kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্যারিস যাওয়ার অপেক্ষায়

সম্প্রতি ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক নৃত্য কাউন্সিলের সদস্য পদ পেয়েছেন নওগাঁর নৃত্যশিল্পী ও সংগঠক মোরশেদা বেগম শিল্পী। ৪ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ২৩তম সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রও পেয়েছেন হাতে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন পরহিতা চাকমা

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্যারিস যাওয়ার অপেক্ষায়

নৃত্য নিকেতনের সদস্যদের সঙ্গে মোরশেদা বেগম শিল্পী

শিল্পীর নাচে হাতেখড়ি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজন করে জাতীয় শিশু পুরস্কার। সেবারই নৃত্যে জাতীয় পর্যায়ের সেরা দশে জায়গা করে নেন। এর পর থেকে প্রতিবছরই হয়েছেন বিভাগীয় পর্যায়ের সেরা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় নৃত্যচর্চায় পোক্ত করেছেন নিজের আসন, কিন্তু কখনোই ঢাকামুখী হননি। নওগাঁর শিল্পকলা একাডেমিতে নাচ শেখানোর পাশাপাশি চালাচ্ছেন নিজের নাচের স্কুল। “১৯৯৬ সাল থেকে নওগাঁর শিল্পকলা একাডেমিতে নাচ শেখাই। পরের বছর থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও নাচ শেখাতে শুরু করি। আর ১৯৯৯ সালে আমার নাচের স্কুল ‘নৃত্য নিকেতন’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই আমরা নিয়মিত বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠানে, প্রশাসনিক আমন্ত্রণে নৃত্য পরিবেশন করছি”, বললেন শিল্পী।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার পেলেন ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক নৃত্য কাউন্সিলের সদস্য পদ। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন কাউন্সিলের লোকজনই। শিল্পী বলেন, “চার বছর আগে ফেসবুকে ‘নৃত্য নিকেতন’-এর পেজ খুলেছি। ওখানে আমার স্কুলের অনুষ্ঠানের ছবি ও তথ্য নিয়মিত পোস্ট করি। সেসব দেখে ইউনেসকোর পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করা হয়।”

৯ আগস্ট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যালকিস রাফটিস স্বয়ং যোগাযোগ করেন শিল্পীর সঙ্গে, প্যারিসের ইউনেসকো সদর দপ্তর থেকে। জানতে চান, নাচের কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমন্ত্রণ জানালে যোগ দিতে রাজি আছেন কি না। ‘এটা তো আমাদের জন্য ভীষণ গর্বের’, উত্তরে বললেন শিল্পী।

এরপর শুরু হলো আনুষ্ঠানিকতা সারার পালা। শিল্পীর ও প্রতিষ্ঠানের বায়োডাটা পাঠানো হলো। ইউনেসকোর নৃত্য কাউন্সিলের সদস্য পদের কিছু শর্ত আছে, সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাঠাতে হয়েছে।

সদস্য পদ পেলেন ৩০ আগস্ট। “প্রথমে ভেবেছিলাম, শুধু আমাকেই সদস্য করা হবে। পরে দেখলাম ‘নৃত্য নিকেতন’কেও সদস্য করা হয়েছে। এটা আমাকে আরো বেশি আনন্দ দিয়েছে”, বললেন শিল্পী।

৭ মার্চ ‘নৃত্য নিকেতন’-এর ২০ বছর পূর্তি হয়। তবে সেটা এখনো উদ্‌যাপন করা হয়নি। কারণও বললেন শিল্পী, ‘সেদিন তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ উদ্যাপনের একটা বিষয় থাকে। ২০ বছর পূর্তি বলে এবার সময় নিয়ে বড় করে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। ইউনেসকোর সদস্য পদ পাওয়ায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক নৃত্য সম্মেলনেও অংশ নিতে হবে, সেটার একটা সুরাহা হলে তারপর ঘটা করে ২০ বছর উদ্‌যাপন করব।’

সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন শিল্পী ও তাঁর দল। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। শিল্পী বলেন, ‘যেকোনো অনুষ্ঠানে অন্তত ছয়জনের দল নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করি আমরা। সঙ্গে একজন দলনেতা মিলিয়ে সাতজনকে তো যেতেই হবে। দল ছাড়া আমি একা গিয়ে কী করব! কিন্তু এতজনের যাওয়া-আসার খরচ তো নিতান্ত কম নয়। স্কুলের পক্ষে সেই ব্যয় নির্বাহ করা অসম্ভব। সে জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। আশা করছি, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে। নইলে এত কিছুর পরও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা আর হবে না আমাদের।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা