক হয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। আমার নাচ দেখে বললেন, ‘তোমার নাচ দেখে আমার আসল মাসুদ রানার [শাকিব খানের আসল নাম] কথাই মনে পড়ল, ওর সঙ্গে তোমার দারুণ মিল।’ বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গেও নাচার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেটাও আমার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে।”

যে ছবির জন্য এই রিয়ালিটি শোর আয়োজন, সেটিতে রাসেল রানার কাজ করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আদৌ ছবিটি হবে কি না, সেটা নিয়েও আছে কানাঘুষা। তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না রাসেল। তিনি নায়ক হতে চেয়েছেন, একটা প্ল্যাটফর্মও পেয়েছেন, সেটাকে কাজে লাগিয়ে ঠিকই সামনে এগিয়ে যাবেন—এটাই তাঁর বিশ্বাস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা